দুই স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও টাকা আত্মসাতের মামলা প্রবাসীর

0

স্টাফ রিপের্টার॥ ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও যৌতুক দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে  বুধবার যশোরের আদালতে তিনটি মামলা করেছেন এক মালয়েশিয়া প্রবাসী। শুকুর আলী নামে এই প্রবাসী ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সালমান আহমেদ শুভ অভিযোগগুলির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর বনফুল আবাসিক এলাকার মৃত মান্দার আলীর মেয়ে রাবেয়া খাতুন, ছেলে ইব্রাহিম হোসেন, ইসমাইল হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিকড়ি গ্রামের মৃত রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে নাজমা বেগম, ছেলে ওমর ফারুক, সাইম ও শাহিনুর রহমান।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রাবেয়া খাতুন প্রথম ও নাজমা বেগম দ্বিতীয় স্ত্রী শুকুর আলীর।
প্রথম স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা, ৭ ভরি সোনার অলঙ্কার আত্মসাৎ ও যৌতুক দাবির অভিযোগে আদালতে দুইটি মামলা করেছেন শুকুর আলী। মামলা দুটিতে শুকুর আলী উল্লেখ করেছেন, মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন সময় স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের কাছে মোট ৪০ লাখ টাকা প্রেরণ করেন। ২০১৮ সালে তিনি দেশে ফিরে আসার পর স্ত্রীর কাছে ৭ ভরি সোনার অলঙ্কার গচ্ছিত রাখেন। তাদের সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার বিয়েতে দেওয়ার জন্য সোনার অলঙ্কার রেখে দেয়া হয়। এছাড়া নিজ গ্রামে শুকুর আলীর জমি রয়েছে। ওই জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণ করেছেন । গত ১৫ ফেব্রয়ারি স্ত্রী রাবেয়া খাতুন তার কাছে গচ্ছিত রাখা ৪০ লাখ টাকা ও সোনার অলঙ্কার ফেরত দিবেন না বলে জানিয়ে দেন। এছাড়া বাড়িসহ ওই জমি এবং নগদ আরো ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শুকুর আলীর কাছে। অস্বীকার করলে রাবেয়া খাতুন ৩ ভাইয়ের সহায়তায় শুকুর আলীকে নিজ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের লোকজন সেখানে এসে শুকুর আলীকে রক্ষা করেন।
অপর মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা বেগম ও তার ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২১ লাখ টাকা ও ৪ ভরি সোনার অলঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে শুকুর আলী মামলা করেছেন। এ মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছে ৮ লাখ টাকা ও ৪ ভরি সোনার অলঙ্কার গচ্ছিত রাখেন। এছাড়া স্ত্রীর ৩ ভাই নিজেদের বাড়ি নির্মাণের জন্য এবং শুকুর আলীকে জমি বন্দক নিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোট ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন। দেশে ফিরে আসার পর এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে গত ২৫ জানুয়ারি রাতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে সেখানে স্ত্রীসহ অন্যরা তাকে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার তাকে উদ্ধার করে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।