যশোরে শিশু একাডেমিতে বিভাগ বৈষম্য, সুযোগ হারাচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীরা

কেন্দ্রীয় নীতিমালার বাইরে গিয়ে ‘ক’ বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরা।

0

বিশেষ প্রতিনধি, লোকসমাজ : বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিভাগভিত্তিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ‘ক’ বিভাগে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুধু শিশু একাডেমি নয়, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতাতেও এই নিয়মই প্রচলিত। তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে শিশু একাডেমি যশোর।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যশোরেও ‘ক’ বিভাগ বলতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্তই নির্ধারিত ছিল। এমনকি গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তিতেও প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ১৬ ফেব্রুয়ারি সেই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে ‘ক’ বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে এই নিয়মই বহাল রয়েছে, যার ফলে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরা।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ভাষা দিবস প্রতিযোগিতায় ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, চিত্রাঙ্কন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনই চতুর্থ শ্রেণির। হাতের লেখা ও আবৃত্তিতেও একই চিত্র। তিন ক্যাটাগরিতেই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আধিপত্য দেখা গেছে। স্বাধীনতা দিবসের রচনা প্রতিযোগিতার ‘ক’ বিভাগে দুইজন চতুর্থ শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়। আবৃত্তিতেও দুইজন চতুর্থ ও একজন তৃতীয় শ্রেণির। চিত্রাঙ্কনেও যথারীতি দুইজন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পুরস্কার পায়। সর্বশেষ নববর্ষের প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কনে একজন চতুর্থ ও দুইজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়। তবে রচনা প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন জনই চতুর্থ শ্রেণির।
তথ্যমতে, একই চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র তিনটি ভিন্ন আয়োজনের সব ইভেন্টে পুরস্কৃত হয়েছে। অথচ বিভাগ বিভাজনের এই পরিবর্তনের ফলে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় টিকতেই পারছে না।
সারা দেশে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে যশোরে কেন এই পরিবর্তন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস বলেন, স্থানীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এর স্বপক্ষে নীতিমালা রয়েছে। তবে অন্য জেলায় কেন এমন নিয়ম নেই বা ছোট শিশুদের বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত কর্মকর্তা যশোরে টানা ১৫ বছর ধরে কর্মরত আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তার অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘকাল এক স্থানে থাকায় তার মধ্যে স্বেচ্ছাসচারিতা তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট কাউকে সুবিধা দিতে বা কাউকে খুশি করতেই তিনি নিয়মের এই পরিবর্তন ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।