ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি : সভাপতি ইমরান ও সম্পাদক রাসেল

0
ঝিনাইদহ ছাত্রদলের নতুন কমিটি

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা, লোকসমাজ : সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছর পর অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঝিনাইদহ জেলা শাখার নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে (গত ১২ মে ২০২৬) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই নতুন কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ ইমরান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন শাহরিয়ার রাসেল।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান শাহেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার মাহমুদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান।

কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের আগামী ৩০  দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

নতুন এই কমিটি ঘোষণার পর ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নবনির্বাচিত নেতারা জেলা ছাত্রদলকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ৬ জুন সমেনুজ্জামান সমেনকে সভাপতি ও মুশফিকুর রহমান মানিককে সাধারণ সম্পাদক করে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। তাদের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সফলতার মুখ দেখে। ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করে জেলায় একটি মজবুদ ভিতের উপর দাড় করায়।

হাসপাতালে ভর্তির ৪৮ ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে ৪০ শতাংশ শিশু

0
হামের উপসর্গ নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সন্তান নূর নাহারকে ভর্তি করিয়েছেন মা স্বর্ণা আক্তার। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।। ছবি: প্রথম আলো

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর হার এবং ধরণ পর্যালোচনা করে জনস্বাস্থ্যবিদদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে প্রাপ্ত ৬০ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪০ শতাংশ। এমনকি ভর্তির দিনেই মারা গেছে ৫টি শিশু।

উদ্বেগজনক তথ্য এই যে, আগে প্রচলিত ধারণা ছিল খুব অল্প বয়সী শিশুরা মায়ের গর্ভ থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় বলে তারা হামে আক্রান্ত হয় না। কিন্তু এবারের প্রাদুর্ভাব সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। মৃত ৬০ শিশুর মধ্যে ২৯ জনেরই বয়স তিন থেকে আট মাসের মধ্যে, যারা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী টিকার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি ১৯ দিন ও ২৪ দিনের নবজাতকেরও হামে আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। বাকি ৩১ শিশুর বয়স ৯ মাস থেকে ৯ বছরের মধ্যে হলেও, তারা আদৌ টিকা নিয়েছিল কি না সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃত ৬০ শিশুর মধ্যে ১৮ জন ঢাকা জেলার এবং ৩০ জন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকার হাসপাতালে এসে প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৪৮টিই ঘটেছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ এই তথ্য ঘাটতিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত শিশুদের অন্তত ৩১ জনের টিকা পাওয়ার কথা ছিল। তারা টিকা নিয়েছিল কি না বা পূর্ণ ডোজ পেয়েছিল কি না, তা জানা না গেলে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা অসম্ভব। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ৪২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করছেন।

ব্যবসায়ী আনিসুর হত্যার প্রতিবাদে নওয়াপাড়া নৌবন্দরে হরতাল চলছে

0
নওয়াপাড়া নৌবন্দরে হরতাল
যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিসুর হত্যার প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর), লোকসমাজ :
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌবন্দরে ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যার প্রতিবাদে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

হরতালের কারণে সকাল থেকেই নৌবন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বার্জ ও লাইটার জাহাজে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি যশোর-খুলনা মহাসড়কে নওয়াপাড়া হয়ে যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং বন্দরে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানানো হয়।

গত ৬ মে নওয়াপাড়ার সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিক আনিসুর রহমানকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘আনিস ট্রেড ভ্যালি’র সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক সন্ত্রাসীকে নিজের বিপণিবিতানে দোকান ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি হামলার শিকার হন।

হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূল আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় গত সোমবার রাতে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে হরতালের ডাক দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সার ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি সরদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন, নওয়াপাড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল হোসেন, ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মশিয়ার রহমান মশি, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্যা এবং উপজেলা জামায়াতের আমির সরদার শরীফ হোসেনসহ অন্যরা।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মনির হোসেন নামে এক যুবককে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরীর ডাবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকার ‘স্বপ্ননীড়’ নামের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অভয়নগর থানায় আনা হয়।

