সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিতে বেড়েছে আরও ২০ টাকা

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। যশোরে সবজির বাজারে উত্তাপ আরও বেড়েছে। এ সপ্তাহেও প্রতিটি সবজির কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এদিকে, সরকারের বেঁধে দেওয়া ডিম ও মুরগির দাম গত ১২ দিনেও বাজারে কার্যকর হতে দেখা যায়নি। পেঁয়াজ আমদানি হলেও বাজারে দামের কোনো তারতম্য ঘটেনি। ভোক্তারা বলছেন বৃষ্টির। অজুহাতে বিক্রেতারা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার যশোরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

শুক্রবার বড় বাজারে এসে অনেক ক্রেতাই হোঁচট খেয়েছেন। এ সপ্তাহে প্রায় প্রতিটি সবজির কেজিতে আরও ২০ টাকা দাম বেড়েছে। এই নিয়ে গত দু সপ্তাহে সবজির কেজিতে দাম বাড়ল ৪০ টাকা।

এদিন খুচরা সবজি বিক্রেতা নাসির আলী মানভেদে উচ্ছে বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। করোলা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। ওল বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। গাজর বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

বিক্রেতা নাসির আলী জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ খুব কম। এ কারণে দাম বেশি। বড় বাজারের আড়তদার ‘আরিফ ভান্ডরের’ অন্যতম স্বত্বাধিকারী মো. শাহাবুদ্দিন জানান, দু দফায় টানা বর্ষণে অধিকাংশ চাষির সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির আমদানি যথেষ্ট পরিমানে কম। বর্ষা কেটে গেলে চাষিদের নতুন করে সবজি আবাদের ফসল ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে তিনি দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, সরকারের বেঁধে দেওয়া খামারের মুরগির ডিমের দাম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাজারে কার্যকর হতে দেখা যায়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদফতর খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের যৌক্তিক মূল্য ১১ টাকা ৮৭ পয়সা ও ব্রয়লার মুরগি ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু গত ১২ দিন পার হলেও সরকার নির্ধারিত দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।

শুক্রবার বড় বাজারে খুচরা বিক্রেতা ‘তানবীর ব্রয়লার হাউস’ এর স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেনকে রেটবোর্ড টানিয়ে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর খামারের মুরগির ডিম বিক্রেতা মো. শুভ জানান, শুক্রবার তিনি প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছেন। অবশ্য সরকার প্রতি পিস ডিমের খুচরা যৌক্তিক মূল্য ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ডিম বিক্রেতা শুভ জানান, কোনো কোনো খামারি প্রতি পিস ডিম পাইকারি ১২ টাকা ৪০ পয়সা দরেও বিক্রি করছেন। তিনি ডিমের বাজারে অস্থিরতার কথা স্বীকার করে বলেন, সামনের দিনে ডিমের দাম ১৩/১৪ টাকা হতে পারে।

অপরদিকে দেশে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। বর্তমানে ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে আসছে। কিন্তু এর পরেও বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেনি। আমদানির আগেও যে দামে বিক্রি হচ্ছিল, এখনও সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বড় বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. তামিম জানান, তিনি দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

বাজারে সবজি কিনতে আসা বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা রহমত আলী জানান, বৃষ্টির অজুহাতে বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া ডিম ও মুরগির বিক্রি দাম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। তিনি বাজার তদারকি সংস্থাকে এর জন্য দায়ী করে বলেন, তারা যদি সক্রিয় হতো তাহলে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে থাকতো।