যশোর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে দাবি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট যশোরবাসীর আগামী দিনের প্রয়োজন তুলে ধরেছেন যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির ঐতিহাসিক জনসভায় প্রতিমন্ত্রী তার বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিগত ১৯ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার এবং অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় যশোরের গ্রামীন অবকাঠামোর কোন উন্নয়ন হয়নি। কোন পাকা রাস্তা দিয়ে পাঁচ কদম হেটে যাওয়ার পর দেখা যায় সেই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। যশোর পৌরসভায় আমি জন্ম নিয়ে বড় হয়েছি সেই পৌরসভা কোন দিন পানির নিচের তলিয়ে যাবে এটি কোন দিন ভাবার সুযোগ হয়নি।

সামান্য বৃষ্টিতে যশোর পৌরসভার বিস্তৃর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে যায়। মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর এবং সদরের কিছু এলাকায় দীর্ঘ সময় ভবদহ জলাবদ্ধতায় কষ্ট পায়। হাজার হাজার জমির ফসল নষ্ট হয়। ওই জনপদের মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে বঞ্চিত হয়।

আপনার মাতা আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হৃদয় উজাড় করে দিয়ে ওই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য কাজ করেছেন। বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে সরকারকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব প্রদান করি।

কিন্তু কাঙ্খিত উন্নয়নের ছোঁয়া আজও বেনাপোল স্থল বন্দরে লাগেনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা করে গেছেন তারপর কিছু যুক্ত হয়নি। যশোর একটি কৃষি প্রধান এলাকা বিশেষায়িত একটি হিমাগার তৈরির আকাঙ্খা ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। যাতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি হিমাগারের রেখে উপযুক্ত দাম পাবার পাশাপাশি সারা বছর বাজারে সবজির সরবরাহ রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আপনি নির্বাচনের আগে যশোরে বলেছিলেন যশোরের ফুলের সৌরভ সারা বিশ্ব গ্রহণ করুক এটি আপনার প্রত্যাশা। তাই গদখালির ফুল চাষিদের উন্নয়নে নিশ্চয়ই আপনার বিশদ কর্মপরিকল্পনা রয়ে গেছে। খুলনা থেকে যশোরে আসতে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা লাগে কারণ সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। যশোর থেকে ঝিনাইদহ এরপর কুষ্টিয়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল দশা। ভাঙ্গা থেকে নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যান্ত নাজুক।

আমার যশোরের মানুষ অতিথি পরায়ন আমরা সৌজন্য এবং শিষ্টাচারে বিশ্বাস করি। তাই আমি বলেছিলাম আপনি প্রথমবার যশোরে আসছেন। আপনার কাছে সৌজন্যের জায়গা থেকে কোন দাবি উপস্থাপন করবো না। যশোরের সন্তান হিসেবে যশোরবাসীর একজন হিসেবে আমার দায় রয়েছে মানুষের প্রয়োজনী কথা তুলে ধরার। যশোরবাসী স্বপ্ন দেখে যশোরের যদি একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা যায়।

অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যাদেও নতুন ভবনের প্রয়োজন, শিক্ষকরা তাদের চান তাদের প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণ। প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীর এই প্রত্যাশা পূরণের সামর্থ্য আমাকে দেয়নি কিন্ত আপনাকে দিয়েছে। আপনি পারেন যশোরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে। যশোরবাসী রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে। আমরা দলের ৬৮ জন সহকর্মী জীবন দিয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে বাড়িÑঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি।

তাই যশোর বাসীর সন্তান হিসেবে কষ্টের কিছু কথা আপনার কাছে তুলে ধরলাম। যশোরবাসীর প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় নিবেন এটি আপনার কাছে আমার বিনয়ের সাথে চাওয়া।