আটক মনির হোসেন অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চায়না বাজার এলাকার মৃত আহমদ আলীর ছেলে। তিনি নওয়াপাড়া পীরবাড়িতে খাদেম হিসেবে কাজ করতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “নওয়াপাড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডে মনির হোসেন নামে সন্দেহভাজন এক যুবককে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে পীরবাড়ি মসজিদের সামনে আনিসুর রহমান তার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন ‘আনিস ট্রেড ভ্যালি’র ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পীরবাড়ির শাহ মো. জোনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ তার হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিসুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে শাহ মো. মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত আনিসুর রহমান নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন।

যুদ্ধে বিপর্যস্ত লেবাননের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্কুলছুট লাখো শিশু

0
ইসরায়েল যুদ্ধে লেবাননে শিক্ষা সংকট
লোকসমাজ গ্রাফিক্স এআই সহায়তায়

লোকসমাজ ডেস্ক : ইসরায়েলের যুদ্ধ লেবাননের লাখো শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে বাস্তুচ্যুত করেছে। এতে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে গভীর সংকটে পড়েছে। অনলাইন শিক্ষা ও বিকল্প নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী এখনও এই ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। হারানো শিক্ষাজীবন পুষিয়ে নিতে এখন বিজ্ঞান ও গণিতের মতো বিষয়ে জোর দেওয়া হলেও নাগরিক শিক্ষা বা সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে।
বহু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের দেশ লেবাননের জন্য এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শিক্ষাবিদ ও গবেষক কার্লোস নাফাহ আল জাজিরাকে বলেন, “একটি শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নাগরিক তৈরি করা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্বীকার করতে চাই না যে, আমরা একটি পুরো প্রজন্ম হারিয়ে ফেলেছি।”
২০২৬ সালের ১২ মে প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের যুদ্ধ লেবাননের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ‘হারানো প্রজন্ম’ তৈরি করছে। এতে সামাজিক বৈষম্য বাড়ছে এবং জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বহু স্কুল ধ্বংস করেছে এবং কয়েক লাখ শিক্ষার্থীকে বাস্তুচ্যুত করেছে। শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফলে এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত লেবাননের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়েছে।

ইসরায়েল যুদ্ধ লেবাননে তৈরি হচ্ছে হারানো প্রজন্ম
লেবাননের বৈরুতে, বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলের আঙিনায় শিশুরা খেলছে – রয়টার্স

