২০২০-এ যেসব কীর্তির সামনে লিওনেল মেসি

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে জিতেছেন অনেক কিছুই। গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। বার্সেলোনার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক ‘খুদে জাদুকর’। সর্বাধিক ছয়বার বর্ষসেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারও তিনি। ৩২ বছর বয়সী এ ফুটবল জাদুকরের প্রাপ্তির খাতায় নেই আবার অনেক কিছুই। জাতীয় দলের হয়ে এখনো শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে মেসির। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও সেরা হতে পারেননি। এরকম ১২টি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লিওনেল মেসির সামনে।
এক দলের হয়ে পেলের গড়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড
৬৩৪ গোল করে কোনো এক দলের সর্বোচ্চ গোলের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলে।
স্বদেশি ক্লাব সান্তোসের জার্সি গায়ে এ রেকর্ড গড়েন ফুটবলের ‘কালোমানিক’। পেলেকে ছাড়িয়ে যেতে মেসির প্রয়োজন আর ২৫ গোল। বার্সেলোনার জার্সিতে ৬১৮ গোল রয়েছে মেসির।
পঞ্চম চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়
লিওনেল মেসি তার চার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপার সর্বশেষটি জিতেছেন ২০১৫ সালে। ৬টি ইউরোপীয়ান শিরোপা জিতে সবার ওপরে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফ্রান্সিসকো গান্তো। আর একটি শিরোপা জিতলে গান্তোর কাছে চলে আসবেন বার্সা সুপারস্টার।
একাদশ লীগ শিরোপা
এখানেও মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী গান্তো। সবচেয়ে বেশি ১২টি লীগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। লা লিগার ট্রফি ১০ বার জয় করে দ্বিতীয় স্থানে মেসি। চলতি মৌসুমে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে সবার উপরে মেসির বার্সেলোনা।
কাপে সর্বোচ্চ ট্রফি জয়ের রেকর্ড
ছয়টি করে কাপ ট্রফি জিতে যৌথভাবে একনম্বরে অগাস্টিন পিরু ও মারিয়া বেলাওস্তে। গত মৌসুমে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে তাদের রেকর্ডে ভাগ বসানো হয়নি মেসির। ক্যারিয়ারে পাঁচটি কাপ শিরোপা জিতে সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন মেসি।
সপ্তম ব্যালন ডি’অর
সর্বাধিক ছয়বার ব্যালন ডি’অর জয়ী একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। সংখ্যাটা সাতে নিতে পারলে আরো একধাপ উপরে উঠবেন তিনি।
টানা ৪র্থ ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট জয়
লিওনেল মেসির মতো ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ড নেই আর কারও। ছয়বার জিতেছেন ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলের খেতাব ‘গোল্ডেন বুট’। ইতিমধ্যে হ্যাটট্রিকও করেছেন। এবার টানা চতুর্থটির সামনে।
সর্বোচ্চ গোলদাতার পিচিচি ট্রফি
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কিংবদন্তির স্প্যানিয়ার্ড স্ট্রাইকার তেলমো জারা ও লিওনেল মেসি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়বার স্প্যানিশ লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার পিচিচি ট্রফি জিতেছেন। এবারো সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে মেসি।
বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি এল ক্লাসিকো
২০১৯-এর ডিসেম্বরে সর্বশেষ এল ক্লাসিকো খেলতে নেমে ছুঁয়েছেন জাভি হার্নান্দেজকে (৪২ ম্যাচ)। এবার জাভিকে পেছনে ফেলে কাতালানদের হয়ে সবচেয়ে বেশি এল ক্লাসিকো খেলার রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি।
বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
ইনজুরিতে না পড়লে বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটাও দখলে নেবেন মেসি (৭০৫ ম্যাচ)। স্প্যানিশ কিংবদন্তী মিডফিল্ডার জাভি খেলেছেন সর্বাধিক ৭৬৭ ম্যাচ।
এক দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ের রেকর্ড
রায়ান গিগস ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে জিতেছেন ৩৪টি ট্রফি। বার্সেলোনার প্রাণভোমরা মেসি আর একটি ট্রফি জিতলেই ছাড়িয়ে যাবেন ওয়েলশ কিংবদন্তীকে।
চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা
চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (১২৮ গোল)। আসরে রোনালদোর চেয়ে ১৪ গোলে পিছিয়ে মেসি।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শিরোপা
জাতীয় দলের হয়ে একটি ট্রফিও জেতা হয়নি লিওনেল মেসির। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল, কোপা আমেরিকা ২০১৫ ও ২০১৬তে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হন তিনি। চলতি বছর আরো একবার কোপা আমেরিকা জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন লিওনেল মেসি। কলম্বিয়ার সঙ্গে ২০২০ কোপা আমেরিকা আসরের সহ-আয়োজক আর্জেন্টিনা।

মার্কিন হামলায় জেনারেল সোলাইমানি নিহত

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের এলিট শাখা কুদ্‌স ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ নির্দেশের মাধ্যমে বছরের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেলেন তিনি। সোলাইমানি ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। সাধারণত লাইমলাইট থেকে দূরে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির কারিগর ধরা হয় তাকে। অনেকে তাকে দেশটির পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হওয়ার প্রতিযোগিতায়ও এগিয়ে রেখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুলাইমানির ওপর মার্কিন হামলার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে, বিধ্বংসী প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আল খোমেনি তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, অপরাধীদের জন্য কঠিন প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অনুসারে, বৃহস্পতিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চালানো এক হামলায় নিহত হন সোলাইমানি। ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলার একদিন পর এই হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার দিয়ে চালানো হামলায় জেনারেল সুলাইমানি ও ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিস সহ আটজন নিহত হয়েছেন।
যেভাবে মারা গেলেন সুলেইমানি: সামপ্রতিক সময়ে একাধিকবার বাগদাদে সফর করেছিলেন সুলাইমানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন সফরই সোলাইমানির মৃত্যু ডেকে আনে। ইউএস ইন্সটিটিউট অব পিস এর স্কলার রামজি মারদিনি বলেন, সুলাইমানি বাগদাদে এমনভাবে চলাফেরা করতেন যেন তিনি অস্পৃশ্য। তার এই চিন্তা ভুল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের প্রশাসনগুলো তার ওপর হামলার মতো সিদ্ধান্ত নিতো না। তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের বিশাল নেটওয়ার্ক ধরে রাখার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সোলাইমানি। তার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্য ডেইলি মেইল জানিয়েছে, হামলার দিন সবেমাত্র সিরিয়া থেকে বাগদাদে পৌঁছেছিলেন সোলাইমানি। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসতে যায় ইরাকের পপুলার মোবালাইজেশন ফোর্সেস এর মিলিশিয়ারা। স্থানীয় সময় বৃহসপতিবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা ৩৪ মিনিটে বাগদাদ পৌঁছেন তিনি। বাগদাদের বিমানবন্দর থেকে মিলিশিয়াদের সঙ্গে ফেরার সময় একটি মার্কিন ড্রোন থেকে চালানো চারটি ক্ষেপণাস্ত্রে ধ্বংস হয়ে যায় তাকে ও মিলিশিয়াদের বহনকারী দু’টি গাড়ি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোলাইমানির ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে হত্যার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। বিবৃতিতে বলা হয়, সুলাইমানি ইরাক সহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলার পেছনেও জড়িত ছিলেন তিনি। আরো বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের রক্ষা করতে এ নিষ্পত্তিকারী প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধে এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন নাগরিকরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় আমাদের জনগণ ও স্বার্থ রক্ষায় সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রাখবে। সোলাইমানি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই নিজের টুইট একাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পতাকার ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। তার এ নির্দেশ অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রু বধ হলো।
প্রতিশোধের হুমকি: জেনারেল সোলাইমানি ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের একজন। তার নেতৃত্বাধীন কুদ্‌স ফোর্স সরাসরি দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনির কাছে জবাবদিহি করে। দেশটিতে জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিত তিনি। অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শক্তি বৃদ্ধিতে তার ভূমিকা অনবদ্য। তার মৃত্যুর যথাযথ জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির নেতারা। রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের সাবেক এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জানিয়েছে, খুবই কুৎসিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। কঠোর জবাব দেবে ইরান। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে চরম মাত্রায় বিপজ্জনক ও বেকুবি করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ। এই অপরাধের জন্য মার্কিন প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ইরান তাদের সকল রাজনৈতিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা প্রয়োগ করবে। সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেছেন, আমার সব বন্ধু ও শত্রুরা এটা জেনে রাখুন- বিদ্রোহের জিহাদ এখন নতুন উদ্দীপনায় চলবে। যোদ্ধাদের জন্য রহমতের এ পথে জয় অপেক্ষা করছে। আমাদের প্রিয় জেনারেলের মৃত্যু তিক্ততার। কিন্তু আমাদের অবিরাম লড়াই ও জয় তার হত্যাকারী ও অপরাধীদের জন্য অধিকতর তিক্ত হবে।

নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন বুদ্ধিজীবীরা

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নানা শঙ্কা ভোটের মাঠে। ভোটারদের শঙ্কা কেন্দ্রে যেতে পারবেন তো? বিরোধী প্রার্থীদের শঙ্কা-বাঁধাহীনভাবে প্রচারণা চালাতে পারবেন তো? নাকি গত জাতীয় নির্বাচনের মতো তারা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হবেন। ভোটার, প্রার্থীর পাশাপাশি দেশের বিশিষ্টজনরা ভাবছেন বিষয়টি নিয়ে। তাদের কেউ বলেছেন, ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি, অনিচ্ছা তৈরি হয়েছে। কেউ আশা করছেন কেন্দ্রে ভোটাররা যাবেন। আবার কেউ বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।
এবার ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, এবার আশা করি ভোটার’রা ভোট কেন্দ্র যাবে। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা তাদের অধিকার নিয়ে আগ্রহী। তবে আমি বিএনপির প্রতি আশা রাখবো, তারা যেনো শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়াই করে। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখেছি বিএনপি মাঝপথে এসে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়। ফলে ভোটার’রা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রত্যাশা রাখি বিএনপি এই জায়গা থেকে সরে আসবে। এবারের সিটি নির্বাচনে আমার কাছে যা মনে হয়েছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে আগাচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে।
ভোটারদের মধ্যে অনিচ্ছা তৈরি হয়েছে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গত জাতীয় নির্বাচনের পরে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি, হতাশা, অনিচ্ছা তৈরি হয়েছ। এর পরে আমরা দেখেছি কিছু স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে সেখানে ভোটারদের একটা মারাত্বক অনুপস্থিতি দেখতে পেয়েছি। ভোটার’রা তখনই আশ্বাস পায়, যখন দেখে দুই পক্ষের সমান প্রচারনা, মিছিল , সমাবেশের সুযোগ পায়। তখন আমার মনে হয় আস্থা পুরুদ্ধার হতে পারে বা ফিরে আসতে পারে। এবার সিটি নির্বাচনের নতুন সংযোজন ইভিএম। গত নির্বাচনে আমি এমনো ভোটার পেয়েছি যাদের ভোট কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে বিশেষ মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য। যতটুকু জানি, ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ না মিললে ইভিএমের ক্ষেত্রে ২৫ পার্সেন্ট ভোট দিতে পারে প্রিজাইডিং অফিসার’রা। ইভিএম-এ কারচুপি মুক্ত হবে কিনা এই নিয়ে ভোটরাদের মধ্যে একটা বিরাট অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসমস্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে পারলে ভোটার’রা ভোট কেন্দ্রে যাবে। আমার একটা আশংকা আছে। বিগত পাঁচ বছরের নির্বাচনগুলোতে সরকার কারচুপি করে একটা মডেল তৈরি করেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তারা নৈশ নির্বাচন করেছে। আমার আরো একটা আশংকা কাজ করছে, আগামী সাধারন নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে কারচুপি করার একটা টেষ্ট কেস হিসেবে নেয় কিনা। এটা শুধু আমার আশংকা নয় ,এটা প্রায় অনেক মানুষেরই আশংকা। সরকারি দল থেকে সবসময়ই বলা হয় বিএনপির কোনো জনপ্রিয়তা নেই, জনগনের আস্থা নেই। তাহলে একটা স্বচ্ছ নির্বাচন দিয়ে দেখাক। তাহলে তো বোঝা যাবে।
জনগণের আস্থা ফিরানোর জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ: লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে বেশ কয়েকটা নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু কোনো নির্বাচনে জনগণ বা বিরোধী প্রার্থীদের তারা আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে প্রশাসনও তারা তাদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। যার কারনে জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলছে। সেই জায়গা থেকে সরে আসতে চাইলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ কাজ করতে হবে।আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন যদি তারা তাদের সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে তাহলে এধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। জনগণের আস্থা ফিরানোর জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ।
প্রশ্ন কেনো উঠছে সেটিই আমার প্রশ্ন: অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ৮১ সালে স্বদেশে ফিরলেন তখন তিনি বলেছিলেন, মানুষকে তিনি ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন। এছাড়াও তিনি অনেক অঙ্গিকার করেছেন। সব অঙ্গিকারই তিনি রেখেছেন। কিন্তু ভোটের অধিকারটা তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এটা খুব দুঃখজনক। গত জাতীয় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। প্রশ্ন কেনো উঠলো সেটিই আমার প্রশ্ন। কারণ প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই বলেছেন তিনি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চান না। কিন্তু গত কয়েকটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। যার ফলে ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করার আগ্রহ হারিয়েছে। এখন নির্বাচন হলেও ভোট দিতে যেতে চায় না সাধারন ভোটার’রা। তাহলে কি দাঁড়ালো সঠিক গণতন্ত্র চর্চাটা কিন্তু হচ্ছে না। এর দায় কোনো ভাবে নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না। একটি নির্বাচন কমিশন যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে এমন কোনো প্রশ্ন ওঠতো না। কারন নির্বাচন কমিশন শতভাগ স্বাধীন। এখন নির্বাচন কমিশনই পারে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে।

গ্যাস, বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার যাচ্ছে বেসরকারি খাতে

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সমপ্রতি জ্বালানি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনও আগ্রহী উদ্যোক্তা কেউ গ্যাস-বিদ্যুতের প্রি পেইড মিটার আমদানি করতে পারবেন। এমনকি চাইলে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশে প্রি-পেইড মিটার তৈরির জন্য কারখানাও বসাতে পারবেন। গ্যাসের এই মিটার বেসরকারি খাতে দিতে বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসে আবাসিক পর্যায়ে খোলা বাজার থেকে প্রি-পেইড ‘ক্রয় ও স্থাপন নীতিমালা-২০১৯’ নামে একটি নীতিমালা করা হয়েছে।
নীতিমালার উদ্দেশ্যে হচ্ছে-দ্রুত আবাসিক পর্যায়ে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার বা স্মার্ট মিটারের টেকসই সংযোগ নিশ্চিত করা; গ্যাসের অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো এবং গ্যাস সাশ্রয়ে গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি করা; গ্যাসের প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ সেবাকে জনবান্ধব করা। মিটার স্থাপনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশগ্রহণের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। বেসরকারি কোনও একক কোম্পানি এগিয়ে না এলেও প্রি পেইড মিটার তৈরির জন্য দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপন করেছে। তবে, এই দুটি কারখানা করা হয়েছে বিদ্যুতের প্রি পেইড মিটার তৈরির জন্য। যার একটি তৈরি করেছে ওয়েস্ট পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), অন্যটি তৈরি করেছে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল)। তবে এখনও কেউ গ্যাসের প্রি- পেইড মিটার তৈরির কারখানা নির্মাণে এগিয়ে আসেনি। সূত্র মতে, গ্যাসের মোট গ্রাহক ৪৩ লাখের মধ্যে তিন লাখের মতো গ্রাহকের প্রি-পেইড মিটার রয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে সরকার মাত্র পৌনে তিন লাখ গ্রাহককে প্রি পেইড মিটার দিতে পেরেছে। বাকি আছেন আরো প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক। সরকার নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ায় আবাসিকে নতুন প্রি পেইড মিটার ৪০ লাখের মধ্যেই সীমিত থাকবে। সূত্র জানায়, গ্যাসের ক্ষেত্রে দুই চুলার একজন গ্রাহক প্রতিমাসে এখন ৯৭৫ টাকা বিল পরিশোধ করেন। কিন্তু এর বিপরীতে প্রি-পেইড মিটার যারা ব্যবহার করছেন, তাদের বিল আসছে সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা। ফলে একজন গ্রাহক প্রতিমাসে ৫০০ টাকার মত প্রি-পেইড মিটারে সাশ্রয় করতে পারবেন।
