স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছে। রবিবার বিকেলে সিংহঝুলী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে কমিটি গঠন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশে সৃষ্টি হয়। নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল হাই। মোট ৪৩ ভোটের মধ্যে তিনি ২৪ ভোট পেয়ে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে আব্দুল মুজিদ, শুকুর আলী ও নজরুল ইসলাম । কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিতির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুচ আলী, এম এ সালাম, আতাউর রহমান লাল ও মাসুদুল হাসান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আনিচ সরদার, হুসাইন আহমেদ, কামরুজ্জামান ভদু, আব্দুল মান্নান, ফজলুর রহমান, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মুজিদ,মফিজুর রহমানসহ ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কিছুটা সুষ্ঠু হলেও ইভিএমে জালিয়াতির শঙ্কা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আসন্ন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ফের উত্তপ্ত রাজনীতির হাওয়া। সর্বত্রই আলোচনা এ নির্বাচন ঘিরে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ চমকও এনেছে এবার। রাজনৈতিক পরিবারের হলেও অপেক্ষাকৃত তরুণ ও শিক্ষিতদের প্রার্থী করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় এ নির্বাচনে। ইতোমধ্যে মেয়র পদে নির্বাচনে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনকে বাদ দিয়ে সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দল থেকে। উত্তরের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামকে।
বিএনপির পক্ষে উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণের জন্য ইশরাক হোসেন কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাবিথ আউয়াল এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। এবারই প্রথম তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি, প্রার্থী, প্রত্যাশা ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী লেখক, গবেষক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের কাছে।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাংলাদেশে আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই, তা হলফ করেই বলা যেতে পারে। বিশেষ করে গত এক দশকের নির্বাচন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে যে কেউ গণতন্ত্র নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলতে পারেন। মূলত নির্বাচন ঘিরেই এখন রাজনীতির যত হতাশা।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে হাত করেই ক্ষমতা পোক্ত করতে চাইছে, যে ক্ষমতার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের নামে যে প্রহসন চলছে, তারই হয়তো আরেকটি নাটক আমরা ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনে দেখতে পাব।
‘তবে ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন আলোচনাও সামনে আসতে পারে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার বদলের কোনো সুযোগ নেই। সরকার গত দুটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জারি করেছে, তা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে কিছুই যায়-আসে না। সরকার পতনের কারণ হবে না বলে এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নাও হতে পারে। সিটি নির্বাচন কিছুটা সুষ্ঠু হতে পারে, এটি তার একটি এবং আশার কথাও বটে।’ ‘আরেকটি বিষয় হলো, গত এক দশকে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে নির্বাচনবিমুখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই আর নির্বাচন কাঠামোর ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এমন ধারাবাহিকতা থাকলে গোটা নির্বাচন কাঠামোই ভেঙে পড়বে। সরকার শুভবুদ্ধির উপলব্ধি থেকে হয়তো এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার সুযোগ দেবে। অন্তত আগের বদনাম কিছুটা দূর করতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নাও করতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর।’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাজনীতির চলমান পরিস্থিতিতে জনগণের আসলে কিছুই করার নেই। মানুষ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। ভোট দিতে পারবে কি পারবে না অথবা কাকে ভোট দিতে হবে, এ ভাবনাও করতে পারছে না জনগণ। অথচ সংকট নিরসনে সাধারণের অংশগ্রহণ-ই জরুরি।’
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এ নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, তা নানাভাবেই প্রমাণিত। আগের কমিশনও তা-ই ছিল। নির্বাচন কমিশন মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