অস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা
গত ২ মার্চ ইসরায়েল দ্বিতীয়বারের মতো লেবাননে যুদ্ধ তীব্র করে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ১০ হাজারের বেশি হামলা চালানোর পর হিজবুল্লাহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলায় লেবাননে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ স্কুলগামী শিশু রয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, তাদের পড়াশোনার স্কুলগুলোও এখন অনেক ক্ষেত্রে অচল বা অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ইউনেস্কো জানিয়েছে, লেবাননের ৩৩৯টি স্কুল সরাসরি যুদ্ধাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আরও শত শত স্কুল বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হওয়ায় প্রায় আড়াই লাখ শিশুর শিক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে। আরও ১০০টি স্কুল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকায় সেগুলোও শিগগিরই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুলের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষার দিকে ঝুঁকেছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। ২০১৯ সাল থেকে একের পর এক সংকটের কারণে লেবাননের শিক্ষাবর্ষ প্রায় প্রতি বছরই বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আসফারি ইনস্টিটিউট ফর সিভিল সোসাইটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপের জ্যেষ্ঠ গবেষক তালা আবদুলগানি আল জাজিরাকে বলেন, “২০১৯ সালের অক্টোবর বিপ্লব, করোনা মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট এবং এখনকার যুদ্ধ—সব মিলিয়ে হাইব্রিড শিক্ষা এখন লেবাননের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সীমিত ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সংকট, ডিভাইসের অভাব এবং অনিশ্চিত জীবনযাপনের কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউনেস্কো যৌথভাবে বিভিন্ন অস্থায়ী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি স্কুলে একাধিক শিফট চালু করা, অস্থায়ী শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
ইউনেস্কোর জ্যেষ্ঠ শিক্ষা কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ মাইসুন চেহাব বলেন, “শিশুরা তাদের স্বাভাবিক জীবন, বন্ধু, রুটিন ও স্থিতিশীলতা হারাচ্ছে। তারা ভয়, উদ্বেগ, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং সহিংসতার মানসিক আঘাত বহন করছে।”
বাড়ছে বৈষম্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সহায়তার চেষ্টা করছে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
চেহাব বলেন, “দারিদ্র্য ভয়াবহভাবে বেড়েছে। পরিবারগুলো এখন যাতায়াত, খাবার, গরমের ব্যবস্থা নাকি সন্তানের ইন্টারনেট সংযোগ—কোনটি বেছে নেবে, সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।”
তার মতে, এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঘটনা।
যুদ্ধ শুরুর আগেই লেবাননের শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অর্থনৈতিক সংকটে দেশটির মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রায় ভেঙে পড়েছে। লেবানিজ সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, আয় বৈষম্যের সূচক গিনি সহগ ২০১১ সালের ০.৩২ থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে ০.৬১ হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বৈষম্যপূর্ণ দেশগুলোর শীর্ষ ১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে লেবানন।
আবদুলগানি বলেন, “যুদ্ধের প্রভাব দেশের সব অঞ্চলে সমান নয়। এখন ভৌগোলিক অবস্থান ও আর্থসামাজিক অবস্থাই নির্ধারণ করছে কোনো শিশু শিক্ষার সুযোগ পাবে কি না।”
একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক সমাজও ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশা তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে।
আবদুলগানি বলেন, “আমরা এমন এক অসম শিক্ষা ব্যবস্থার জন্ম দেখছি, যেখানে কিছু শিশু নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে, আর অন্যরা দীর্ঘদিন শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে। তারা মানসিক আঘাত, শিক্ষার ক্ষতি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রয়েছে।”
লেবাননের সরকারি শিক্ষকরা বহু বছর ধরে ন্যায্য বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের বেতন প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে অনেকে অতিরিক্ত আয়ের জন্য টিউশনি বা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
চেহাব বলেন, “শিক্ষকরা যে কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। কিন্তু তারা ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছেন। ২০১৯ সালের পর থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষক দেশ ছেড়েছেন অথবা পেশা পরিবর্তন করেছেন।”
যুদ্ধে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে বহু শিক্ষকও রয়েছেন। অর্থনৈতিক দুর্ভোগের পাশাপাশি তাদের জীবনের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

চেহাব বলেন, “একটি শিক্ষা ব্যবস্থা হয়তো একটি সংকট সামাল দিতে পারে। কিন্তু লেবাননে বছরের পর বছর ধরে একের পর এক সংকট আঘাত হেনে চলেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী রিমা কারামি দক্ষ হলেও অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।
আবদুলগানি সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত ও কার্যকর জাতীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে এবং পুরো একটি প্রজন্ম আরও পিছিয়ে পড়বে।”

ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী যশোরের প্রাচীন দেওয়ানী আদালত ভবন

