উত্তরের হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীতের আশঙ্কা

0

আকরামুজ্জামান ॥ ডিসেম্বরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলেও জানুয়ারির শুরুতেই যশোরসহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, এ বছর ডিসেম্বর মাসে শীতের প্রকোপ তেমন বেশি হয়নি। তবে জানুয়ারির শুরুর দিক থেকে শীত বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার বিকেল থেকে যশোরাঞ্চলে উত্তরের হিমেল হাওয়া বইছে। যেকারণে দ্রুতই তাপমাত্রা কমছে। আর তাপমাত্রা যতটা কম হোকনা কেনো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে কুয়াশার আধিপত্য ছিলো বেশি। যেকারণে দিনের বেলাতেও সড়ক ও মহাসড়কে ঘন কুয়াশায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হয় যানবাহনগুলোকে। ঘরের বাইরে গেলে শরীরে কাঁপন সৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, খুব দ্রুতই এ অঞ্চলে তীব্র শীত জেঁকে বসতে পারে। যা পুরো জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বিরাজমান থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর এ তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ হলে তা মাঝারি, তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তা তীব্র আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা।
এদিকে হঠাৎ যখন এ অঞ্চলে শীত ও কুয়াশা জেঁকে বসছে, তখন যশোরের বিস্তীর্ণ মাঠে বোরো আবাদের কাজ পুরোদমে চলছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট বাড়ছে বলে কৃষি বিভাগ বলছে। পাশাপাশি বোরোর বীজতলা কোল্ড ইনজুরির কবলে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আবু তালহা বলেন, চলতি মৌসুমে যশোরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। এর বিপরীতে বীজতলা রয়েছে ৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে জেলার ৮ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার ২ শতাংশ জমিতে ধানের রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আমরা শীত ও কুয়াশার মধ্যে ধানের চারা রোপণে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছি। এই মুহূর্তে রাতের বেলা বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে রক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে যশোরে ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি রয়েছে। এরমধ্যে ১৫শ ৫০ হেক্টর জমিতে আলুক্ষেত রয়েছে। শীত বেশি পড়লে এসব সবজির কোনো ক্ষতি নেই। তবে কুয়াশা বাড়লে আলু ক্ষেতের সমস্যা হতে পারে।