কেশবপুর সদরে জলাবদ্ধতা, বাড়িঘরে পানি, রাস্তার টোঙ ঘরে ঠাঁই

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বন্যার পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কেশবপুর সদরে বাসিন্দারা। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা। ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন শ’ শ’ পরিবার। তলিয়ে গেছে পৌর সদরের কয়েক কিলোমিটার সড়ক। থকমে গেছে সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজ।
পৌরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে বর্তমানে কেশবপুরে পৌর সদরের ৬০ ভাগ পানিতে নিমজ্জিত। গেল মাসের কয়েক দফার ভারি বর্ষণে পৌরসভার নিম্নাঞ্চলে এমন জলাবদ্ধতার তলিয়ে গেছে পৌরসভার নিম্নঞ্চল। বিশেষ করে পৌরসভার আলতাপোল, বালিয়াডাঙ্গা, মধ্যকুল, বায়সা, হাবাসপোল, ভৌগতি, মাছ বাজার, ধানপট্রি, গোলাঘাট, বিদ্যানন্দকাটি সড়ক এ সকল অঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি এ সকল অঞ্চলের বাসিন্দারা সড়কের দুই ধারের পাশে টোঙ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বানভাসি মানুষের ঠাঁই হয়েছে। সেই সাথের মানুষের চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানের মানুষকে কলা গাছের ভেলাও চলাচল করতে দেখা গেছে। শনিবার এই প্রতিবেদক পেশাগত কাজে কেশবপুরে পৌর সদরে যান। বিভিন্ন স্থান ঘুরে বন্যার এমন চিত্র উঠে আসে।
পানিবন্দী কেশবপুর পৌর সদরের মধ্যকূল গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় এক মাস বাড়ি-ঘর ছেড়ে সড়কে পাশে আশ্রয় নিয়েছি। সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কোন উপায় নেই। কলা গাছের ভেলায় ভেসে যেতে হচ্ছে। আমার শ’ শ’ পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে অনেকে রাস্তার পাশে কিংবা বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের চলাফেরায় ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে।
সেখান থেকে আলতাপোল এলাকায় গিয়ে কথা হয় গৃহবধু লক্ষী রানীর সাথে। তিনি বলেন, এই এলাকার শতকার ৯০ ভাগ পানির নিচে। কোন স্থানে মানুষের বাড়ি-ঘরে হাটু থেকে কোমর পানি পর্যন্ত রয়েছে। প্রায় প্রতিটি সড়ক পানির নিচে। কোন সড়ক দিয়ে চলাচলের উপায় নেই। কলার ভেলায় চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনি পাশের ডিগ্রী কলেজের অবস্থা মাঠের অবস্থা দেখেন। তাহলে কেশবপুরের পৌর সদরের বন্যার প্রকৃত চিত্র অনুধাবন করতে পারবেন। কেশবপুর ডিগ্রী কলেজের মাঠ পুরো পানির তলে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কেশবপুরের পৌর সদরের বাসিন্দাদের জনজীবন একদিকে যেমন থমকে গেছে। ঠিক তেমনই উন্নয়ন মুলক কর্মকা-ও থমকে গেছে। বিশেষ (আই ইউ জি আই পি) প্রকল্পের অধীনে পৌরসদরের বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন মূলক কাজ চলছে। বিশেষ করে বায়সা সড়ক, ঈদগাহ মোড়, খ্রিস্টান পাড়া, বিদ্যানন্দকাটি সড়ক, বায়সা সড়কে, মধ্যকূল, গোলাঘাটাসহ বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান। এর মধ্যে অধিকাংশ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে চলমান উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে শ শ পরিবার। বানভাসি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।