লোকসমাজ ডেস্ক ॥ তাপমাত্রার হিসাব অনুযায়ী পঞ্চগড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গোটা রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ আর খুলনা বিভাগের কিছু অংশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। এরই মধ্যে পরবর্তী তিন দিনের শেষ দিকে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, টাঙ্গাইল, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশের কোথাও কোথাও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার (তিন দিন) আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময়ের শেষার্ধে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। যশোর ও চুয়াডাঙ্গাসহ গোটা রংপুর আর রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম। সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কম থাকলে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। এটি ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে বলে ধরা হয়।
বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ, ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস
যশোরে নতুন এসপি আশরাফের যোগদান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নতুন পুলিশ সুপার মো. আশরাফ হোসেন সোমবার যশোরে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি নীলফামারীর পুলিশ সুপার ছিলেন। অপরদিকে যশোরের বিদায়ী পুলিশ সুপার মঈনুল হক পদোন্নতি পাওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটনে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদে যোগদান করতে যাচ্ছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নীলফামারী থেকে বদলি হওয়া নতুন পুলিশ সুপার মো. আশরাফ হোসেন সকালে ট্রেনে করে যশোরে আসেন। এ সময় যশোর রেলস্টেশনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। যশোর পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, নতুন পুলিশ সুপার মো. আশরাফ হোসেন যশোরে এসে তার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। তিনি জানান, বিদায়ী পুলিশ সুপার মঈনুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটনে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদে যোগদান করবেন। তিনি প্রায় ১৬ মাস যশোরে দায়িত্ব পালন করেন।
পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবক আটক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার একজন ব্যবসায়ীর কাছে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির পরিচালক সুব্রত বাইন পরিচয়ে চাঁদাদাবি ও বোমা হামলার সাথে জড়িত ২ যুবক আটক হয়েছে। মশিউর রহমান (২৩) ও মহির হোসেন (২৫) নামে ওই দুই চাঁদাবাজকে গত রোববার রাতে আটক করে ডিবি পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর রাত সোয়া নয়টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ০১৯০৩-৫১৩৫১২ নম্বরের মোবাইল ফোন থেকে নওয়পাড়ার মহাশ্মশান ঘাটের আল-মামুন ট্রেডার্সের মালিক শরিফুল ইসলামের কাছে ফোন করে নিজেকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির পরিচালক সুব্রত বাইন পরিচয় দেয়। এ সময় সে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং বিকাশে পাঠিয়ে দিতে বলে। কিন্তু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে তাকে বড় ধরনের তি করার জন্য হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর গত ২৭ নভেম্বর রাত পৌনে নয়টার দিকে ওই ব্যবসায়ীর শংকরপাশা গ্রামের বাড়ির গেটের সামনে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা। পরদিন ২৮ নভেম্বর রাত পৌনে ১১ টার দিকে ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনে একটি ুদ্র বার্তা পাঠানো হয়। এতে লেখা ছিলো ‘ভাই কাজের পরিচয় পাইছেন। বাড়াবাড়ি না করে যা বলি তাই শুনেন। ফোন দিব, রিসিভ করেন।’ এরপর ৩০ নভেম্বর বিকেলে ফের ফোন করে অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি বলে, ‘নমুনা তো দেখলি, টাকা কোন সময় দিবি বল।’ কিন্তু এরপরও ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি দেয়া হতো। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম গত ১১ ডিসেম্বর অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে গত রোববার রাতে নওয়পাড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিনি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে তারা আটক করেন। এরা হচ্ছে-নওয়াপাড়া মিনি বাজার এলাকার ইরাজ গাজীর ছেলে মহির হোসেন ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার যাত্রাবাড়ি গ্রামের গাউছ ঘরামীর ছেলে মশিউর রহমান। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির কথা স্বীকার করে। তিনি আরো জানান, সোমবার মহির হোসেন ও মশিউর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারের পাঠানোর আদেশ দেন।
খেজুর গাছের মাথা কেটে শত্র“তা!