অন্যদিকে সারা দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা তিন কোটি ৫৭ লাখ। আর সেচ গ্রাহক রয়েছেন তিন লাখ ৬৪ হাজার। অন্যদিকে, গ্যাসের গৃহস্থালি সংযোগ রয়েছে ৪৩ লাখ। গ্যাসে সংযোগ বন্ধ থাকলেও বিদ্যুতে নতুন নতুন সংযোগ হচ্ছে। একই মিটার কারখানা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মিটার তৈরির বড় বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। একটি মিটার সাধারণত ১০ বছর চলে। তবে কোনো কোনো মিটার আরো আগেও অকেজো হয়ে যায়। খোলা বাজারে কীভাবে এই মিটার বাণিজ্য সমপ্রসারণ করা হবে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মিটার কেমন হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যে কোম্পানিই মিটার তৈরি করবে, তাদের মিটারে নির্ধারিত বিষয়গুলো থাকতে হবে। এই মিটারগুলো নির্ধারিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করতে হবে। সময়ে সময়ে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্রও নিতে হবে। এক্ষেত্রে গ্যাসের হলে পেট্রোবাংলা আর বিদ্যুতের হলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। গ্রাহকের ?সুবিধা কী জানতে চাইলে কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহক ব্যবহারের মাঝখানেই বিল দেখবেন। তিনি দেখতে পাবেন কতটুকু ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক নিজেই হিসাব করে বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহার করবেন। এক্ষেত্রে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া থাকবে না। এতে সিস্টেম লস কমে এসে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। প্রচলিত প্রি পেইড মিটারের চেয়ে বিদ্যুতে আরো আধুনিক স্মার্ট প্রি পেইড মিটার এসেছে বাজারে। এই প্রি পেইড মিটার দেশের একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ‘ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ব্যবহার করছে। স্মার্ট মিটারে মোবাইল ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহার দেখা যায়। এই ব্যবস্থায় বিতরণ কোম্পানি সার্ভিস সেন্টারে বসেই রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। আবার গ্রাহকও তার সমস্যার কথা মোবাইল অ্যাপসে গিয়ে বিতরণ কোম্পানিকে জানাতে পারবেন।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এটিএম হারুন অর রশিদ বলেন, ঢাকায় আমাদের গ্রাহক প্রায় ১৩ লাখ। এরমধ্যে প্রায় চার লাখ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করছেন। বেসরকারিভাবে যারা প্রি- পেইড মিটার দেবেন তাদের নীতিমালার আলোকে আসতে হবে। আর গ্রাহকরা যখন নিজের মত করে বাজার থেকে এই মিটার কিনে লাগাবেন তখন তাদের কাছ থেকে মিটার ভাড়া নেয়া হবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন এই বিষয়ে বলেন, বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার বেসরকারি করণের বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারিভাবে তারাও প্রি-পেইড মিটার তৈরির জন্য একটি কারখানা করেছেন। প্রি-পেইড মিটারের প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাঁচ চ্যালেঞ্জে ইসি

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ মনে করছে নির্বাচন কমিশন। দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে পাঁচটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা; ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা; ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা; দুই সিটিতে শতভাগ ইভিএম ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। তারা বলেছেন, দুই সিটিতে ইভিএমে ভোট করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সেই সঙ্গে ইভিএম বিরোধীদের আস্থায় আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনাররাও ঢাকা সিটি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। এজন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের সতর্কভাবে কাজ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিটি ভোটের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রথম প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘যন্ত্রে ভোট গ্রহণ নিয়ে এখনো দেশে অনেকের আপত্তি আছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেই ইভিএমে টিকে আছি। এর মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ সফলভাবে করা যায়।’ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ইভিএম প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।’ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইসি একটা গ্রহণযোগ্য ও আইনানুগ নির্বাচন প্রত্যাশা করে।’ কবিতা খানম বলেন, ‘ইভিএম একটা চ্যালেঞ্জ। যারা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন তারা পুরো নির্বাচনটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবেন।’ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে কমিশনের ভাবমূর্তি। কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ইসির পাঁচ চ্যালেঞ্জ : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেছেন, প্রথমত ভোটার উপস্থিতিটা বড় চ্যালেঞ্জ, দ্বিতীয়ত ইসি শতভাগ ইভিএম কার্যকর করতে যাচ্ছে। এজন্য যত বেশি ট্রেনিং, ইভিএম প্রদর্শনী করতে পারবে তত ভোটারদের মধ্যে কনফিডেন্স তৈরি হবে। তখন তারা দলে দলে ভোট দিতে যাবে। সব মিলে ব্যাপকভাবে ইভিএমের প্রচার চালাতে হবে। তৃতীয়ত পুরান তথা ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা ওখানে রাস্তাঘাট প্রশস্ত নয়, সবখানে সব সময় পৌঁছানো ডিফিকাল্ট। চতুর্থত সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে কমিশনারদের দৃশ্যমান থাকতে হবে। এসি রুমে বসে ফাইল ওয়ার্ক করলে চলবে না। আর কর্মকর্তাদের উপরে সব ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলেও চলবে না। পঞ্চমত সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে যেন সহায়ক পরিবেশ থাকে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে সতর্কতার সঙ্গে ইভিএম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে দুই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব ভেবেচিন্তে, দেখেশুনে এটা (ইভিএম) ব্যবহার করতে হবে। আমি ইভিএমে ভোট না করতে বলছি না। প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করে এটা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ২০২০ সালের প্রথম নির্বাচন। বিশ্ববাসী এটাকে পর্যবেক্ষণ করবে। সেজন্য এটাকে যতটা সম্ভব ত্রুটিমুক্ত করতে হবে। আর সবাইকে আস্থায় নিতে হবে। যারা ইভিএমের বিরোধিতা করছেন, তাদের সঙ্গে বসুন, তাদেরকে দেখান, তাদেরকে আস্থায় আনুন।’ তিনি বলেন, ইভিএম প্রথম টেস্ট করা হয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে। গত সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে করা হয়েছে। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা। আর বিদেশে বহু দেশ ইভিএম শুরু করে আবার বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড আছে। আবার অনেকে আছে এটা ২০ বছর ধরে চালাচ্ছে। তার মধ্যে ব্রাজিল, ইন্ডিয়া উন্নতম। ইন্ডিয়ায় এটা নিয়ে অনেক অবজেকশন হয়েছে। অবজেকশনের মুখে তারা রেখেছে। কিন্তু তারা মডিফাই (সংস্কার) করেছে। তারা ইভিএমের সঙ্গে পেপার প্রিন্ট অ্যাড করেছে। তাহলে পুনঃ গণনার প্রশ্ন এলে প্রিন্ট আউট দিয়ে এটাকে পুনঃ গণনা করতে পারবে।
আপিল করার সময় শেষ হচ্ছে কাল : ঢাকার দুই নির্বাচনে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বাদ পড়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়োগ দিয়েছেন। আগামীকাল পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন প্রার্থীরা।
মোট বৈধ প্রার্থী ৯৯৩ জন, মনোনয়নপত্র বাতিল ৪৬ জনের : ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটিতে মোট ১৪ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ করেছেন রিটার্নিং অফিসার। আর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে উত্তরের জাতীয় পার্টির প্রার্থীর। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপাসহ সাতজন মেয়র প্রার্থীই বৈধ হয়েছেন। ৪৬০ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪৩৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, বাতিল হয়েছে ২৬ জনের প্রার্থিতা। আর সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের ১০২ প্রার্থীর মধ্যে ১০০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, বাতিল হয়েছে দুজনের প্রার্থিতা। এদিকে উত্তরে সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ আর একজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। এ ছাড়া ৩৭৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে বৈধ হয়েছেন ৩৫৯ জন, বাতিল হয়েছে ১৫ জনের। ৮৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে বৈধ হয়েছেন ৮৭ জন, বাতিল হয়েছে দুজনের। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। প্রচার শেষে ভোট হবে ৩০ জানুয়ারি।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইভিএম বিতর্ক

