নতুন ইজারাদারের খাজনা বৃদ্ধি, বারীনগর সবজি বাজারে ক্ষোভ

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে সবজির সবচেয়ে বড় এ মোকাম

0
যশোর বারীনগর সবজির হাট

স্টাফ রিপোর্টার। লোকসমাজ : নতুন ইজারাদারের খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশের সবজির বৃহত্তম মোকাম যশোর সদরের বারীনগর বাজারে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে সবজির এ মোকাম। সকাল থেকে সব ধরনের বেচাকেনা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন শ শ কৃষক। একই সঙ্গে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
হাটে আসা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন ইজারাদার পহেলা বৈশাখ থেকে খাজনা বৃদ্ধি করেছে। আগে প্রতি মণ সবজির জন্য ৮ টাকা খাজনা নেওয়া হলেও হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা বেচাকেনা বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন শুরু করেন।
ব্যবসায়ীদের এ কর্মসূচির ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন কৃষকরা। ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি নিয়ে হাটে আসা কৃষকরা বিক্রি করতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে থাকেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে হাটের ভেতর ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এর ফলে মহাসড়কজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বেচাকেনা বন্ধ থাকায় তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। এতে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে সবজির সতেজতা কমে যায়, ফলে দামও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক কৃষক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।
অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, খাজনা বৃদ্ধি করলে তাদের ব্যবসার খরচ বেড়ে যায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যের ওপর পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিকভাবে খাজনা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরে হাটের ইজারাদার আব্দুস সালামের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। আলোচনার পর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় বেচাকেনা। হাটে পুনরায় সবজি কেনাবেচা শুরু হলে কৃষকরাও কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান।
তবে ইজারাদার আব্দুস সালাম দাবি করেন, বাস্তবে খাজনা বাড়ানো হয়নি, বরং আগের তুলনায় কমানো হয়েছে। তিনি জানান, আগে মণপ্রতি খাজনা ছিল ১০ টাকা। গত বছর তা কমিয়ে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নতুন দরপত্রের পর সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধি ও লোকসানের ঝুঁকি বিবেচনায় এনে তা ৯ টাকা করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাজারের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।