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার পল্লীতে দুর্বৃত্তরা এক কৃষকের ১০টি খেজুর গাছের মাথা কেটে ফেলেছে। প্রতিটি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ চলছিল। কিন্তু রাতের আধারে কে বা কারা গাছের মাথা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে চলে গেছে। গাছের সাথে এমন শত্রুতায় সকলে হতবাক হয়েছেন। এই জঘন্য কাজের সাথে যেই জড়িত থাক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।
সূত্র জানায়, উপজেলার পাতিবিলিা ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম হয়াতপুর। গ্রামের সহজ সরল মানুষের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন মোজাম্মেল হোসেন পান্নু। পিতা মৃত ইসাহক আলী। কৃষি কাজ করে মোজাম্মেল হোসেন জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে কে বা কারা এই কৃষকের অন্তত ১০ টি খেজুর গাছের মাথা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে চলে যায়।
ভুক্তভোগী মোজ্জাম্মেল হোসেন জানান, কৃষি কাজের পাশাপাশি শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড়, পাটালি তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে তিনি সংসার চালান। প্রতি বছরের মত চলতি শীতে তিনি অর্ধশত খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার তিনি গ্রামের নিমতলা মাঠে সড়কের পাশে ১০টি খেজুর গাছ কেটে ভাড় বেঁধে রেখে আসেন। ওই রাতে কে বা কারা সমুদয় গাছের মাথা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে চলে যায়। সকালে রস আনতে গিয়ে তিনি এই দৃশ্য দেখতে পান। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, গাছের সাথে যারা এমন শত্রুতা করে তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। এদের বিচার হওয়া দরকার। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, এ ধরনের একটি খবর আমি শুনেছি। যারা গাছের সাথে শত্রুতা করে তারা দেশের শত্রু। এমন জঘন্য কাজ কোন সুস্থ মস্তিকের মানুষ করতে পারে না। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে যারা জড়িত অবশ্যই তাদের শাস্তি হবে বলে তিনি জানান।
খুলনায় দ্বিতীয় দিনের মতো পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন পালন
খুলনা ব্যুরো ॥ পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনায় চলছে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে সোমবার খালিশপুরের দৌলতপুর জুট মিল ও দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা বিআইডিসি রোডের প্লাটিনাম গেটের পূর্ব পাশে ও প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকরা মিলের পশ্চিম গেটে প্যান্ডেল করে এ অনশন পালন করেন। এছাড়া ক্রিসেন্ট গেট ও খালিশপুর জুট মিল গেটেও অনুরূপ অনশন করেন স্ব স্ব মিলের শ্রমিকরা। সেই সাথে আটরা শিল্পাঞ্চলের আলিম ও ইস্টার্ণ জুট মিলের শ্রমিকরাও তাদের মিলগেটে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে খালিশপুর বিআইডিসি রোড, আটরা ও রাজঘাট এলাকার খুলনা-যশোর মহাসড়কে শ্রমিকরা এ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।
পাটকল শ্রমিকদের এ অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের প থেকেও নেয়া হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রায় নানা পদপে। পুলিশের প থেকেই খালিশপুর বিআইডিসি রোডের প্রবেশদ্বার কিছুটা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই রোডে যাতে ভারী কোন যানবাহন ঢুকতে না পারে সেজন্য কাশিপুর মোড় ও কদমতলা মোড়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র রিক্সা, ইজিবাইক, সাইকেল, মোটরসাইকেল ছাড়া ভারী কোন যানবাহন ওই সড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকরা বলেন, ‘কাঁথা বালিশ নিয়ে ফের আমরণ গণঅনশনে বসেছি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যণ্ত উঠবো না।’ আলীম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘রোববার দুপুর থেকে অনশনে বসেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে মৃত্যু হলেও পরোয়া নেই।’ আপে করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা মজুরি না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, ঘরভাড়া দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছেন। সকল সেক্টরে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হলেও পাটকল শ্রমিকদের বেলায় অনীহা করা হচ্ছে। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও পিপিপি বাতিলসহ ১১ দফা দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’ এর আগে ১১ দফা দাবিতে ১০ ডিসেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। অনশন কর্মসূচির চতুর্থ দিনে রাত ১২ টায় শ্রম প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তিতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনশন স্থগিত ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর বিজেএমসিতে ও ২৬ ডিসেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয়ে শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে দাবির ব্যাপারে কোন সমাধান না হওয়ায় আবারও অনশন কর্মসূচির ডাক দেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।
