যশোরে আলোচিত লাল প্রাইভেটকার নিয়ে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

সম্প্রতি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাল রঙের ওই প্রাইভেটকারটি নিয়ে যশোর শহরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

0
যশোরে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ :
যশোরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আলোচিত লাল রঙের একটি প্রাইভেটকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটির দাবিদার হীরা খাতুনকে মালিকানার প্রমাণপত্র ও আদালতের আদেশনামা আনতে বলা হলেও তিনি তা না এনে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, “হীরা খাতুন নামে এক নারী গাড়িটি নিজের বলে দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাকে আদালতের মাধ্যমে আদেশনামা নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন।”

সম্প্রতি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাল রঙের ওই প্রাইভেটকারটি নিয়ে যশোর শহরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, হীরা খাতুন মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের আলী হোসেন ওরফে আলীর স্ত্রী এবং জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তার স্বামীর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতিসহ একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

গত ১১ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর হাইব্রিড গাড়ি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) আটক করে অবৈধভাবে হেফাজতে রেখেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, “গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হয়। পরে হীরা খাতুন এসে গাড়িটি নিজের দাবি করেন। তখন তাকে মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন এবং আদালতের নির্দেশনা নিয়ে আসতে বলা হয়। আদালতের আদেশ পেলেই প্রকৃত মালিকের কাছে গাড়ি হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আদালতের আদেশনামা না এনে পুলিশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে যশোর পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

পুলিশ ও একজন মন্ত্রীকে জড়িয়ে হীরা খাতুন যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশ সুপার ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান।