মহেশপুরে সীমান্তে তিন দিনে দুই লাশ, ইছামতি ঘিরে রহস্য

ইছামতি নদী থেকে পরপর দুই অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার, সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি

0
মহেশপুর ইছামতী নদীতে লাশ উদ্ধার

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে নদী থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দুইটি লাশ উদ্ধার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এমন কী ঘটেছে যে সীমান্ত নদী থেকে অল্প দিনের ব্যবধানে প্রায় একই কায়দায় দুটি লাশ মিললো? বৃহস্পতিবার উদ্ধার লাশের পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।
মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে বৃহস্পতিবার আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নদীর কচুরিপানার নিচে মরদেহটি পচে ফুলে ওঠার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানিয়েছেন, গত সোমবার একই জায়গা থেকে অপর এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন দিনের ব্যবধানে দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন পরিকল্পনা করে এই দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হতে পারে।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামবামী পচা দুর্গন্ধ পেয়ে নদীর পাড়ে ভিড় জমাতে থাকে। এরপর পানিতে নেমে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পায়।  এসময় তারা পুলিশ ও বিজিবিকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে তার পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। সেখানে রাতিকান্ত জয়ধর (৪৬), পিতা দেবেন্দ্র নাথ জয়ধর, গ্রাম পোলাটানা, ভাংগারহাট, কোটালিপাড়া গোপালগঞ্জ ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।

ওসি জানান, পাসপোর্টের ব্যক্তিটি উদ্ধারকৃত লাশের কিনা তা অনুসন্ধানে জানা যাবে। চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ার কারণে পাসপোর্টে থাকা ছবির সাথে মিল করা যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পরে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, অজ্ঞাত মরদেহটি বাংলাদেশের ১০ গজ অভ্যন্তরে ইছামতী নদীতে কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তিন চারদিন আগের মরদেহ এটি। পানির নিচে পচে ফুলে উঠেছে। উপুড় অবস্থায় মরদেহটি ভাসমান ছিল। মহেশপুর থানা লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই স্থানে ইছামতী নদীর পাড় থেকে অপর এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন বিজিবির একটি দল সীমান্তে টহলরত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ৫০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরদেহটি পড়ে ছিল। এখনো উদ্ধার লাশের পরিচয় মেলেনি।