0

শিকদার খালিদ, লোকসমাজ :
দেড়শ বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানী আদালত ভবন। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ভবন কেবল একটি আদালত ভবন নয়, বরং যশোর অঞ্চলের প্রশাসনিক, বিচারিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
ঐতিহাসিক সূত্র মতে, উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ প্রশাসন যশোরে বিচারিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে প্রায় ১৬ দশমিক ৩৪ শতক জমির ওপর এই দেওয়ানী আদালত ভবন নির্মাণ করে। সে সময়কার ইউরোপীয় ধাঁচের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণে নির্মিত ভবনটিতে ছিল প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা। ভবনের নিচে ১৬টি ভেন্টিলেটর এবং উঁচু দেয়ালজুড়ে প্রশস্ত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকায় গরমকালেও ভবনের অভ্যন্তর ছিল তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক। চারপাশজুড়ে প্রশস্ত বারান্দা ভবনটিকে দিয়েছে আলাদা নান্দনিকতা।
স্থাপত্যবিদদের মতে, ভবনটির নির্মাণশৈলীতে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আদালত স্থাপনার বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মোটা দেয়াল, উঁচু ছাদ, খিলানাকৃতির দরজা ও দীর্ঘ বারান্দা ভবনটিকে শুধু শৈল্পিক নয়, পরিবেশবান্ধব স্থাপনাতেও পরিণত করেছে।
দীর্ঘ সময় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির অবস্থা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনাও হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। একপর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ভবনটিতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর থেকেই যশোরের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা ভবনটি রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা যশোর কালেক্টরেট ভবন, জেলা পরিষদ ভবন ও প্রাচীন দেওয়ানী আদালত ভবনকে জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের দাবি তোলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যশোরের মতো প্রাচীন জনপদের ইতিহাস সংরক্ষণে এসব ভবনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এসব স্থাপনা শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং একটি সময়ের প্রশাসনিক সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা ও নগর বিকাশের সাক্ষ্য বহন করে।
ইতোমধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ঐতিহ্যবাহী এই দেওয়ানী আদালত ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে বহুদিন পর আবারও ঐতিহাসিক এই ভবনে বিচারিক কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যশোরবাসীর প্রত্যাশা, আধুনিকতার পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে এই উদ্যোগ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যশোরের বিচারিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের সাক্ষ্য হিসেবে টিকে থাকবে দেড়শ বছরের পুরনো এই দেওয়ানী আদালত ভবন।

যশোরে আলোচিত লাল প্রাইভেটকার নিয়ে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

0
যশোরে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ :
যশোরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আলোচিত লাল রঙের একটি প্রাইভেটকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটির দাবিদার হীরা খাতুনকে মালিকানার প্রমাণপত্র ও আদালতের আদেশনামা আনতে বলা হলেও তিনি তা না এনে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, “হীরা খাতুন নামে এক নারী গাড়িটি নিজের বলে দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাকে আদালতের মাধ্যমে আদেশনামা নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন।”

সম্প্রতি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাল রঙের ওই প্রাইভেটকারটি নিয়ে যশোর শহরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, হীরা খাতুন মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের আলী হোসেন ওরফে আলীর স্ত্রী এবং জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তার স্বামীর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতিসহ একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

গত ১১ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর হাইব্রিড গাড়ি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) আটক করে অবৈধভাবে হেফাজতে রেখেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, “গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হয়। পরে হীরা খাতুন এসে গাড়িটি নিজের দাবি করেন। তখন তাকে মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন এবং আদালতের নির্দেশনা নিয়ে আসতে বলা হয়। আদালতের আদেশ পেলেই প্রকৃত মালিকের কাছে গাড়ি হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আদালতের আদেশনামা না এনে পুলিশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে যশোর পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

পুলিশ ও একজন মন্ত্রীকে জড়িয়ে হীরা খাতুন যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশ সুপার ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান।

যশোরে যুবলীগ নেতা চিমাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে জিডি

0
যশোরে যুবলীগ নেতা হাদিউজ্জামান চিমা

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ :
যশোরে যুবলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য হাদিউজ্জামান চিমাসহ চারজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শরীফ আল আমিন শুভ নামে এক ব্যক্তি। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত সোমবার তিনি এ জিডি করেন।

অভিযুক্ত হাদিউজ্জামান চিমা উপশহর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। অন্য অভিযুক্তরা হলেন— চিমার বোন সুমাইয়া পুতুল, পাগলাদাহ গ্রামের মোয়াজ্জেমের ছেলে রাশেদ এবং শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকার পাপ্পু।

শহরতলীর বিরামপুর এলাকার ফেরদৌস হোসেনের ছেলে শরীফ আল আমিন শুভ জিডিতে উল্লেখ করেছেন, সুমাইয়া পুতুল, হাদিউজ্জামান চিমা, রাশেদ ও পাপ্পুসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

জিডিতে আরও বলা হয়, গত ১০ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বিরামপুর গাবতলা মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হাদিউজ্জামান চিমাসহ অন্যরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যশোরে গাঁজা ও পিস্তলসহ যুবক আটক

