তেলের দীর্ঘ লাইন উধাও: সরবরাহ বৃদ্ধি ও চড়া দামে স্বাভাবিক হচ্ছে পাম্পের চিত্র

0
সরবরাহ বৃদ্ধি ও নজরদারির ফলে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে তেলের পাম্পগুলো।। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই মাস ধরে চলা জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি শেষ হতে শুরু করেছে। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন আর আগের মতো যানবাহনের ভিড় নেই; বরং স্বাভাবিক সময়ের মতোই গাড়িগুলো জ্বালানি নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। পাম্প মালিক ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলো বলছে, মূলত বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাপক হারে বাড়ানো এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে অবৈধ মজুতের প্রবণতা কমে আসায় এই স্বস্তি ফিরেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশের জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। গত ১০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৭৮০ টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একইভাবে ডিজেলের সরবরাহও গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজার ৪৬৩ টন করা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১৮ এপ্রিল তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত কিনে মজুত করার ভীতি কমেছে। বর্তমানে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা কার্যকর করায় একই গাড়ি বারবার তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাও অনেকটা কেটে গেছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। মে মাসে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদার বিপরীতে প্রায় সমপরিমাণ তেল আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য তেল আমদানির দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।