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম’র মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি’র এই ঘোষণার পর ইভিএম নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিতর্ক শুধু রাজনৈতিক মহলেই সীমাবদ্ধ নয়, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও আস্থার সংকট। এই আস্থার সংকট পরিলক্ষিত হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’ পরিচালিত এক অনলাইন জরিপের ফলাফলে। সুজনের ওয়বসাইটে পরিচালিত এক জরিপে ১,৪০০ জন অংশ নেন। যার ৯১ শতাংশই আসন্ন সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।
ইভিএম ব্যবহারের ওপর আস্থার সংকটের মোটাদাগে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমান নির্বাচন কমিশন এবং যে প্রক্রিয়ায় কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদসহ কতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করেছে তার ওপর অনাস্থা। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কমিশন যে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা নিচ্ছে তার ওপর অনাস্থা। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার সংকটের মূল কারণ হলো স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। আমাদের নির্বাচনী আইনের প্রায় সবগুলোই বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লঙ্ঘিত হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাসহ আরও অনেকেই জড়িত ছিলেন। কিন্তু কমিশন কারো বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। একাদশ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফলেও দেখা যায় নানা অসঙ্গতি। প্রাথমিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়: (১) ১০৩টি আসনের ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, যা অবাস্তব, অসম্ভব ও অকল্পনীয়। (২) ১,১৮৫টি কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা শূন্য ভোট পেয়েছেন এবং আওয়ামী লীগ দুটি কেন্দ্রে শূন্য ভোট পেয়েছে, যা কল্পনাতীত। (৩) ৫৮৬টি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এবং অন্য একটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থী শতভাগ ভোট পেয়েছেন, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ওপর অনাস্থার আরেকটি কারণ হলো নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএমের ব্যবহার করা হয়। বাকি ২৯৪টি আসনে ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়। ইভিএমে ভোট পড়ার হার ছিল ৫১.৪২ শতাংশ। পক্ষান্তরে অন্য ২৯৪টি আসনে এ হার ছিল ৮০.৮০ শতাংশ। অর্থাৎ ইভিএমের তুলনায় ব্যালট পেপার ব্যবহৃত আসনসমূহের ভোটের হার ছিল ২৯.৩৮ শতাংশ বেশি। তাই কোনটি ভোট পড়ার সঠিক হার? ইভিএমের? না ব্যালটের? একই নির্বাচনে দুটি হার কোনোভাবেই সঠিক হতে পারে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপারে জাতির কাছে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। অথচ এর সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য আছে। যেমন, যদি পেপার ব্যালটে ভোট পড়ার হার সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে ইভিএম ব্যবহারের কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর ইভিএমকে যদি সঠিক বলে ধরে নেয়া হয়, তাহলে ইভিএমের চেয়ে বাকি আসনগুলোতে ৩০ শতাংশ বেশি ভোট পড়া নিশ্চয়ই কারসাজি ও কারচুপির অংশ। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের নির্বাচনী ইতিহাসে এর চেয়ে বড় কোনো কেলেঙ্কারি হতে পারে না। এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই দায়বদ্ধ হতে হবে, দায়বদ্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে ইভিএমের ওপর আস্থার সংকট তৈরির অনেকগুলো কারণ রয়েছে। একটি কারণ হলো ইভিএম ক্রয়ের প্রক্রিয়া। দেখা যায় প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান হওয়ার আগেই কমিশনের পক্ষ থেকে ইভিএম কেনার কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এমনকি ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি দামে প্রতিটি মেশিন ২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় ইভিএম কিনেছে মর্মে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় (প্রথম আলো, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮)। এ ছাড়া রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়াই ইভিএম ব্যবহারে কমিশনের উদ্যোগ অতি উৎসাহের প্রতিফলন। যদিও দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিইসি বলেছিলেন: ‘সব দল না চাইলে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না (প্রথম আলো, ২৯শে আগস্ট ২০১৮)।’ তাই রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে অতি উচ্চ দামে ইভিএম কেনার কারণে কমিশনের ওপর জনগণের আস্থার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় এবং জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়। আস্থার সংকটের আরেকটি কারণ হলো আমাদের ইভিএমে ‘ভোটার ভেরিফাইড পেপার অডিট ট্রেইল’ (ভিভিপিআইটি) বা ইভিএমে প্রদত্ত ভোট কাগজে রেকর্ড হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ভোটারদের ভোট প্রদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পায় এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা পরবর্তীতে নিরীক্ষার কোনো সুযোগ থাকে না। ইভিএম কেনার আগে একটি কারিগরি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর উপদেষ্টা ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী। এ ছাড়া একটি সাব-কমিটি করে দেয়া হয়েছিল, যে কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতেই ইভিএম কেনা হয়েছিল। কিন্তু জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে মূল কমিটি তা অনুমোদন করেনি। তাদের সুপারিশ ছিল এতে ‘ভিভিপিআইটি পেপার অডিট ট্রেইল’ রাখা, যাতে সঙ্গে সঙ্গে ভোটের রেকর্ড কাগজে লিপিবদ্ধ থাকে এবং ভোটার কাকে ভোট দিয়েছে ও তার ভোট কোথায় পড়েছে তার একটি প্রিন্ট-আউট পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে কোনো প্রশ্ন উঠলে যাতে অডিট করা যায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন উক্ত সুপারিশ অমান্য করে ইভিএম ক্রয় করে, যার ফলে জামিলুর রেজা চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেননি, যদিও কমিশন তার নাম অযাচিতভাবে ব্যবহার করেছে (প্রথম আলো, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮)।
প্রসঙ্গত, ইভিএমে ‘ভিভিপিআইটি’ না থাকায় আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইভিএম নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই দুর্বলতা দূর করার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায় অনুসরণে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ২০১১ সালে তাদের ব্যবহৃত ইভিএমে ‘ভিভিপিআইটি’ সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন। সাত-আট বছর পরে নির্মিত এবং অনেক বেশি দামে কেনা ইভিএমে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার ব্যাপারে আমাদের নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতাও কমিশনের প্রতি অনাস্থার আরেকটি কারণ। আস্থার সংকটের অন্য একটি কারণ হলো ইভিএমে ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল পাওয়ার কথা থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক পরে তা প্রকাশ করা হয়েছে। এর কারণ কী আমাদের জানা নেই। ইভিএমের যান্ত্রিক ত্রুটি? যান্ত্রিক ত্রুটি যদি হয় তাহলে তো এই ফলাফল কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যদি সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল ঘোষণা না করতে পারে, তাহলে পরবর্তীতে কীভাবে তা প্রকাশ করা হলো? এখানে কোনো কারসাজি হয়েছে কিনা এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
ইভিএম প্রযুক্তির আরেকটি সমস্যা হলো, এটি আগে থেকেই এমনভাবে ক্যালিব্রেইট/প্রস্তুত করা যেতে পারে যাতে ভোটার যে কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলেই তা কোনো পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষে রেকর্ড হয়ে যাবে। বর্তমানের উন্নত প্রযুক্তির যুগে এটি করা একেবারেই অসম্ভব নয়। বেড়ায় ক্ষেত খেলে তা হতেই পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবহার করা ইভিএমে ভোটারদের বায়োমেট্রিক্স বা আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে ভোট দিতে হয়। যদি আঙ্গুলের ছাপ মেশিন পড়তে না পারে, তাহলে নির্ধারিত নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটারের বায়োমেট্রিক্স ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ‘ওভাররাইড’ বা বাদ দিতে পারেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫% ভোটারের ক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্মকর্তারা এ ক্ষমতা ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছিলেন (বিবিসি বাংলা, ২৪শে নভেম্বর ২০১৮)। ভোটার, এজেন্ট ও গণমাধ্যমের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী কর্মকর্তা যে এ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেননি, তার নিশ্চয়তা কোথায়?