ঝিকরগাছায় চেয়ারম্যান কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট : জয়ের স্বাদ নিল উপশহর
ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান কাপ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম খেলায় জয়ের স্বাদ নিয়েছে যশোর উপশহর ক্রিকেট একাডেমি। তারা প্রতিপ ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে। সকালে ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল মাঠে টুর্নামেন্টের এ খেলায় টস জিতে উপশহর ক্রিকেট একাডেমী ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ ইউকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে। দলের পে মোহাম্মদ রাফি সর্বোচ্চ ৭০ ও বশির আহম্মেদ ৫৯ রান করেন। জবাবে ঝিকরগাছা ইউনিয়ন ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশ ১৯ ওভারে সবকটি ইউকেট হারিয়ে ১৬১ রান করে। দলের পে নয়ন সর্বোচ্চ ৪৮ রান সংগ্রহ করেন। খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নিবাচিত হন বিজয়ী দলের মোহাম্মদ রাফি। খেলা পরিচালনা করেন আমিনুর রহমান ও রুহুল আমিন । ধারাভাষ্যে ছিলেন আবু রাহান রাজ ও সাদ আমিন রনি। খেলা শেষে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার প্রদান করেন যশোর জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক কৃতি খেলোয়াড় ইমতিয়াজ আহম্মেদ বাবু। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাপ্পি, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন, সাবেক কৃতি ক্রিকেটার মুরাদ খান, ঝিকরগাছা ক্রিকেট একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক শাহানূর কবির হ্যাপী, প্রশিক আবুল বাশার, সহ-সভাপতি আহম্মেদ রেজা সজিব প্রমুখ।
ফুলের রাজ্যে চাষির মুখে হাসির ছটা
আকরামুজ্জামান ॥ ইংরেজি নববর্ষে প্রত্যাশা অনুযায়ি ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়েছে যশোরের ঝিকরগাছার ফুল ব্যবসায়ী ও চাষিরা। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর ফুল উৎপাদন, চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় সন্তুষ্টু তারা। গত কয়েক মাস ধরে নতুন নতুন প্রজাতির ফুল গাছ রোপন ও পরিচর্যার পর গদখালীর প্রতিটি ক্ষেত এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। তাই নববর্ষের আগ মুহূর্তে ফুল ক্ষেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুঁটে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
ফুল চাষিরা জানান, বছরের বিশেষ দিনগুলো উপলক্ষে সারাদেশে যে ফুল বেচা-কেনা হয় তার অন্তত ৭০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত ফুল। প্রায় বছরজুড়ে ফুলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত গদখালীতে ফুল বিক্রি হলেও মূলত ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে মূল মৌসুম শুরু হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গাঁদা ফুলের চাহিদা বেশি থাকলে পহেলা জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষে অন্যান্য জাতের ফুল বিক্রি হয় ব্যাপকহারে। ইংরেজি নববর্ষ আসার আগ মুহূর্তে শহর-নগরের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ফুলের জোগান দিতে গদখালীর ফুল চাষিরা প্রস্তুত থাকেন। তাই নববর্ষের ফুল নিতে গত ৫ দিন ধরে প্রতিদিন গদখালী ফুল বাজারে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন ফুল সংগ্রহ করতে। বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির সভাপতি ফুল চাষী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, চলতি বছরে প্রলয়ঙ্করী ঘুর্নিঝড় বুলবুলের কারণে ফুল চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ ক্ষেতের ফুল নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক যখন বিশেষ দিনগুলোকে টার্গেট করে নতুন নতুন জাতের ফুল চাষ শুরু করেন তখন ঘুর্নিঝড় বুলবুলের কারণে তা নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে দ্বিতীয় দফা ফুলের চাষ শুরু করেন তারা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন