বনদস্যু আতঙ্কে সুন্দরবনে অর্ধেকে নেমেছে মধু সংগ্রহকারী

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা,লোকসমাজ : গত বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহকারী।মধু আহরণের চলতি মৌসুম শুরুতে সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্কে মৌয়ালরা বনে যায়নি। ফলে মধু সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভব রয়েছে। ফলে একদিকে তৈরি হয়েছে বনজীবিদের জীবিকার সংকট অপরদিকে বন বিভাগ হারাচ্ছে রাজস্ব।
মৌয়ালদের অভিযোগ, বনদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বনে প্রবেশ ও নিরাপদে মধু সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিক ডাকাত দলের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন ও প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকে। বনে প্রবেশ করতে নৌকা প্রতি বনদস্যুরা ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল। চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। মৌসুম শুরু হলেও এবার মৌয়ালরা তুলনামূলকভাবে কম পাস নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনের বাগেরহাট এলাকায় ১ হাজার কুইন্টাল মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বনদস্যুদের আতঙ্কে মৌয়ালরা বনে না যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৫ জন মৌয়াল জানান, বছরের এই মৌসুমে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গেলেও এবছর বনদস্যুদের ভয়ে এখনও বনে যেতে পারেননি।
বনদস্যুদের সাথে যোগাযোগ করে টাকা দিয়েই বনে ঢুকতে হয়। তা নাহলে অপহরণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি থাকে।
বনদস্যুদের সাথে কথাবার্তা চলছে, বনিবানা হলেই মধু সংগ্রহে যাবেন বলে জানান তারা।
শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো. খলিলুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২১টি নৌকায় ১২০ জন মৌয়াল সুন্দরবন গেছেন। তবে দস্যু আতঙ্কে এবার মৌয়ালদের আগ্রহ কমে গেছে। গতবছর শরণখোলা স্টেশন থেকে মৌসুমের প্রথমদিনেই মৌয়ালরা ২৯টি পাস নিয়েছিল, কিন্তু এবছর দস্যুদের আতঙ্কে পুরো মৌসুম জুড়ে ২৯টি পাস নিবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে এখন পর্যন্ত ৯৩টি নৌকা ৩১টি পাস নিয়ে ২৫১ জন মৌয়াল মধু সংগ্রহ করতে গেছেন।
তবে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী চাঁদা দাবি করায় ৬টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৮২টি পাস নিয়ে ৫১১ জন মৌয়াল মধু আহরণে গেছে।গত এক মাসে ১০৭ কুইন্টাল মধু সংগ্রহ করেছে। যা থেকে রাজস্ব আসছে ৪ লাখ ৮হাজার ৮শ টাকা। গত বছর মৌসুম জুড়ে ২০০টি পাস নিয়ে ১৩০০ মৌয়াল মধু আহরণে গিয়েছিল। গতবছর মধু ৬৫০ কুইন্টাল ও মোম ২০০ কুইন্টাল উৎপাদন হলেও এবছর মৌয়ালদেও অনাগ্রহে এই পরিমাণ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌয়ালদের এই অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে। মৌয়ালরা দস্যুদের কবলে পড়লে তাদের উদ্ধার করতে বনরক্ষী তৎপর রয়েছে।