বিগত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ইভিএম কেন্দ্রে ভোটাররা যখন ভোট দিতে যায় তখন অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ব্যক্তি ভোট প্রদানের গোপনীয় কক্ষে উপস্থিত থেকে ভোটারের ভোট প্রদানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার এবং অনেক ভোটারকে ভোট প্রদান থেকে বিরত রাখার অভিযোগ উঠেছে (দি ডেইলি স্টার, ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৯)। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আসন্ন সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুইজন ব্যক্তি ইভিএমের দায়িত্বে থাকবেন। আমাদের আশঙ্কা যে, যেহেতু কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা নেই, এর মাধ্যমে আমাদের সেনাবাহিনী বিতর্কিত হতে পারে।
আমরা মনে করি, ইভিএম নিয়ে বিতর্ক বহুলাংশে এড়ানো যেত, যদি ইভিএম নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যেত এবং ইভিএমে ‘ভিভিপিআইটি’ যুক্ত করা হতো। ‘ভিভিপিআইটি পেপার অডিট ট্রেইল’-এর অনেক সুবিধা রয়েছে; যেমন, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম ও প্রার্থীর এজেন্ট এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এটা একটা রক্ষাকবচ হতে পারতো। প্রসঙ্গত, পৃথিবীর গুটিকয়েক দেশেই ইভিএম ব্যবহার করা হয়। যেসব দেশে ব্যবহার হয় না, তারা প্রযুক্তির দিক থেকে আমাদের থেকে অনেক উন্নত। যেমন, জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই ইভিএম নিয়ে আমাদের কমিশনের কেন এতো উৎসাহ তা আমাদের বোধগম্য নয়। পরিশেষে, যেহেতু অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থাহীনতা রয়েছে এবং ইভিএম নিয়েও নানান প্রশ্ন রয়েছে তাই ঐকমত্য ছাড়া আগামী যে কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ওরা

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের অনেকেই এখনও সুস্থ হননি। শরীরে মারাত্বক আঘাত নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। তাদের কারো কারো মাথায় আঘাত, মেরুদন্ড ও হাতের হাড় ভাঙ্গা, চোখে রক্তজমাট, কিডনিতে সমস্যা নিয়ে যন্ত্রনাময় দিন পার করছেন। কবে সুস্থ হবেন এটি তারাও যেমন বলতে পারছেন না ঠিক তেমনি চিকিৎসকরা তাদের কোনো আশার বাণী শুনাতে পারেনি। চিকিৎসকরা বলেছেন, চিকিৎসা চলবে তবে সুস্থ হতে সময় লাগবে। তাদের এমন অবস্থা নিয়ে সহপাঠিদের পাশপাশি স্বজনরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গতকাল সরজমিন হাসপাতালে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তিন তলার ৩৬ নম্বর কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সোহেল। গতকাল দুপুরে ওই কেবিনে গিয়ে দেখা যায় তিনি শরীর ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন।
পাশে বসে তাকে শান্তনা দিচ্ছেন তার স্বজন ও সহপাঠিরা। কি হয়েছিলো সেদিন এবং এখন শরীরের অবস্থা কেমন জানতে চাইলেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঘটনার দিন ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলার বন্ধুদের সঙ্গে ক্যারামবোর্ড খেলছিলাম। হঠাৎ করে শুরু হয় চিৎকার-চেঁছামেচি। কিছু লোক আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিলো। এইটুকু শুধু মনে আছে। আর কিছুই মনে নাই। ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ আমার সেন্স আসে। তখন নার্সরা আমাকে দেখিয়ে বলছিলো এই ছেলেটার অবস্থা খুবই খারাপ ও বাঁচবে না মনে হচ্ছে। এই কথা শুনার পরপরই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তারপর আইসিইউতে নিজেকে আবিষ্কার করি। পরে শুনেছি, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে বেধড়ক মারধর করে দুতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে। দুদিন আইসিইউ ও দুদিন এইচডিইউতে থাকার পর আমাকে কেবিনে দেয়া হয়েছে। এখন ডানহাত, বাম হাতের কনুই থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত এবং দুই পা নাড়াতে পারি না। শরীরের সর্বত্র ব্যাথা। মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় কোমর পিঠ নাড়ানো যায় না। মাথায় আঘাত পাওয়ায় ৪০টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তাই মাথা বেশি নাড়াছড়া করা যায় না। ব্যাথার কারণে ঘুমাতে কষ্ট হয়। খাওয়া দাওয়ার রুচি ছিল না। ৪/৫ দিন ধরে অল্প অল্প খেতে পারছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সেরে উঠতে আরো আড়াই মাস সময় লাগবে। কবে ছাড়পত্র পাওয়া যাবে সেটা তারা জানাননি। তবে বলেছেন চিকিৎসা চলবে। একই কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভিপি নুরের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম। মাথায় মারাত্বক জখমের কারণে তিনি চোখে ঝাপসা দেখেন। উচ্চ শব্দে কথা বা অন্য কোনো শব্দ শুনলেই অস্বস্তি লাগে। আমিনুল ইসলাম বলেন, বড় ভাই নুরকে নিয়ে তার হাতের চিকিৎসার জন্য ওই দিন ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলাম। সেখান থেকে আবার ডাকসু ভবনে যাই। তখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা অনেক কষ্ট করে তাদের ভবনের বাইরে ঠেলে দিয়ে গেট বন্ধ করে ডাকসু ভবনে অবস্থান নিয়েছিলাম। তারা গেইটের বাইরে অবস্থান করায় আমরা ডাকসু ভবন থেকে বের হতে পারি নাই। এর কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে বেশ কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ডাকসু ভবনে প্রবেশ করে। তারা এসে ভাইকে (নুর) হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলো। তখন তার আশেপাশে যারা ছিল তাদের তারা মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারছিলো। এসময় আমাদের সঙ্গে যারা ছিল তারা ছাত্রলীগের নেতাদের বলে ওকে মেরো না ভাই। ও ভিপি নূরের ছোট ভাই। আমি সভাপতি সনজিতের পায়ে ধরে বলি আপনারা আমাকে মেরে ফেলেন তবে আমার ভাইকে ছেড়ে দেন। তখন সনজিত আমাকে বলেন, তুই যখন তোর ভাইকে বাঁচানোর জন্য এসেছিস তখন তুই আগে মর। এই কথা বলে তিনি তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমার মাথায় জোরে আঘাত করেন। আমি চোখে অন্ধকার দেখতে পাই। তখন কেউ একজন বলছিলো ওকে বাইরে ফেলে দে। এরপর আর কিছুই বলতে পারি না। দুদিন আমার কোনো সেন্স ছিল না।
আইসিইউতে দুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর আামাকে কেবিনে এনে ভর্তি করা হয়। আমার মাথার বিভিন্ন অংশে চিকিৎসকরা ৩৩টি সেলাই দিয়েছেন। এতদিন চিকিৎসা নেয়ার পরও আমি এখনও স্বাভাবিক হতে পারি নাই। ঝাঁপসা দেখি চোখে। চিকিৎসকরা বলেছেন মাথার আঘাত থেকে চোখে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া একা হাঁটতে পারি না। দুর্বল লাগে। হাতে রডের আঘাতের ব্যাথা রয়েছে। হাসপাতাল থেকে কবে ছাড়া পাবো জানিনা। নিউরো ও কিডনি বিভাগের অধীনে আমার চিকিৎসা চলছে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৯০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের মেহেদী হাসান ও আরিফুল ইসলাম। তাদের দুজনের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। সিরাম ক্রিয়েটিন বেশি হওয়াতে কিডনি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছে না। তাই তাদের দুজনেরই কিডনি ডায়ালাইসিস চলছে। গতকাল ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা মেহেদী হাসান বলেন, আমার মাথায় আঘাতের জন্য তিনটি সেলাই দেয়া হয়েছে। হাটু, বুকে, ঠুটে ও হাতে রড, বাশের লাটি ও পাইপের আঘাত আছে। ঘটনার দিন আমাকে গণস্বাস্থ্য হাসাপাতালে নেয়া হয়েছিলো। সেখানে দুদিন থাকার পর ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। কয়েকদিন কেবিনে চিকিৎসা নেয়ার পর কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। পরে ৯০১ নম্বর ওয়ার্ডে আনা হয়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে আমার ডায়ালাইসিসি শুরু হয়েছে। সিরাম ক্রিয়েটিন ৩ পয়েন্ট ৪০ তে আছে। যেখানে স্বাভাবিক রেঞ্জ থাকার কথা ১ পয়েন্ট ৪ এর মধ্যে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই দিনের হামলায় আমার কোমর, মাথা, হাটু ও পিঠে আঘাত লাগে। এখনও এসব স্থানে প্রচুর ব্যাথা। উচ্চ রক্তচাপের পাশপাশি কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়েছে। চোখে রক্ত জমাট বেধেছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, সিরাম ক্রিয়েটিন ১ পয়েন্ট ৪ এর মধ্যে আসতে হবে। এখন সেটি সাড়ে ৬ পয়েন্টের কাছাকাছি। দুদিন আগেও সেটি ১০ পয়েন্টের উপরে ছিল। এখন পর্যন্ত তিনদিন ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। কিডনি স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে হলে আরও সময় লাগবে। চোখের রক্ত জমাট বাধা সারতে দেড় মাস সময় লাগবে। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। কিন্তু তারা আমার ভর্তি নেয়নি। পরে আমাকে নিয়ে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১দিন থাকার পর অবস্থা খারাপ দেখে সেখানকার চিকিৎসকরা আমাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। এখানে আমার চোখের চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু আমার চারদিন পায়খানা বন্ধ ছিল। কোমরে ব্যাথা বাড়তে থাকে। পেইন কিলার দেয়ার পর আরও ব্যাথা বাড়ে। পরে ২৬ তারিখ একটি পরীক্ষা করে দেখা যায় কিডনিতে সমস্যা। সিরাম ক্রিয়েটিন ১১ পয়েন্টে ছিল। পরে ডায়ালাইসিস করে কিছুটা কমিয়ে আনা হয়।