চাষিরা। তিনি বলেন, গদখালির মাঠে প্রান্তে এখন শুধু ফুল আর ফুল। গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ বিভিন্ন ফুল তে। রঙ-বেরংয়ের ফুলের সমারহে গদখালি এলাকা অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি দিচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি ফুল মৌসুমে এ অঞ্চলের চাষিরা ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেছেন। শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ফুল ফোটে। একারণে চাষিরা সাধ্যমত ফুল চাষ করেছেন। ফাওয়ার সোসাইটির নেতা আব্দুর রহিম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক কোনো অস্থিরতা না থাকায় মনে করা হচ্ছে ব্যবসায়ীরা সঠিক সময়ে তাদের ফুল দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে পারেন। সে হিসেবে নববর্ষ উপলক্ষে গদখালী থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটির ফুল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করেন।
পানিসারা গ্রামের ফুল চাষি শাহাজান আলী বলেন, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে আমাদের এলাকায় বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ করা হয়েছে। তবে বিশেষ দিবসে অপূর্ব ফুল জারবেরা স্পেশাল গিফট হিসেবে গণ্য হচ্ছে সকলের কাছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেকে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দর্শনার্থী নারী-পুরুষরা ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন জারবেবা ফুল। তিনি বলেন, ক্ষেতের একেকটি জারবেরা ফুল ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গদখালীর ফুল বাজারের চেয়ে ক্ষেত থেকে বেশি জারবেরা ফুল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরের ফুল ব্যবসায়ীরা ফুল কেনার জন্য আমাদের কাছে অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছেন। গত রোববার থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা জেলায় কিছু ফুল সরবরাহ করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৫ টি জেলাতে আমাদের উৎপাদিত ফুল পৌছে দেয়া হবে। তিনি বলেন, যশোর মূলত কৃষি অর্থনীতি নির্ভর। এখানে বছরে প্রায় ২শ’ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়ে থাকে। বিজয় দিবস, ভাষাশহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিবাহ, পূজা-পার্বনে গদখালীর চাষীরা ফুল বিক্রি করে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করে আসছেন। এবছর ফুলের চাহিদা ও দাম দুই-ই ভালো। গতবছর একটি গোলাপ দুই থেকে তিন টাকায় বিক্রি হলেও এবছর সেখানে ৬ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জারবেরা, গ্লাডিউলাসও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন জানান। রোববার ভোরে বাজারটিতে গিয়ে দেখা যায়, বাসের ছাদে স্তুপ করে ফুল সাজানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর জন্য। এসময় কথা খোরশেদ আলম নামে এক ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি এসেছেন চট্রগ্রাম থেকে। তিনি বলেন, আড়াই লাখ টাকার ফুল কেনার টার্গেট রয়েছে। এসব ফুলের মধ্যে রয়েছে রজনী গন্ধা, গ্লাডিউলাস, গোলাপ ও জারবেরা বেশি। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর ফুলের বাজার চড়া। তবে চাহিদা বেশি থাকায় আমরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছি। একই কথা বলেন, ময়মনসিংহের ফুল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত তিনদিনে তিনি ৮০ হাজার টাকার ফুল কিনেছেন। এসব ফুল ঢাকার শাহাবাগের বাজার ধরার জন্য কেনা হয়েছে। রাতে পরিবহনের ছাদে করে ফুল নিয়ে যাবেন বলে তিনি জানান। ফুল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ফুল বেচাকেনা চলবে।
চৌগাছায় আলমসাধু উল্টে চালকের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় আলমসাধু উল্টে চালক রবিউল ইসলামের (৪০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের শাহা আলীর ছেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে চৌগাছা-যশোর সড়কের সলুয়া আদর্শ কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে আলমসাধু চালক রবিউল ইসলাম চৌগাছা থেকে গাছের লগ বোঝাই করে যশোরের চূড়ামনকাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে সলুয়া আদর্শ কলেজের সামনে পৌঁছালে সড়কের উপর আলমসাধু উল্টে যায়। এ সময় একটি বড় লগের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থানার এস আই বজলুর রহমান।
রাজনীতি ২০১৯