0
যশোরে গাঁজা ও পিস্তলসহ যুবক আটক

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : 
যশোরে গাঁজা, পিস্তল ও গুলিসহ রবিউল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে শহরতলীর বিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক রবিউল ইসলাম বিরামপুর এলাকার তাইজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিজেকে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরামপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে রবিউল ইসলামকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান জানান, আটক যুবকের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। অপরাধী কাউকেই প্রশ্রয় দেবে না যুবদল।”

অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিসুর হত্যাকাণ্ডে সন্দিগ্ধ আটক, আজ নওয়াপাড়ায় হরতাল

0
অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিসুর হত্যার প্রতিবাদে মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর): যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মনির হোসেন নামে এক যুবককে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম মহানগরীর ডাবলমুরিং থানাধীন হাজিপাড়া এলাকার মাঠসংলগ্ন স্বপ্ননীড় নামে একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অভয়নগর থানায় আনা হয়।
অপরদিকে, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে আজ বুধবার নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

অভয়নগরের ব্যবসায়ী আনিসুর হত্যাকাণ্ডে আটক সন্দিগ্ধআটক মনির হোসেন অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চায়না বাজার এলাকার মৃত আহমদ আলীর ছেলে। তিনি নওয়াপাড়া পীরবাড়িতে খাদেম হিসেবে কাজ করতেন।
মঙ্গলবার দুপুরে অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “নওয়াপাড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডে মনির হোসেন নামে সন্দেহভাজন এক যুবককে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
জানা গেছে, গত বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে পীরবাড়ি মসজিদের সামনে আনিসুর রহমান তার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন ‘আনিস ট্রেড ভ্যালি’র ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পীরবাড়ির শাহ মো. জোনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ ও তার সহযোগী নাসিরসহ ২/৩ জন অস্ত্রধারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।
একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ তার কাছে থাকা একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিসুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত পৌনে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে শাহ মো. মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত আনিসুর রহমান নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পার হলেও মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার রাতে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে নওয়াপাড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সার ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি সরদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন, নওয়াপাড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা মশিয়ার রহমান মশি, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্যা এবং জামায়াতের উপজেলা আমির সরদার শরীফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট ও দোকানপাট

0
রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি; আলোকসজ্জায় থাকছে নিষেধাজ্ঞা ।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোর সময় বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মলগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

তবে সময় বাড়ানো হলেও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্ধিত সময়ে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মূলত ঈদের কেনাকাটায় সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