গত ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের ওপর হামলা করে মুক্তিযুদ্ধমঞ্চ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় ভিপি নূরসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মশিউর রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সোহেল, ধানমণ্ডি চাটার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তুহিন ফারাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জসিম উদ্দিন হলের নাজমুল হাসান, আয়াত উল্লাহ বেহেশতি, সাইফুল ইসলাম, ঢাকা সিটি কলেজের মেহেদী হাসান, জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল ইসলাম, ভিপি নুরের ছোট ভাই আমিনুল ইসলামসহ আরোও অনেকেই আহত হয়েছিলেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা কমিউনিটি ক্লিনিক এবং গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিটি নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া কিছু নয়

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সিটি নির্বাচন উপলক্ষে একদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্ক চলছে, অন্যদিকে চলছে নির্বাচনের প্রচারণা। হইচই হবে, মিছিল হবে, নির্বাচনের দু’দিন আগে দেখবেন সব ঠাণ্ডা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিটি নির্বাচনকে লোক দেখানো নির্বাচন মন্তব্য করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এই নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। এই নির্বাচনে আমরা অংশ গ্রহণ করছি। কারণ, আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি, যদি দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে এই সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করবে। কিন্তু সেটা তারা করতে দেবে না, এটা আমরা জানি। গণতন্ত্রের যে মৃত্যু ঘটেছে এই দেশে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার আবারও প্রমাণ করবে। আন্দোলন নিয়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, আন্দোলন ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অথবা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কোনটাই সম্ভব নয়। আন্দোলন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। অনেকেই মনে করেন একটু সফট হয়ে গেলে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বারবার আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটি সম্ভবপর নয়। আমাদের জন্য একটাই পথ সেটি হচ্ছে আন্দোলন। সেটি যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমরা সফল হবো, আর করতে না পারলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো পথ থাকবে না। কিন্তু আমি মনে করি আমরা ব্যর্থ হতে পারি। কিন্তু এদেশের জনগণ ব্যর্থ হবে না। কারণ এদেশের মানুষ দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রপ্রিয়।
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ চায় বিরোধীদল আন্দোলন করুক সরকার পতনের জন্য। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, তাঁতী দলের যুগ্ন আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় বোয়ালখালী উপজেলার একটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় কর্মী সমর্থকদের মারধর ও প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নবাব আলী সওদাগর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি ও পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু। তিনি বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমদ খানসহ নবাব আলী সওদাগর বাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমরা মানুষের বাড়ি ঘরে আশ্রয় নিই। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর এলাকবাসীর সহযোগিতায় ওই এলাকা ত্যাগ করি। নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়া বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করে আহত করেছে তারা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শুক্রবার সকালে ঘরে ঘরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করতে আসলে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক তাদের ঘিরে ফেলে এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রচারণা না চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করার জন্য বলেন। এ সময় ধানের শীষের কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে মারধর করেন। পরবর্তীতে তারা প্রচারণা না চালিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির প্রার্থীসহ কর্মী সমর্থকদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবরে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) একরামুল ছিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দুইটি এলাকায় দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সমপাদক পৌর প্যানেল মেয়র এসএম মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী শান্ত ও সুন্দর পরিবেশকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বিএনপি গুজব সৃষ্টি করছে। জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে এই ধরণের আজগুবি গল্পকাহিনী প্রচার করছে। বিষয়টি জানতে আবু সুফিয়ানের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সমপাদক আনোয়ার হোসেন লিপু বলেন, সকালে আমরা কালুরঘাটের পশ্চিম পাড়ে জনসংযোগ করতে যাই। এসময় দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বোরহানের নেতৃত্বে একদল যুবক আমাদের উপর হামলা করে। এসময় আমাদের বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হয়। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।

৬ বছরেও চার্জশিট দিতে পারেনি তদন্তকারীরা

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গোপীবাগে কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুকী ও তার ছেলেসহ ছয় জনকে গলা কেটে হত্যা ঘটনায় ৬ বছরেও চার্জশিট দিতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি থানা পুলিশ থেকে ডিবি এরপর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে আসে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একজনের স্বীকারোক্তি মতে এখনো অধরা রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির চার সদস্য। তদন্তকারীদের ভাষ্য, কথিত পীর খিজির খান হত্যার সঙ্গে জড়িত জেএমবি’র আট সদস্যের টিমের সঙ্গে গোপীবাগের সিক্স মার্ডারের সংশ্লিষ্টতা আছে। এছাড়া হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশিদ রিপনের সঙ্গে সিক্স মার্ডারের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এ কারণে সাগর ও রিপনকেও সিক্স মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডে ৬৪/৬ নম্বর আয়না বাড়ির দোতলায় কথিত ইমাম মাহাদীর প্রধান সেনাপতি পরিচয় দানকারী লুৎফর রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেন (৩০), মুরিদ সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২), রাসেল (৩০) ও বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আবদুলাহ আল ফারুক বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ঘটনায় দায় স্বীকার করে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির সদস্য তরিকুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দেন। তিনি জবানবন্দিতে জানান যে, জেএমবির শীর্ষ নেতারাই এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তের প্রধান সমন্বয়কারী ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ডিসি জানান, ‘মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে দেয়া হয়নি। কবে নাগাদ চার্জশিট জমা দেয়া হবে তা বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, খিজির খান হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল গাফফার নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তরিকুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ি, এই হত্যাকান্ডে আটজন অংশ নেয়। মাহফুজ, রনি, জাহিদ ও আতিক নামে চার জনের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। এছাড়া হলিআর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশিদ রিপনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’
