মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ড্রেজিং শেষ, বড় জাহাজ ভিড়বে সরাসরি জেটিতে

0
মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ড্রেজিং শেষ

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা, লোকসমাজ ॥ দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর সমাপ্তির পথে মোংলা বন্দরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যানেল ড্রেজিং প্রকল্প। নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আগামী ৩০ জুন প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী শওকাহ হোসেন জানান, বন্দরের হারবাড়িয়া থেকে জেটি পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয় ২০২১ সালের ১৩ মার্চ। এর আগে প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ড্রেজিংকৃত বালু ফেলার স্থান (ডাম্পিং ইয়ার্ড) নিয়ে জটিলতা এবং চ্যানেল বারবার পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়াতে হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়ও। শুরুতে প্রকল্পটির জন্য ৭৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিন ধাপে সংশোধনের পর চূড়ান্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৯২ কোটি টাকায়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পশুর চ্যানেলের নাব্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে বড় আকারের সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে।

প্রকল্প পরিচালক শওকাহ হোসেন বলেন, “একটি সমুদ্রবন্দর সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের গভীরতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চ্যানেলের নাব্যতা কমে গেলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং ব্যবসায়ীরা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারান।”

তিনি আরও জানান, মোংলা বন্দরের আউটার বার ড্রেজিংয়ের পর এবার ইনার বার ড্রেজিং কার্যক্রমও সম্পন্ন হলো। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চ্যানেলের গভীরতা বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণমূলক (মেইনটেন্যান্স) ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।