বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড় শুকিয়ে অস্তিত্ব সংকটে

দখল-দূষণে হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

0
যশোরের বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড় শুকিয়ে অস্তিত্ব সংকটে
দখলে ও দুষণে যশোরের চৌগাছার বৃহৎ বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের এক কিলোমিটার এলাকা এখন গোচারণ ভূমি

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড় দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খরা মৌসুমে বাঁওড়ের বড় অংশ শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ চাষ হুমকির মুখে পড়েছে, পাশাপাশি বিপর্যস্ত হচ্ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
উপজেলার দক্ষিণে অবস্থিত প্রায় ৫৫৮ একর আয়তনের সরকারি এই বাঁওড়টি একসময় পানিতে পরিপূর্ণ ছিল। স্থানীয়ভাবে এটি ফতেপুর বাঁওড় নামেও পরিচিত। তবে গত এক দশকে দখল ও পলি জমার কারণে এর বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁওড়ের পূর্বপাশে বেড়গোবিন্দপুর গ্রামে প্রবেশের ব্রিজ থেকে মশ্মমপুর মোড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে পুকুর খনন করা হয়েছে। ফলে ওই অংশটি প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
বর্ষা মৌসুমে কিছু পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা দ্রুত শুকিয়ে যায়।
একসময় যেখানে পানিতে ভরা ছিল, সেখানে এখন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শুকিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরাঞ্চল। স্থানীয়রা সেখানে গবাদিপশু চরাচ্ছেন।
এছাড়া বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে, অনেকে পিকনিকও করছেন। এমনকি শুকনো বাঁওড়ের ভেতর মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনাও দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীণরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পলি জমে বাঁওড়ের বিশাল অংশ আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় পানি এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
দর্শনার্থী শিমুল হোসেন বলেন, “লোকমুখে শুনে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সবুজ ঘাসের ওপর হাঁটতে ভালো লাগছে, তবে জায়গাটির আগের অবস্থার কথা শুনে খারাপ লাগছে।”
স্থানীয় সাইফুল ইসলাম, হোসেন আলী ও টিপু সুলতান জানান, দখলদারদের কবল থেকে বাঁওড় উদ্ধার করে দ্রুত খনন করা হলে এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।
বাঁওড়ের পানি কমে যাওয়ায় মাছ চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দখল হওয়া জমি উদ্ধার, বাঁওড়ের শুকিয়ে যাওয়া অংশ খনন করে
দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ
নিলে এই ঐতিহ্যবাহী জলাশয় আবারও তার হারানো প্রাণ ফিরে পেতে পারে।