একাধিক জালিয়াতির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ কমিশন অতিপাপ করে ফেলেছে। কমিশনের পাপ ঢাকা সিটি নির্বাচনে মোচন হবে না। এ নির্বাচন কমিশনকে কেউ আর বিশ্বাস করে না। কারণ তারা বহু অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।’ ‘সংবিধানের ৭৩ থেকে ৭৯ ধারা অনুযায়ী, কমিশন গুরুতর অপরাধ করেছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের বিচার হওয়া দরকার।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য থেকে দেখেছি, অনেক কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। অনেক সেন্টারে বৈধ ভোটের চেয়ে অবৈধ ভোট বেশি পড়েছে। চট্টগ্রামে গণসংহতির এক প্রার্থী একটি ভোটও পায়নি। এগুলোর মাধ্যমে জালিয়াতির সীমা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া কমিশন যে তথ্য দিয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। ‘পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী নই। নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাইছে। অথচ গত জাতীয় নির্বাচনে কয়েকটি সেন্টারে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন নানা অসঙ্গতির জন্ম দিয়েছে। বাইরের দেশের অভিজ্ঞতার কথা বলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করলেও, প্রয়োগ করেছে নিজেদের সিদ্ধান্ত। ইভিএমে ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২৯৪টি আসনে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর চেয়ে বড় জালিয়াতির প্রমাণ আর কী হতে পারে!’ ঢাকার দুই সিটির তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর, বাছাই ২ জানুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি, ভোট গ্রহণের দিন ৩০ জানুয়ারি।
এবারও থার্টিফার্স্টের উদযাপন থাকবে গৃহবন্দি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। উদযাপনকে ঘিরে কোনও হুমকি না থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এবারও গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে থার্টিফার্স্ট নাইটের উদযাপনকে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে কোনও ধরনের আয়োজন করা যাবে না। তবে চার দেয়ালের ভেতরে অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে। প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে গত ২৬ ডিসেম্বর সকল ইউনিটে এক বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে তল্লাশি বাড়ানোসহ বিশেষ বিশেষ এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত করা হবে। সারাদেশের মদের বার বন্ধ থাকবে। আতশবাজি- পটকা বিক্রি ও ফোটানো নিষিদ্ধ থাকবে।
ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। চেকপোস্ট বৃদ্ধি করাসহ আমাদের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় আমাদের পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো নির্দেশনা মোতাবেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইন শৃঙ্খলা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, থার্টিফার্স্ট উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নাশকতারোধে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সব অনুষ্ঠানস্থলে সিসিটিভি স্থাপন, আর্চওয়ে ও সোয়াইপ এর ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং পর্যাপ্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলশান, তেজগাঁও, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বারিধারা, বাড্ডা, মিরপুর, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এরইমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, টিএসসি, গুলশান, হাতিরঝিল এলাকায় সাধারণ জনগণের প্রবেশ সীমিত করা হবে। তবে যথাযথ তল্লাশির মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। যেকোনও অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং সোয়াটের টিম প্রস্তুত থাকবে। দেশের কোথাও থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে খোলা জায়গায়, রাস্তা ও ফ্লাইওভারে কনসার্ট বা নাচগানের আয়োজন করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এসব আয়োজন থেকে বিরত রাখতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইটে দেশের কোথাও কোনও আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আতশবাজি ও পটকা বিক্রি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লালবাগ ও আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, লালবাগ এলাকায় আশবাজি ও পটাকো ফোটানো বন্ধ করতে ইতোমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। বিক্রি ও বহন বন্ধ করতে প্রত্যেকটি থানার অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারও কাছে পাওয়া গেছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের কোনও বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের মদের বার ও দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও এ ব্যাপারে নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রোর উপ পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে আমাদের কঠোর নজরদারি থাকবে। মহানগরীতে কোনও বার যাতে খোলা না থাকে সে ব্যাপারে বারগুলোর সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পাঁচ তারকা হোটেলগুলো খোলা থাকবে। যাতে বিদেশিদের প্রয়োজন মেটাতে অসুবিধা না হয়। কোনও বারে মদ বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য ঢাকা মহানগরীতে চারটি টিম গঠন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এই টিমের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বার ও বিভিন্ন ক্লাবগুলোতে মদ বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করবে বলে জানান মুকুল জ্যোতি চাকমা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করবে পুলিশ। যাতে থার্টিফার্স্টকে কেন্দ্র করে কেউ কোনও ধরনের অপপ্রচার বা গুজব ছড়াতে না পারে। একইসঙ্গে ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখবে পুলিশের সাইবার ইউনিট। পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন এলাকায় আসা অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যথাযথ তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা কক্সবাজারকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমাদের মোবাইল পেট্রোল থাকবে, মোটরসাইকেল পেট্রোল থাকবে। বিশেষ করে যেসব স্থানে পর্যটকদের বেশি আনাগোনা থাকবে সেখানে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবো। এছাড়া সাদা পোশাকে নজরদারি ও চেকপোস্ট বাড়ানো হবে।
আজকের রাশিফল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥আজকের এদিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মকর রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ পরমযোগী গ্রহ শনি মহারাজ, গ্রহপিতা রবি ও বিঘ সৃষ্টিকারী গ্রহ কেতুর প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে সিংহ রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। টাকা-পয়সা হাতে আসার আগেই খরচের খাত তৈরি হয়ে যাবে। সন্তানদের সাফল্যে গৌরবান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] অর্থকড়ির মামলায় কাউকে অধিক বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। লটারি ফটকা জুয়া রেস শেয়ার হাউজিং প্রভৃতিতে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয় হবে। অবশ্য সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয় পরিজনরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] দুর্যোগের মেঘ সরে গিয়ে সুদিনের সূর্য উদিত হবে। যে কাজে হাত দেবেন তাতেই কমবেশি সফলতা প্রাপ্ত হবেন। বাণিজ্যিক সফর লাভদায়ক তথা ভ্রমণকালীন বন্ধুত্ব সারা জীবেনর পাথেয় হবে, দীর্ঘদিনের ভাঙা প্রেম ও বন্ধুত্ব জোড়া লাগবে।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন] কর্মের সুনাম যশ পদোন্নতির পথ সুগম করবে। যোগ্যকর্ম, উচ্চশিক্ষা, ভ্রমণ ও তীর্থ যাত্রায় বিদেশগমনের সম্ভাবনা প্রবল। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। যার ফলে আপনাকে সর্বদাই ব্যস্ত থাকতে হবে।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] জীবনসঙ্গী শ্বশুরালয় ও মাতুলালয় থেকে ভরপুর সাহায্য সহযোগিতা প্রাপ্ত হবেন। বিবাহযোগ্যদের বিবাহের কথাবার্তা পাকাপাকি হবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] হাত বাড়ালেই সফলতা প্রাপ্ত হওয়ায় মন আনন্দে নাচবে। মামলা মোকদ্দমা ও কোর্ট কেসের রায় পক্ষে আসবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। প্রেম রোমান্স বিনোদন ভ্রমণ বিবাহ বিনিয়োগ বন্ধুত্ব শুভ তথা সুদূর প্রসারী হবে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] শিক্ষার্থীদের মন ফেসবুক টুইটার প্রেম প্রসঙ্গ ও অনুচিত কাজবাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকবে। কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় কোনো অর্ডার হাতে আসায় বস আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকবেন। লটারি ফটকা জুয়া রেস শেয়ার প্রভৃতিতে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয় হবে।