খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম দিনে রান পাহাড় গড়ল স্বাগতিকরা

0
রঙ-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের উদ্বোধন করছেন বিসিবি পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, মো. শফিকুল আলম তুহিন, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতসহ অতিথিবৃন্দ ও দুই দলের অধিনায়ক।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ অনলাইন ডেক্স ॥ জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম দিনে বরিশালের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে স্বাগতিক খুলনা বিভাগ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে (KDS) জাঁকজমকপূর্ণভাবে পর্দা উঠেছে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (NCL 2026-27)।

প্রথম রাউন্ডের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক খুলনা বিভাগ মুখোমুখি হয়েছে বরিশাল বিভাগের। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে রয়েছে খুলনা বিভাগ। কালাম সিদ্দিকী আলীন এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে দিনশেষে ৫ উইকেট হারিয়ে খুলনার সংগ্রহ ৩২৮ রান।

আজ শনিবার সকাল ৯টায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত এবং মো. শফিকুল আলম তুহিন যৌথভাবে এই খেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলামসহ ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল মোট সাতটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। আগামী ১৭ নভেম্বর ফাইনাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে।

শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন আয়োজক ও ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।। ছবি: সংগৃহীত

আজ সকালে মেঘমুক্ত আকাশে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বরিশাল বিভাগের অধিনায়ক। স্বাগতিক কন্ডিশনে শুরুতে পেসারদের সুইংকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য ছিল বরিশালের। ইনিংসের শুরুতেই বরিশালের পেসার রুয়েল মিয়া প্রথম আঘাত হানেন। খুলনার ওপেনার আনামুল হক বিজয় মাত্র ১৬ রানে তানভীরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন তরুণ ব্যাটার আজিজুল হাকিম তামিম। তিনি উইকেটে থিতু হওয়ার আভাস দিলেও ৩১ রান করে শহীদুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যান।

৫৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের হাল ধরেন তিন নম্বরে নামা কালাম সিদ্দিকী আলীন এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এই দুই ব্যাটার বরিশাল বিভাগের বোলারদের সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে খেলেন। দুজনেই সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
খুলনায় ফিরছে ক্রিকেটের উন্মাদনা এনসিএলের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ডি-থ্রি ম্যাচ আয়োজনেরও সম্ভাবনা

 

অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ১২টি চারের সাহায্যে ১২৬ বলে ৮৯ রান করে রুয়েল মিয়ার শিকার হন। অন্যদিকে, কালাম সিদ্দিকী আলীন ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের এক অনন্য নজির গড়েন। ২৬৭ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৬৮ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৯২ রান করে ইফতেখার হোসেন ইফতির বলে আউট হন। এই দুজনের দুর্দান্ত ১৫০ রানের পার্টনারশিপই খুলনার বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।

দুই থিতু ব্যাটার দ্রুত বিদায় নিলে শেষ সেশনে কিছুটা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে বরিশাল। সহ-অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান মাঠে নেমে দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন। তিনি ৫৪ বলে ৪৭ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন (৭টি চার ও ১টি ছক্কা)। দিনের খেলার একদম শেষ মুহূর্তে সোহান রুয়েল মিয়ার ৩য় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোরকে ৩০০ পার করান আফিফ হোসেন ধ্রুব। তিনি ৮৫ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত আছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৩টি চার ও ১টি বিশাল ছক্কার মার। দিনশেষে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন ছক্কা মেরে খাতা খোলা সামিউন বসির রাতুল (৬*)।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (NCL 2026-27) উদ্বোধন।। ছবি: সংগৃহীত

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (প্রথম দিন শেষে):

খুলনা বিভাগ (১ম ইনিংস): ৩২৮/৫ (৮৬ ওভার, ৩ ৯০ মিনিট); কালাম সিদ্দিকী আলীন ৯২, মোহাম্মদ মিঠুন ৮৯, নুরুল হাসান ৪৭, আফিফ হোসেন ৪৪*; রুয়েল মিয়া ১৭-১-৩৮-৩, শহীদুল ইসলাম ১২-১-৩৯-১, ইফতেখার হোসেন ২২/১।

বরিশাল বিভাগের বোলারদের জন্য আজকের দিনটি বেশ কঠিন ছিল। তবে পেসার রুয়েল মিয়া ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ১৭ ওভারে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট (বিজয়, মিঠুন ও সোহান) শিকার করে বরিশালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছেন। স্পিনার তানভীর ইসলাম ২৪ ওভার বল করলেও উইকেটের দেখা পাননি এবং খরচ করেছেন ৯৩ রান।

খুলনা বিভাগ বর্তমানে গড়ে ৪ কোটির কাছাকাছি (৩.৮১) রান রেট বজায় রেখে খেলছে। আগামীকাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে আফিফ হোসেন ধ্রুবর লক্ষ্য থাকবে স্কোরকে ৪০০ বা তার ওপরে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত বাকি ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা। প্রথম দিনের উইকেট বিবেচনায় পিচ এখনও ব্যাটারদের জন্য বেশ অনুকূল রয়েছে।