ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে বদলে গেছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিত্র

0

বি এম আসাদ ॥ জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভার কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তেই পাল্টে গেছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র। যানজট ও দালালমুক্ত পরিবেশে রোগীরা এখন নির্বিঘ্নে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। এতে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুদিন ধরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে কোনো দালালের বিচরণ নেই। নেই কোনো যানজটও। চারিদিকে এখন এক নির্মল পরিবেশ। এই শান্তিময় আবহের মধ্যে রোগী ও দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন এবং কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালে পূর্বের মতো হৈ-হল্লা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ না থাকায় রোগীরা আছে স্বস্তিতে। বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিশৃঙ্খলা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়ও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল যেন একটি আদর্শ চিকিৎসালয়; যেখানে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। এর আগে হাসপাতালটিতে চোর, পকেটমার ও দালালের উপদ্রবসহ সামনের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা লেগেই থাকত। এসব অনিয়মের কারণে রোগীরা প্রতিনিয়ত অতিষ্ঠ হতেন এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তবে গত ১৬ মে থেকে সেই চিরাচরিত চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। গত শনিবার (১৬ মে) জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে কমিটি’র প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রহরীদের নির্দিষ্ট পোশাক (ড্রেস) পরিধান, আনসার সদস্য নিয়োগ, যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিষিদ্ধকরণ, তিন শিফটে ১৮ জন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব পালন এবং দালাল ও বহিরাগত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সাব-কমিটি গঠনসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং যশোরের জেলা প্রশাসকসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী জনস্বার্থে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হাসপাতালটিতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আহসান কবির বাপ্পি জানান, মানুষ যাতে নিরাপদ ও সহজ উপায়ে হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।