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ-বিবাদের মীমাংসা হবে। সহকর্মী ও অংশীদারদের কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা প্রাপ্ত হবেন। দুর্জন আত্মীয় বেশে আপনার মূল্যবান সম্পত্তি লুফে নিতে পারে। সন্তানরা আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] শরীর স্বাস্থ্য বিশেষ ভালো না থাকায় কোনো কাজে মন বসবে না। অবশ্য শ্রমিক-কর্মচারী ও ড্রাইভারদের মনে মালিকপ্রীতি দেখা দেবে। অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া ও আশ্রয় নেওয়া নির্বুদ্ধিতার পরিচয় হবে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] দীর্ঘদিনের আটকে থাকা বিল পাস ও অচল ব্যবসা সচল হয়ে উঠবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। যার ফলে আপনাকে সর্বদাই ব্যস্ত থাকতে হবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষের পাতা ফাঁদে তারা নিজেরাই ঘায়েল হবে। লৌকিকতায়ও ব্যয় হবে।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাজসাজ রবরব করবে। ভাইবোনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতা স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। সন্তানরা আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে। তথা তারা কোনো না কোনো পুরস্কার পাবে। লৌকিকতা শত্রুতার জন্ম দিতে পারে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, কর্মে হয়রানিমূলক দূর বদলি অপরদিকে খরচের লাগামহীন চাপ আপনাকে অতিশয় জীর্ণ করে তুলবে। লটারি ফটকা জুয়া রেস শেয়ার হাউজি প্রভৃতিতে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয় হবে। অবশ্য জীবনসঙ্গী শ্বশুরালয় ও মাতুলালয় থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] চর্তুদিক থেকে তরতাজা উন্নতি করতে থাকায় মন আনন্দে নাচবে। বাণিজ্যিক সফর লাভদায়ক তথা ভ্রমণকালীন বন্ধুত্ব সারা জীবেনর পাথেয় হবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষের পাতা ফাঁদে তারা নিজেরাই ঘায়েল হবে। সপরিবারে কাছেপীঠে ভ্রমণ এমনকি কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
থার্টিফার্স্টে প্রস্তুত ডিজেগার্লরা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ থার্টিফার্স্ট রাত এলেই উন্মাদনা বাড়ে সিলেটে। নতুন বর্ষকে বরণে নানা প্রস্তুতিও থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম নেই। আগে থেকে ঘোষণা না দিলেও কয়েকটি তারকা হোটেলে থার্টিফার্স্ট নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে অনুষ্ঠানের। থাকছে নাচ-গানের প্রস্তুতিও। তবে সেটি হচ্ছে আড়ালে এই আয়োজন যাতে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না যায় সেদিকে নজর রাখছে পুলিশ। এবার শীত মৌসুমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এসেছেন সিলেটে। নিজ বাড়ি সিলেটে বেড়াতে এসে থার্টিফার্স্ট পালনের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
তাদের আয়োজনকে ঘিরে সরগরম হতে চলেছে থার্টিফার্স্টের আয়োজন। সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট এলাকা, সাহেববাজার, বালুচর, তামাবিল রুটের কয়েকটি হোটেল ও বাংলোবাড়িতে ব্যক্তি উদ্যোগে থার্টিফার্স্টের আয়োজন চলছে। এসব আয়োজনে ডাক পড়েছে সিলেটের ডিজে গার্লদেরও। নেচে-গেয়ে থার্টিফার্স্ট পালনের এই আয়োজনের সব ধরনের উন্মাদনা থাকলেও সেটি বাইরে প্রকাশ করা হচ্ছে না। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে- সিলেটে থার্টিফার্স্ট পালনে মূলত এগিয়ে প্রবাসীরা। এই সময়ে যারা সিলেটে থাকেন তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মোটেল কিংবা রেস্ট হাউসে থার্টিফার্স্ট পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। এতে সিলেটের রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকেন। এদিকে- প্রায় দুই বছর আগে সিলেটের এয়ারপোর্ট রুটের এক বাংলোবাড়িতে থার্টিফার্স্ট নাইটের উৎসবে গিয়ে শামিল হয়েছিলেন মেডিকেলের ছাত্রীরা। ওই এলাকায় তারা হেনস্থার শিকার হন। পরে আয়োজকরা সেটি মিটমাট করে দেন। এছাড়া বিভিন্ন হোটেলে ও রেস্টহাউসে থার্টি ফার্স্ট পালনে গিয়ে সিলেটের ডিজে গার্লরা উন্মাদনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেন। তাদের ঘিরেও রঙ্গিন আয়োজনে মেতে উঠেন প্রবাসীরা। কখনো কখনো এসব উন্মাদনা বিতর্কের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে। এদিকে- থার্টিফার্স্টকে ঘিরে সিলেটের কয়েকটি অত্যাধুনিক ও তারকা হোটেলের অভ্যন্তরে ডিজেপার্টিসহ নানা আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব হোটেলে ঢাকা থেকেও আনা হচ্ছে ডিজে গার্লদের। থার্টিফার্স্ট সেলিব্রেশনের এসব উদ্যোগে অংশ নেবেন সিলেটে বেড়াতে আসা প্রবাসীরাও। থার্টিফার্স্টের এসব আয়োজনে নজরদারি থাকবে সিলেট পুলিশের। বাড়াবাড়ি যাতে