By using this site, you agree to our Privacy Policy.
View more
Cookies settings
Accept
Privacy & Cookie policy
Privacy & Cookies policy
Cookie name Active
Terms of Use We welcome readers and visitors to our “Terms of Use’ of Loksamaj and its associated websites, its contents, services and applications. Individuals may access the content in several ways using multiple channels including but not limited to www, digital, social platforms, SMS and RSS feeds using multiple devices including but not limited to computers, mobile phones and PDAs. By using our content and services, that is , by reading or using any content, picture or information whatsoever, the reader/visitor accepts our “Terms of Use” including Loksamaj’s Privacy Policy. If anyone has any objection or reservation to any clause in this “Terms of Use” or the Privacy Policy, she or he may raise the issue with Loksamaj by sending an email at loksamaj@gmail.com. However, Loksamaj reserves all right to reject or accept any such objection or reservation. All users of Loksamaj are required to abide by this “Terms of Use”. Failure to comply with the terms may lead to, among others, suspension of account or prohibition from access to the website. By entering the website of Loksamaj or using applications of Loksamaj, readers/visitors are deemed to have received services from Loksamaj. These services include text, audio, video, images, software etc. Intellectual Property Rights Loksamaj’s content, logos, copyright, trademarks, patents, images, text, graphics, logos, domain names, audio, video and other related intellectual property rights or other features of Loksamaj brand and name belong to Loksamaj or to its licensors. Users cannot claim any rights in and/or our licensor’s intellectual property whether for commercial or non-commercial use. Users are also prevented from making any derivative work from the content of Loksamaj. Infringement of copyright or any other intellectual property of Loksamaj may be sent at loksamaj@gmail.com. Your use of our services Site readers/visitors are required to use Loksamaj services only for lawful means and for read-only purposes. The audio and visual elements of the website or application can only be listened to and viewed and nothing beyond. Loksamaj encourages its readers to share its content(s) in their social media profile, groups and related communities. However, the contents of our services must not be shared with anyone or with any other digital platforms with any modification or alteration. Readers/Visitors are prohibited from hacking the website, or trying to get around our content security setup. The users must use the services only for non-commercial purposes, regardless of whether the person or entity is a commercial entity or not. We grant our users only a license to access and use our services and intellectual property rights subject to the following usage restrictions: users may use available services for personal, private and non-commercial purposes only, the users must not exploit, sell or use any content appearing on our services for any kind of commercial purposes (this does not apply to any user content posted by an individual and in which a visitor/user retains ownership rights), the users must not use provocative or offensive language, pictures or comments targeting the contents of Loksamaj. Taking down contents Loksamaj can take down contents at any time at its sole discretion from its website or application. Readers/Visitors cannot refuse to remove content, games or apps from their respective devices if asked by Loksamaj. This might happen when Loksamaj or its services are taken down. Unauthorized and prohibited activities The user is specifically required not to associate Loksamaj with any political party, racism, sexism or otherwise damage its reputation. The user is also prohibited from defaming Loksamaj or defaming any other person or entity, or commenting on any court proceedings that may amount to a contempt of court. Harassing, bullying or upsetting the people or any other user is strongly prohibited. The user must not post or upload any image or comment which is offensive or obscure or immoral. Personal attack by way of comment or image is likewise prohibited.. Protection of Users Device Readers/Visitors are required to take their own precautions and protections in this respect as Loksamaj does not accept any responsibility for any attacks by virus or malware or any other contamination or by anything which has destructive properties. Loksamaj strictly does not hold any responsibility for infection of virus or contamination of your machine or device through your access to any third-party contents. Third party contents may include, but is not limited to Google ads. Any content which is not generated by Loksamaj itself is a third-party content, regardless of whether the content appears on the website of Loksamaj or not. Prohibition on sharing mark, contents, images, etc. Loksamaj prohibits the users from sharing marks, contents or images for whatever purpose, be it commercial or not. When sharing of contents, images or marks are permitted or authorized, then such sharing must be done by attributing the credit and name to Loksamaj in such manner that the attribution is clearly visible when the image or content is generated by Loksamaj. All users are prohibited from taking credit from the contents or images shared, published or generated by Loksamaj. Redirecting to other Websites Loksamaj will not accept any kind of liability if the user is redirected to any other website including unwanted websites from the Loksamaj. Third Party Contents Loksamaj does not bear any responsibility or liability whatsoever for any third-party contents. Third party contents include such contents which are not generated or produced by Loksamaj. It includes contents, images and texts which are uploaded or displayed by Loksamaj but which are created or generated or produced by someone or entity other than Loksamaj. Privacy Policy The entire Privacy Policy of Loksamaj is an integral part of the “Terms of Use”. All clauses in the Privacy Policy are hereby incorporated by reference, except for the clauses which are similar or have the same meaning. Advertisement The advertisements included in the Loksamaj website and mobile apps, are by third-party companies, which may collect information about users for which Loksamaj shall bear no responsibility that may arise as a result of collecting and/or sharing the information with any other party. Loksamaj shall not accept any liability that may arise as a result of any content of any advertisement that may appear on