মামলা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত লুৎফর নিজেকে ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি ও পীর দাবি করতেন। তিনি ও তার অনুসারীরা ধর্মের প্রচলিত রীতিনীতি ও অনুশাসনের বাইরে নিজস্ব ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করতেন। ধর্ম নিয়ে ভ্রান্তরীতি প্রচার করায় পুরনো জেএমবির কিলিং স্কোয়াডের সদস্য জামাই ফারুকের পরিকল্পনায় হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয় ৮ জন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জেএমবির দলটি প্রথমে লুৎফরের বাসায় ভক্ত সেজে ঢোকে। এরপর তার স্ত্রী ও পুত্রবধূকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে ছয়জনকে হত্যা করে।
সূত্র জানায়, রহস্যঘেরা সিক্স মার্ডার নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা শুরুর দিকে একেবারেই অন্ধকারে ছিলেন। ২০১৫ সালে বাড্ডায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও পীর খিজির হায়াত খান হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়েই মূলত সিক্স মার্ডারের রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। দুটি হত্যাকান্ড ও লুটপাটের ধরন প্রায় একই ছিল। এতে খিজির খান হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তার তরিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সিক্স মার্ডারের বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে সিক্স মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার দেয়া তথ্যে ভিত্তিতে জঙ্গি গাফফারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তরিকুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সূত্র জানায়, তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ি,এই হত্যাকান্ডে আটজন অংশ নেয়। মাহফুজ, রনি, জাহিদ ও আতিক নামে চার জনের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করে। তরিকুলের দেয়া নামগুলো জঙ্গিদের ছদ্মনাম হতে পারে। ওই চারজন ছাড়া আরও কেউ হত্যায় জড়িত থাকতে পারে। চলতি বছরের মে মাসে তদন্তকারী সংস্থা হলিআর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারীদের হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশীদ রিপনকে গ্রেপ্তার দেখায়। মামলার বাদী নিহতের ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, তদন্তকারীরা এখনো চার্জশিট দিতে পারেনি। কেন আমার বাবাকে খুন করা হলো তা জানতে পারলাম না।

By using this site, you agree to our Privacy Policy.
View more
Cookies settings
Accept
Privacy & Cookie policy
Privacy & Cookies policy
Cookie name Active
Terms of Use We welcome readers and visitors to our “Terms of Use’ of Loksamaj and its associated websites, its contents, services and applications. Individuals may access the content in several ways using multiple channels including but not limited to www, digital, social platforms, SMS and RSS feeds using multiple devices including but not limited to computers, mobile phones and PDAs. By using our content and services, that is , by reading or using any content, picture or information whatsoever, the reader/visitor accepts our “Terms of Use” including Loksamaj’s Privacy Policy. If anyone has any objection or reservation to any clause in this “Terms of Use” or the Privacy Policy, she or he may raise the issue with Loksamaj by sending an email at loksamaj@gmail.com. However, Loksamaj reserves all right to reject or accept any such objection or reservation. All users of Loksamaj are required to abide by this “Terms of Use”. Failure to comply with the terms may lead to, among others, suspension of account or prohibition from access to the website. By entering the website of Loksamaj or using applications of Loksamaj, readers/visitors are deemed to have received services from Loksamaj. These services include text, audio, video, images, software etc. Intellectual Property Rights Loksamaj’s content, logos, copyright, trademarks, patents, images, text, graphics, logos, domain names, audio, video and other related intellectual property rights or other features of Loksamaj brand and name belong to Loksamaj or to its licensors. Users cannot claim any rights in and/or our licensor’s intellectual property whether for commercial or non-commercial use. Users are also prevented from making any derivative work from the content of Loksamaj. Infringement of copyright or any other intellectual property of Loksamaj may be sent at loksamaj@gmail.com. Your use of our services Site readers/visitors are required to use Loksamaj services only for lawful means and for read-only purposes. The audio and visual elements of the website or application can only be listened to and viewed and nothing beyond. Loksamaj encourages its readers to share its content(s) in their social media profile, groups and related communities. However, the contents of our services must not be shared with anyone or with any other digital platforms with any modification or alteration. Readers/Visitors are prohibited from hacking the website, or trying to get around our content security setup. The users must use the services only for non-commercial purposes, regardless of whether the person or entity is a commercial entity or not. We grant our users only a license to access and use our services and intellectual property rights subject to the following usage restrictions: users may use available services for personal, private and non-commercial purposes only, the users must not exploit, sell or use any content appearing on our services for any kind of commercial purposes (this does not apply to any user content posted by an individual and in which a visitor/user retains ownership rights), the users must not use provocative or offensive language, pictures or comments targeting the contents of Loksamaj. Taking down contents Loksamaj can take down contents at any time at its sole discretion from its website or application. Readers/Visitors cannot refuse to remove content, games or apps from their respective devices if asked by Loksamaj. This might happen when Loksamaj or its services are taken down. Unauthorized and prohibited activities The user is specifically required not to associate Loksamaj with any political party, racism, sexism or otherwise damage its reputation. The user is also prohibited from defaming Loksamaj or defaming any other person or entity, or commenting on any court proceedings that may amount to a contempt of court. Harassing, bullying or upsetting the people or any other user is strongly prohibited. The user must not post or upload any image or comment which is offensive or obscure or immoral. Personal attack by way of comment or image is likewise prohibited.. Protection of Users Device Readers/Visitors are required to take their own precautions and protections in this respect as Loksamaj does not accept any responsibility for any attacks by virus or malware or any other contamination or by anything which has destructive properties. Loksamaj strictly does not hold any responsibility for infection of virus or contamination of your machine or device through your access to any third-party contents. Third party contents may include, but is not limited to Google ads. Any content which is not generated by Loksamaj itself is a third-party content, regardless of whether the content appears on the website of Loksamaj or not. Prohibition on sharing mark, contents, images, etc. Loksamaj prohibits the users from sharing marks, contents or images for whatever purpose, be it commercial or not. When sharing of contents, images or marks are permitted or authorized, then such sharing must be done by attributing the credit and name to Loksamaj in such manner that the attribution is clearly visible when the image or content is generated by Loksamaj. All users are prohibited from taking credit from the contents or images shared, published or generated by Loksamaj. Redirecting to other Websites Loksamaj will not accept any kind of liability if the user is redirected to any other website including unwanted websites from the Loksamaj. Third Party Contents Loksamaj does not bear any