না হয় সে ব্যাপারে কঠোর হবে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুছা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- থার্টিফার্স্টকে কেন্দ্র করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের যে নির্দেশনা আছে সেটিই সিলেটে বহাল থাকবে। সন্ধার পর আয়োজন কোনো ভাবেই মানা হবে না। তিনি বলেন- সিলেটে ঢালাও ভাবে থার্টিফার্স্ট পালন হয় না। তবে- সতর্ক থাকবে পুলিশ। এদিকে- সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর যাতে ওইসব ক্যাম্পাসে কেউ প্রবেশ না করতে সে কারণে আগেই থেকে সতর্কবস্থা নেয়া হচ্ছে। থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এরকম অসংখ্য মাদক চালান হয় সিলেট শহরে। যার প্রদান টার্গেট থাকে উঠতি বয়সী তরুণরা। থার্টিফার্স্ট উপলক্ষ করে সিলেটের বিভিন্ন হোটেল মোটেল বাংলো বাড়িতে হওয়া ডিজে পার্টির আড়ালে সরবরাহ করা হয় এসব মাদকদ্রব্য। বছর ঘুরে সামনে অপেক্ষমাণ আরেক টি থার্টি ফার্স্ট নাইট। ফলে এই রাতে উৎসব ফুর্তি করতে উন্মুখ হয়ে আছেন পাশ্চাত্য লাইফ স্টাইল অনুসরণকারী সিলেটের তরুণ তরুণীরা। শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আয়োজোন করছে থার্টিফার্স্ট নাইট পার্টির। এসব পার্টির আবেশে সিলেট শহরে বইছে উন্মাদনা। উন্মাতাল হওয়ার জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সিলেটে বেড়াতে আসা কয়েকজন লন্ডন প্রবাসী জানিয়েছেন- সিলেটের ডিজে গার্লরা সিলেটি নাটকে অভিনয়ে সুবাদে অনেকেই পরিচিত। ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ব্যাপকভাবে পরিচিত। এ কারণে তাদের ঘিরেই চলছে প্রস্তুতি।
ফের অনশনে পাটকল শ্রমিকরা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে তৃতীয় দফা আলোচনাও ব্যর্থ হওয়ায় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে ফের আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা গতকাল দুপুর ২টায় থেকে চট্টগ্রামের ১০টি পাটকলের গেটের সামনে ওই কর্মসূচি শুরু করে শ্রমিকরা। এবারের অনশনকে মৃত্যুবরণের অনশন বলে আখ্যায়িত করেন চট্টগ্রামের আমিন জুট মিল সিবিএর দপ্তর সমপাদক কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এক মাসের সময় চাওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের পক্ষে ওই সময় দেয়া সম্ভব নয়। শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তাই আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। ক্ষুব্ধ এ শ্রমিক নেতা বলেন, শ্রমিকদের এখন মাত্র একটিই চাওয়া, আর তা হলো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় সবাই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
আর কোন আশ্বাসে তাদের আন্দোলন স্থগিত হবে না। বারবার আলোচনার কথা বলে তাদের সময় নষ্ট করা হচ্ছে। দাবি মেনে না নিলে তারা মৃত্যুকেই বরণ করে নেবেন। এর আগে ১০ থেকে ১৪ই ডিসেম্বর তীব্র শীতে টানা চারদিনের অনশনে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দাবি দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন মন্ত্রণালয়। সে হিসেবে গত বৃহসপতিবার ঢাকায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পাটকলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। তৃতীয় দফা এই বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রীসহ পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজেএমসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেছেন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের ব্যাপারে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও এক মাস সময় চেয়েছেন। কিন্তু ওই এক মাস পর আসলেই মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউই। শুধু সময়ক্ষেপণ করতে এক মাসের কথা বলা হচ্ছে।
দক্ষ জনশক্তির জন্য প্রশিক্ষণ জরুরি
দক্ষ চালকের চাহিদা দেশে যেমন, একইভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। সুতরাং প্রশিণপ্রাপ্ত মানসম্মত চালকের পেশাদারিত্বে আরও সমতা বৃদ্ধিতে সরকার নতুন একটি কর্মপ্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। লাধিক তরুণকে গাড়ি চালনায় পারদর্শী করতে সরকার এেেত্র অর্থ ব্যয় করবে ২৬৭ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অনুমোদনকৃত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি প্রশিণ ব্যুরো। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাসকৃত এই মহৎ পরিকল্পনাটি দেশে-বিদেশে দ চালকের কর্মসংস্থান সহজলভ্য করতে বিশেষ উদ্যোগীর ভূমিকায় থাকবে। পরিকল্পনামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলায় বিদ্যমান বিভিন্ন কারিগরি প্রশিণ কেন্দ্র এমন গুরুদায়িত্ব পালন করবে। উদ্যোগী তরুণদের চালকের প্রশিণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সুদ মোটর ম্যাকানিক্স হিসেবেও তৈরি করা হবে। সবটাই হবে উন্নতমানের প্রশিণ কেন্দ্রের দায়বদ্ধতায়। রাস্তার মাঝখানে যাত্রী পরিবহন ুদ্র ও বৃহদাকার যানগুলোর যন্ত্র বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। একজন চালককে সে বিষয়েও পারদর্শী হওয়া জরুরী। যাতে তাৎণিক কর্মযোগে বিপন্ন গাড়িটি নতুন করে তার যাত্রাপথ শুরু করতে পারে। লাধিক তরুণকে বিনা মূল্যে প্রশিণ ছাড়াও প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ভাতাও দেয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে এই মুহূর্তে সৌদি আরবেই এক লাখ সুদ চালকের প্রয়োজন। আর এই চাহিদা শুধু সৌদিতেই নয়, সারা বিশ্বের দ চালকের গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। সঙ্গত কারণে নতুন দ চালক তৈরিতে উন্নতমানের আন্তর্জাতিক সীমানাকে মাথায় রেখেই প্রশিণকে সে মাত্রায় পারদর্শিতায় পূর্ণ করতে হবে। আর এই সম্ভাবনাময় প্রকল্পের আওতায় দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিণের মাধ্যমে দ চালক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়াও দতার মাপকাঠিতে আধুনিক সময়ের চালক তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। আর এই কর্মপ্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অগ্রসরমান অর্থনীতিতে। এই প্রশিণের নিমিত্তে প্রয়োজন পড়বে ১২৮টি ডাবল কেবিন পিকআপ, আটটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাস। এ ছাড়া লাগবে ১৯২টি প্রশিণ যন্ত্রপাতি, সাত ধরনের ২১টি অফিস যন্ত্রপাতি। প্রশিক থাকবেন হাতে-কলমে ১২৮ জন, তাত্ত্বিকভাবে ৬৪ জন ও দ কর্মী হিসেবে প্রশিণি পরিচালনা করবেন আরও ৬৪ জন। ৬১ জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২০২৪ সাল অবধি এর কর্মবিধি অব্যাহত থাকবে। দ ও উপযুক্ত প্রশিতি চালক তৈরি হলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, ফলে দেশের অর্থনীতির চাকাও হবে আরও গতিশীল। আমাদের দেশের কোন চালক যদি সৌদিতে চাকরি পায় তা হলে তার মাসিক বেতন হবে ১ হাজার ৩৫০ রিয়াল যার বাংলাদেশের মুদ্রায় আসবে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রশিতি চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে কোন অর্থমূল্য কিংবা আনুষঙ্গিক ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন হবে না। এ সবই প্রশিণ নেয়ার ইতিবাচক দিকনির্দেশনা।
যশোরে আ.লীগ নেতা শরিফ আব্দুর রাকিবের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শরীফ আব্দুর রাকিবের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিডি হলে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এতে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের হাল ধরে দলকে অনেক শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন লোভ-লালসা তাকে গ্রাস করতে পারেনি। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদের মধ্যে যে সব গুণাবলী থাকা দরকার প্রত্যেকটি গুণ তার মধ্যে ছিল। তিনি ছিলেন নেতা-কর্মী গড়ার কারিগর। তিনি নেতা-কর্মীদের সন্তানের মত লালন করতেন। একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি আমাদের সকলের কাছে অনুকরণীয়ও হয়ে থাকবেন।
স্মরণসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের মিলনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, সহ-সভাপতি আবুল খালেক, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরজাহান ইসলাম নিরা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী, ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. এনামুল হক, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব আলম বাচ্চু, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. অশোক কুমার রায়, জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাড. আবু বকর সিদ্দিকী, অ্যাড. শরীফ আব্দুর রাকিবের ভাই শরিফ রবিউল ইসলাম, বন্ধু মোবাশ্বের হোসেন বাবু প্রমুখ।