লুৎফর রহমান ॥ নির্বাচনী ঝঞ্ঝাবহুল বছর শেষে ২০১৯ হাজির হয়েছিল অনেক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে। ঘটনাবহুল নির্বাচনের পর বছরের শুরুতেই নতুন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কিছু করার অঙ্গীকার করা হয় সরকারি দলের তরফে। এমন প্রত্যাশা থেকে মন্ত্রিসভায়ও আসে পরিবর্তন। আওয়ামী লীগ এককভাবে সরকার গঠন করায় মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি মহাজোটের শরিক দলের নেতাদের। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম ছিল অনেকটা রুটিন ওয়ার্কের মতো। এদিকে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়ে নির্বাচনী জোট করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের পর সামনে এগিয়েছে গতানুগতিক কর্মসূচি দিয়ে। বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রমও চলেছে নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে।
বছর শেষে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা হিসাব মিলাচ্ছেন বিদায়ী বছরের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির। তারা বলছেন, রাজনীতির দুই শিবিরেই খুব একটা নড়চড় দেখা যায়নি। গতানুগতিক কর্মসূচি আর পুরনো ধারায়ই চলেছে দলগুলো। কর্মসূচিতে যেমন কোন নতুনত্ব ছিল না, তেমনি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নতিরও কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। অনেকটা স্থবির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া রাজনীতি নতুন বছরে মানুষকে কতোটা আশাবাদী করতে পারে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতোটা ভুমিকা রাখতে পারে এটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদায়ী বছরে দেশে মূলত রাজনীতিই ছিল না। সরকারি দল পাকাপোক্তভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিরোধী মহল বিএনপি ঘর গোছাতেও পারেনি, কোন লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেনি। তাদের নেতৃত্ব নেই, তাদের সংগঠন নেই। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমুলের নেতৃত্বের কোন যোগাযোগও নেই। তাই বলা যায় বিদায়ী বছর রাজনীতিতে কোন ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের নানা অপরাধের কারণে পরবর্তীতে আমরা আরও নানা অনিয়ম দেখতে পেয়েছি বিভিন্ন সেক্টরে। তিনি বলেন, সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
স্বস্তির পরিবেশেও কিছু অস্বস্তি ছিল আওয়ামী লীগে: টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর অনেকটা স্বস্তির পরিবেশেই সময় পার করেছে আওয়ামী লীগ। শুরু থেকে বিরোধী জোট আন্দোলনের হুমকি দিলেও মাঠে বড় কোন কর্মসূচি দিতে পারেনি তারা। এতে স্বস্তিতেই বছর পার করেছে ক্ষমতাসীন দল। এছাড়া বছর শেষে মূল সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন করাকে দলের বড় সাফল্য বলে মনে করছেন নেতারা। অন্যদিকে ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম আসা, চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসা, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পিয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয় বিভাগের ব্যর্থতায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলকে। এছাড়া ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের জড়িত থাকা, বুয়েটে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় অস্বস্তি তৈরি করে। যদিও এসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। বছর শেষে আলোচিত ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে একের পর এক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নাম আসায় বিরোধীদের মুখে সমালোচনার নতুন রসদ যোগায়। এই অভিযান চলমান থাকলেও কার্যক্রম এখন অনেকটা স্থবির। অভিযোগ আসায় কাউন্সিলে দল ও সহযোগী সংগঠনের অভিযুক্ত নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। যুক্ত করা হয়েছে বিতর্কমুক্ত নেতাদের। এতে ঘরে বাইরে সাধুবাদ মিলেছে। তবে সর্বশেষ দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে যে নতুন নেতৃত্ব এসেছে তাতে বেশির ভাগই পুরনো মুখ। অনেকে বলছেন, যতোটা পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল ততোটা হয়নি। বছর শেষে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দুই সিটিতে ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। সমর্থন দেয়া হয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের। এক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। অভিযুক্ত কেউ কেউ দলীয় সমর্থণ পেয়েছেন এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্র জোট ১৪ দলের কার্যক্রমে তেমন একটা গতি ছিল না বছরজুড়ে। রুটিন কার্যক্রমের মধ্যেই ছিল এ জোটের কর্মসূচি। গত নির্বাচনের পর জোটের নেতাদের মন্ত্রিসভার বাইরে রাখায় তাদের কাউকে কাউকে সরকারের সমালোচনায় মুখর হতে দেখা যায়। বিশেষ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের একটি বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। ‘নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই’ মেননের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা আসে ক্ষমতাসীন দলের তরফে।
