হাসপাতালে ভর্তির ৪৮ ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে ৪০ শতাংশ শিশু

0
হামের উপসর্গ নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সন্তান নূর নাহারকে ভর্তি করিয়েছেন মা স্বর্ণা আক্তার। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।। ছবি: প্রথম আলো

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর হার এবং ধরণ পর্যালোচনা করে জনস্বাস্থ্যবিদদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে প্রাপ্ত ৬০ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪০ শতাংশ। এমনকি ভর্তির দিনেই মারা গেছে ৫টি শিশু।

উদ্বেগজনক তথ্য এই যে, আগে প্রচলিত ধারণা ছিল খুব অল্প বয়সী শিশুরা মায়ের গর্ভ থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় বলে তারা হামে আক্রান্ত হয় না। কিন্তু এবারের প্রাদুর্ভাব সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। মৃত ৬০ শিশুর মধ্যে ২৯ জনেরই বয়স তিন থেকে আট মাসের মধ্যে, যারা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী টিকার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি ১৯ দিন ও ২৪ দিনের নবজাতকেরও হামে আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। বাকি ৩১ শিশুর বয়স ৯ মাস থেকে ৯ বছরের মধ্যে হলেও, তারা আদৌ টিকা নিয়েছিল কি না সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃত ৬০ শিশুর মধ্যে ১৮ জন ঢাকা জেলার এবং ৩০ জন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকার হাসপাতালে এসে প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৪৮টিই ঘটেছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ এই তথ্য ঘাটতিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত শিশুদের অন্তত ৩১ জনের টিকা পাওয়ার কথা ছিল। তারা টিকা নিয়েছিল কি না বা পূর্ণ ডোজ পেয়েছিল কি না, তা জানা না গেলে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা অসম্ভব। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ৪২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করছেন।