the Loksamaj website. Modification of Terms of Use Loksamaj reserves the right to amend, modify, alter, or omit any terms in the “Terms of Use” at any time but the changed policy shall be immediately uploaded or updated in the website. By continuing to use our services after any changes are made, you accept those changes and will be bound by them. We encourage readers/visitors to periodically check back and review this policy to always know what information we collect, how we use it, and with whom we share it. Use of Cookies Loksamaj does not collect any user data based on cookies, nor does it store any sort of user information that may be personal to the user. If a third party associated with the Loksamaj website collects user cookies upon your visit to the Loksamaj website, Loksamaj does not control the use of these cookies. Therefore, visitors/users should check the relevant third-party websites. When users register with Loksamaj, personal identity information is collected for authentication. The information Loksamaj collects is not shared with any third party. However, Loksamaj may use the information to send messages, information from Loksamaj or any of its associated companies. Communication by Loksamaj From time to time, Loksamaj may contact its users via e-mail, phone or SMS for invitation for participation in events, campaigns/competitions, feedback and surveys etc. organized by Loksamaj. User Generated Content Users of Loksamaj may submit post and/or upload content (including comments, pictures, videos). In posting content, users confirm that they are the owner or have consent from the owner to post the content and that the content is not obscene, harassing, deceptive, threatening, libelous, invasive of another’s privacy, offensive, fraudulent, defamatory of any person or illegal. Loksamaj does not endorse any user generated content nor does it guarantee the accuracy or authority of any user generated content. Furthermore, while using the Loksamaj website readers/visitors agree not to (i) post content which is deliberately intended to upset or harm other users; (ii) use the Loksamaj website to post or otherwise transmit content that victimizes, harasses, degrades, or intimidates an individual or group of individuals on the basis of any impermissible classification, including, without limitation, religion, gender, sexual orientation, race, color, creed, ethnicity, national origin, citizenship, age, marital status, military status or disability; (iii) post or otherwise transmit any content that contains software viruses or any other computer code, files, or programs designed to interrupt, destroy, or limit the functionality of the Loksamaj website or any computer software or hardware or telecommunications equipment; (iv) upload or otherwise transmit any content, or take any other actions with respect to use of the Loksamaj website, that would constitute, or would otherwise encourage, criminal conduct or give rise to civil liability. Loksamaj reserves the right to remove any user’s content, suspend or discontinue one’s opportunity to submit post and/or upload content, at any time and for any reason at its sole discretion without any notice and without further recourse to users. Loksamaj usually filters the content of the website and in the event that any offensive, unpleasant or distasteful comment and/or picture is published regardless of the filtration process Loksamaj shall not accept any liability arising out of it. In the event that users post any comment that may be regarded offensive, degrading, inappropriate or objectionable by any reasonable person or Loksamaj, Loksamaj may use personal information of the concerned to prevent such behavior. Accessing the website from outside Bangladesh All personal information submitted by users outside Bangladesh will be processed in accordance with these “Terms of Use” and Privacy Policy. Disclaimer Loksamaj aims to provide its users with the best service. However, it does not and cannot promise that all the information provided within its service including multimedia content like images & videos will always be accurate. The contents provided by Loksamaj are for information purposes only and do not constitute advice. All Loksamaj’s services are provided without any warranties or guarantees. Posting and Viewing Contents Readers/visitors acknowledge and agree that when they post content on Loksamaj website or view content provided by others, they are doing so at their own discretion and risk, including any reliance they place on the accuracy, completeness, of that content. Some of the information provided by Loksamaj is supplied by Third Parties. Loksamaj has no control over third party content and Loksamaj is unable to guarantee the accuracy of such third-party content. Before relying on any information, whether it is from us or from any third party partner, Loksamaj advises you to verify the accuracy of such information. Interruption, cross-connection or unavailability of website or application Whilst Loksamaj will do its best to ensure that its service is fully operational at all times, it is not responsible for and shall not be liable to users for any problems or temporary interruptions in using our services arising from factors outside of its control (e.g. technical problems from traffic congestion on the internet) or for any problems arising from participating in or from downloading third party content. To the extent permissible by law, Loksamaj is not responsible for any loss or damage resulting from use of its services or from any content posted in its website. Governing Law The laws that govern “Terms of Use” of Loksamaj and its relationship with the user is the laws of Bangladesh and any dispute regarding the use, retention, disclosure, leakage or dissemination of the information or date can only be raised in arbitration in accordance with the Arbitration Act, 2001. The place of arbitration shall be Dhaka, Bangladesh and the arbitral tribunal shall consist of three members. The courts of Bangladesh shall have exclusive jurisdiction on this matter. The entire “Terms of Use” shall apply to all who enter the website, receive service or use an application from Loksamaj regardless of their nationality, location, residence or place of business. Opt-out If, at any time, the users prefer not to receive email containing marketing information from us, then the user can simply follow the unsubscribe options at the bottom of each email. If the users no longer wish to have a registered account, the user may terminate the account by sending an email to loksamaj@gmail.com.
Save settings
Cookies settings