হতাশায় বছর পার বিরোধীদের: একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই সরকার বিরোধী আন্দোলনের ছক কষে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। নানা সময়ে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচিতে খুব একটা সফলতার মুখ দেখেনি দলগুলো। তাদের দাবি এবং আন্দোলনেও খুব একটা সাড়া দেয়নি সরকার। নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচনের দাবি তোলা বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এপ্রিলে সংসদে যোগ দেন। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। আলোচিত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ওই নির্বাচনের বার্ষিকীর দিন গতকাল কর্মসূচি ঘোষণা করেও তা পালন করতে পারেনি দলটি। পুলিশের অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে গতকালের সমাবেশ কর্মসূচি বাতিল করা হয়। যদিও এ দিন গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনের ব্যানারে জোটের কয়েকটি দল সমাবেশ কর্মসূচি করে। এছাড়া যে লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল বিএনপি তারও সুফল গড়ে তোলা যায়নি বলে নেতারা মনে করছেন। তারা বলছেন, দল হিসেবে বিএনপি সক্রিয় না হলে জোট বা ফ্রন্ট গঠন কাজে আসবে না। বছরের শেষদিকে পরপর দুই সিনিয়র নেতার পদত্যাগ, ২০ দলীয় জোট থেকে আন্দালিভ রহমান পার্থের বেরিয়ে যাওয়া এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সরে যাওয়া অস্বস্থির কারণ হয় বিরোধী শিবিরে। এছাড়া জোটে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে বছর জুড়েই অস্বস্থি ছিল বিএনপিতে। সর্বশেষ জামায়াতকে নিয়ে ২০-দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপির জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠন নিয়েও বিএনপির ভিতরে-বাইরে নানা আলোচনা আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক বছরে সাংগঠনিকভাবেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি। দলের ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে প্রায় অর্ধেক জেলায় আহ্বায়ক কমিটি করলেও যথাসময়ে হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। দলের সহযোগী সংগঠনগুলো চলছে আংশিক কমিটি নিয়ে। এমন অবস্থার মধ্যেই ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মেয়র পদে দুই তরুণকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রক্রিয়া চলছে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী সমর্থন দেয়ার। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিদায়ী বছর হতাশায় পার হলেও নতুন বছর ঢাকা সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে প্রাণ ফিরতে পারে নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে দলের হাইকমান্ড এক্ষেত্রে কতোটা সফল হবেন তা কারও কাছেই স্পষ্ট নয়। দলীয় নেতাকর্মীরাই বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সফলতা না আসা এবং মানুষের সমস্যা নিয়ে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ‘নরম’ অবস্থান দলীয় দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে।
খুলনায় বাহিনী প্রধানসহ ২ জলদস্যু গ্রেফতার অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকা থেকে জলদস্যু সিদ্দিক বাহিনীর প্রধান সিদ্দিকসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার র্যাব-৬ খুলনার একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় অস্ত্র, গুলি ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। র্যাব-৬ খুলনার এএসপি মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, সিদ্দিক বাহিনী কয়রার মহেশ্বরীপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাহিনী প্রধান সিদ্দিকুর রহমান (৩৪) ও আব্দুল্লাহ তরফদারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩ টি পাইপগান, ১৫ টি কার্তুজ, ৩ টি মোবাইল ফোন ও ১৫ হাজার চার শ টাকা উদ্ধার করে র্যাব। তাদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।










