জনগণের সঙ্গে বিএনপি কখনো ওয়াদার বরখেলাপ করে না : প্রতিমন্ত্রী অমিত

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,এমপি বলেছেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে সকল উপজেলা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ছিল সামাজিক চুক্তি, সরকার গঠনের পর সেটি রাষ্ট্রীয় চুক্তিতে পরিণত হয়েছে।

সরকারের পথচলার প্রথম দিন থেকে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান, সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ ও খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।

এই যশোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খননকৃত উলাশীর খাল পুনঃখনন করেন। সেই খালের ওপর নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ এবং নকশা চূড়ান্ত হয়েছে, অচিরেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। বিএনপি যা বলে, সেটি করে। বিএনপি কখনো জনগণের সাথে ওয়াদার বরখেলাপ করে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে চাঁচড়া ইউনিয়নের বর্মনপাড়া নদীয়ার মোড়ে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যে গ্যাস এবং কয়লা লাগে সেটি আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গ্যাসের মূল্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এক ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কিনতাম, যা সর্বশেষ ২৮ ডলারে কিনতে হয়েছে। সারাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের কোনো সংকট যেন তৈরি না হতে পারে, তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মনোনিবেশ করেছি।

সরকারি-বেসরকারি ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেচের বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সকল সেচ পাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সোলারের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, নিজ নিজ এলাকা সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত রাখতে পারলে শান্তি থাকবে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেই আন্দোলনে আমার রাজনৈতিক দল সর্বতোভাবে পাশে থাকবে। যশোর জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন সহায়তা করবে। হৈবতপুর, লেবুতলা, কাশিমপুর ও চূড়ামনকাটি ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্পের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি।

ছবি: লোকসমাজ।

ভেঙে পড়া অবকাঠামো নতুন করে উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি। এই এলাকায় কোনো ভাঙা রাস্তা থাকবে না।’
বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল আলম প্রমুখ।