চিতায় লাশ ওঠানোর পর যা ঘটলো- 

জানা গেলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ লোকসমাজ: বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টা। বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উত্তর আমবাড়িয়া কালিমন্দ্রির শ্মশানের চিতায় সুব্রত পোদ্দার কানুর মরদেহ। হঠাৎ উপস্থিত স্ত্রী ও সন্তান। অঝোরে কাঁদছিলেন তারা। হতবাক উপস্থিত সবাই। জানা গেলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নাম নিয়েছিলেন কাজী সোহাগ। এরপর ইন্তিকাল করলে স্ত্রী ও ছেলে সন্তানকে না জানিয়ে গোপনে মরদেহ দাহ করা হচ্ছিল। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শ্মশানের চিতা থেকে নামানো হয় মরদেহ।

পুলিশ লাশের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত পোদ্দার কানু। পিতা শুকলাল পোদ্দার ও মা রিতা রানী পোদ্দার। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেঁতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তার মা রিতা রানী পোদ্দার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্যে চিতায় তোলা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিশু সন্তান তীব্র প্রতিবাদ জানান। মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সেই বিবেচনায় মরদেহ দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি তার ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।