responsibility or liability whatsoever for any third-party contents. Third party contents include such contents which are not generated or produced by Loksamaj. It includes contents, images and texts which are uploaded or displayed by Loksamaj but which are created or generated or produced by someone or entity other than Loksamaj. Privacy Policy The entire Privacy Policy of Loksamaj is an integral part of the “Terms of Use”. All clauses in the Privacy Policy are hereby incorporated by reference, except for the clauses which are similar or have the same meaning. Advertisement The advertisements included in the Loksamaj website and mobile apps, are by third-party companies, which may collect information about users for which Loksamaj shall bear no responsibility that may arise as a result of collecting and/or sharing the information with any other party. Loksamaj shall not accept any liability that may arise as a result of any content of any advertisement that may appear on the Loksamaj website. Modification of Terms of Use Loksamaj reserves the right to amend, modify, alter, or omit any terms in the “Terms of Use” at any time but the changed policy shall be immediately uploaded or updated in the website. By continuing to use our services after any changes are made, you accept those changes and will be bound by them. We encourage readers/visitors to periodically check back and review this policy to always know what information we collect, how we use it, and with whom we share it. Use of Cookies Loksamaj does not collect any user data based on cookies, nor does it store any sort of user information that may be personal to the user. If a third party associated with the Loksamaj website collects user cookies upon your visit to the Loksamaj website, Loksamaj does not control the use of these cookies. Therefore, visitors/users should check the relevant third-party websites. When users register with Loksamaj, personal identity information is collected for authentication. The information Loksamaj collects is not shared with any third party. However, Loksamaj may use the information to send messages, information from Loksamaj or any of its associated companies. Communication by Loksamaj From time to time, Loksamaj may contact its users via e-mail, phone or SMS for invitation for participation in events, campaigns/competitions, feedback and surveys etc. organized by Loksamaj. User Generated Content Users of Loksamaj may submit post and/or upload content (including comments, pictures, videos). In posting content, users confirm that they are the owner or have consent from the owner to post the content and that the content is not obscene, harassing, deceptive, threatening, libelous, invasive of another’s privacy, offensive, fraudulent, defamatory of any person or illegal. Loksamaj does not endorse any user generated content nor does it guarantee the accuracy or authority of any user generated content. Furthermore, while using the Loksamaj website readers/visitors agree not to (i) post content which is deliberately intended to upset or harm other users; (ii) use the Loksamaj website to post or otherwise transmit content that victimizes, harasses, degrades, or intimidates an individual or group of individuals on the basis of any impermissible classification, including, without limitation, religion, gender, sexual orientation, race, color, creed, ethnicity, national origin, citizenship, age, marital status, military status or disability; (iii) post or otherwise transmit any content that contains software viruses or any other computer code, files, or programs designed to interrupt, destroy, or limit the functionality of the Loksamaj website or any computer software or hardware or telecommunications equipment; (iv) upload or otherwise transmit any content, or take any other actions with respect to use of the Loksamaj website, that would constitute, or would otherwise encourage, criminal conduct or give rise to civil liability. Loksamaj reserves the right to remove any user’s content, suspend or discontinue one’s opportunity to submit post and/or upload content, at any time and for any reason at its sole discretion without any notice and without further recourse to users. Loksamaj usually filters the content of the website and in the event that any offensive, unpleasant or distasteful comment and/or picture is published regardless of the filtration process Loksamaj shall not accept any liability arising out of it. In the event that users post any comment that may be regarded offensive, degrading, inappropriate or objectionable by any reasonable person or Loksamaj, Loksamaj may use personal information of the concerned to prevent such behavior. Accessing the website from outside Bangladesh All personal information submitted by users outside Bangladesh will be processed in accordance with these “Terms of Use” and Privacy Policy. Disclaimer Loksamaj aims to provide its users with the best service. However, it does not and cannot promise that all the information provided within its service including multimedia content like images & videos will always be accurate. The contents provided by Loksamaj are for information purposes only and do not constitute advice. All Loksamaj’s services are provided without any warranties or guarantees. Posting and Viewing Contents Readers/visitors acknowledge and agree that when they post content on Loksamaj website or view content provided by others, they are doing so at their own discretion and risk, including any reliance they place on the accuracy, completeness, of that content. Some of the information provided by Loksamaj is supplied by Third Parties. Loksamaj has no control over third party content and Loksamaj is unable to guarantee the accuracy of such third-party content. Before relying on any information, whether it is from us or from any third party partner, Loksamaj advises you to verify the accuracy of such information. Interruption, cross-connection or unavailability of website or application Whilst Loksamaj will do its best to ensure that its service is fully operational at all times, it is not responsible for and shall not be liable to users for any problems or temporary interruptions in using our services arising from factors outside of its control (e.g. technical problems from traffic congestion on the internet) or for any problems arising from participating in or from downloading third party content. To the extent permissible by law, Loksamaj is not responsible for any loss or damage resulting from use of its services or from any content posted in its website. Governing Law The laws that govern “Terms of Use” of Loksamaj and its relationship with the user is the laws of Bangladesh and any dispute regarding the use, retention, disclosure, leakage or dissemination of the information or date can only be raised in arbitration in accordance with the Arbitration Act, 2001. The place of arbitration shall be Dhaka, Bangladesh and the arbitral tribunal shall consist of three members. The courts of Bangladesh shall have exclusive jurisdiction on this matter. The entire “Terms of Use” shall apply to all who enter the website, receive service or use an application from Loksamaj regardless of their nationality, location, residence or place of business. Opt-out If, at any time, the users prefer not to receive email containing marketing information from us, then the user can simply follow the unsubscribe options at the bottom of each email. If the users no longer wish to have a registered account, the user may terminate the account by sending an email to loksamaj@gmail.com.
Save settings
Cookies settings