ভায়না নদীর নাম-নিশানা মুছে ফেলার চক্রান্ত

২০২১ সালে জেলা প্রশাসকের দায়ের করা মামলা আজও নিষ্পত্তি না হওয়া এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে নদীটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত

0

jashore-jhikorgacha-radhanagarস্টাফ রিপোর্টার,লোকসমাজ॥ যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ভায়না নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। শার্শার ইছামতি থেকে উৎপন্ন হয়ে ঝিকরগাছার রাধানগর হয়ে কপোতাক্ষে মিশে যাওয়া এই নদীটি এখন দখলদারদের ব্যক্তিগত মাছের ঘেরে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালে জেলা প্রশাসকের দায়ের করা মামলা আজও নিষ্পত্তি না হওয়া এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে নদীটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।দখলের মহোৎসব ও মাছের ঘের
সরেজমিনে দেখা যায়, ভায়না নদীর বুকজুড়ে এখন আর পানির কলতান নেই; বরং সেখানে তোড়জোড় চললে অননুমোদিত মাছের ঘের তৈরির। প্রভাবশালী দখলদাররা ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাধানগরে নদী ও খালের মাঝখানে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ আটকে দিয়েছে। রাধানগর সংলগ্ন জিয়া খালের সংযোগস্থলেও চলছে অবাধে ঘের নির্মাণ। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক জলধারা রুদ্ধ হয়ে এখন অস্তিত্ব বিলিনের পথে।
প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ভায়না নদীর এই করুণ দশা এবং অবৈধ দখলদারিত্বের বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। তবে এলাকাবাসী যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে, ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাবান্বিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সাইফুল কবির। তিনি দাবি করেন, “ভূমি অফিস দখলদারদের পক্ষে নয়, বরং নদীটি দখলমুক্ত করতেই আমরা মামলা লড়ে যাচ্ছি।” তবে মামলা চলমান থাকলেও কেন নতুন করে মাছের ঘের তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
বরং এই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ভায়না নদী চেনেন না বলে জানিয়েছেন। অথচ তিনি সরকারের করা মামলায় আগামী ২০ এপ্রিল সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন। অথচ ওই মামলার অভিযোগে যে একটি নদীর কথা উল্লেক করেছে বাদি পক্ষ সরকার , সেই নদী সম্পর্কেই তার কোন ধারণা নেই। রাধানগরে ভায়না পাড়ের মানুষ তাকে বিশ্বাস করে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই তিনি ভায়না নদী দেখে আসবেন।
ঝুলে আছে ডিসির মামলা, বিপন্ন কৃষি : উল্লেখ্য, নদীটি উদ্ধারে ২০২১ সালে সরকারের পক্ষ থেকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তিন বছর অতিবাহিত হলেও মামলার আইনি কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় দখলদাররা আরও বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলে নিজামপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় প্রতি বছর কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে চলমান মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রভাবশালীদের অবৈধ মাছের ঘের উচ্ছেদ করে ভায়না নদী পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। নদীটি উদ্ধার করা না গেলে ওই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।