শিক্ষকের নির্যাতনে কওমি মাদ্রাসাছাত্রী হাসপাতালে : মস্তিষ্ক বিকৃতির আশঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার॥ শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ফাতেমা খাতুন (১১) নামে ওই ছাত্রীকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফাতেমা খাতুন চৌগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের কন্যা। শাহিনুর রহমান ও তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম জানিয়েছেন, তাদের কন্যা ফাতেমা খাতুন ওই মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সিরাজুল শপিং কমপ্লেক্সে ৩য় তলায় মাদ্রাসা অবস্থিত। তারা জানিয়েছেন, ৩ মাস আগে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজা খাতুন ও ফুলজান পড়ালেখার বিষয় নিয়ে ফাতেমা খাতুনকে বেদম প্রহার করেন। এক পর্যায়ে দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর মাথায় এক ঘন্টা ধরে পানি দেয়ার জন্য তার জ্ঞান ফিরে আসে। তখন তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে ফাতেমা খাতুনের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পিতা শাহিনুর রহমান আরও জানিয়েছেন, পরবর্তীতে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর তিনি ফাতেমা খাতুনকে মাদ্রাসায় নেন। এ নির্যাতনের দু’মাসের মাথায় ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় শাহিনুর রহমান এলাকায় চিকিৎসা করাতে থাকেন কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি বরং দিনকে দিন আরও অবনতি হতে থাকে।
গতকাল পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে বেলা ১১টার দিকে ফাতেমা খাতুনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিউল্লাহ সবুজ তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে ওয়ার্ডের ২১ নং বেডে চিকিৎসাধীন। ভর্তির সময় ডা. শফিউল্লাহ সবুজ কোন রোগের নাম কিংবা চিকিৎসা না দিয়ে রোগীর ভর্তি টিকিটে কনফিউশন স্ট্রেট (ঈড়হভঁংরড়হ ঝঃধঃব) লিখে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে মানসিক বিষয়ক চিকিৎসক যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. মো. আমিনুর রহমানের কাছে রেফার্ড করেন। সে ডা. আমিনুর রহমানের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে, ফাতেমা খাতুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেরার কারণে শুধু কান্নাকাটি করছে এবং অস্থিরতা নিয়ে ওয়ার্ডে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বেডে থাকছে না। পিতা-মাতা সর্বক্ষণ তাকে ধরে হাঁটাহাঁটি করছেন। তার পিতা-মাতা বলছেন, শিক্ষকরা মারপিট ও দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করার কারণে ফাতেমা খাতুনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রথমে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা চুপ করেছিলেন। কিন্তু এবার আর চুপ করে থাকবেন না। মেয়ের ক্ষতির কথা চিন্তা করেই শিক্ষদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন।
বছর জুড়ে সড়কে মৃত্যুর হানা দুর্ঘটনায় যশোরে নিহত ৭৬
মাসুদ রানা বাবু ॥ বিদায়ী বছরে যশোরের আলোচিত বিষয় ছিল সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই মানুষ দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে লাশের মিছিল। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এ বছর যশোরে ৭৬ জন নিহিত এবং শ’ শ’ নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো, ওভার লডিং ওভার টেকিং, অদক্ষ চালক, নিষিদ্ধ যানের বেপরোয়া চলাচল। উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৫ জানুয়ারি যশোর-মাগুরা মহাসড়কের খাজুরায় বাসচাপায় স্কুলছাত্রী ফাতিমা খাতুন নিহত হয়। পরদিন চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের বাটিকুমারি এলাকায় ট্রলি চাপায় হৃদয় আহমেদ নামের ওপর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। ১১ মার্চ যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সানতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আশরাফ হোসেন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় যশোর শহরের তেঁতুলতলা এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে এমএম কলেজ শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন নিহত হন। ২২ অক্টোবর খয়েরতলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মহিদুল ইসলাম লিয়ন (৭) নামের এক স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ১৯ অক্টোবর যশোর শহরের মুড়লি জোড়া মন্দির এলাকায় জ্বালানি তেলবাহী লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষক আব্দুর রশিদ (৬০) ঘটনাস্থলে নিহত হন। ২ নভেম্বর কেশবপুরের আলাপোলে আলমসাধুর ধাক্কায় স্কুলছাত্র এনামুল হক রনি (১৫) নিহত হয়। ১৪ নভেম্বর যশোর-নড়াইল মহাসড়কের বাঘারপাড়া ভিটাবল্যা বাজারে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী একরামুল হোসেন (২৬) নিহত হন। ২৪৫ নভেম্বর বেনাপোলের ছোটআঁচড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় যুবক শহর আলী (২৭) নিহত হন। ১৭ ডিিেসম্বর হাইকোর্ট মোড়ে ট্রাক চাপায় কলেজ (১৯) ছাত্র হাসিবুল হোসেন নিহত হন। ৫ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার বাঁকড়া এলাকায় নসিমন-করিমন সংঘর্ষে মসজিদের ইমাম মাওলানা কোমর উদ্দিন গাজী (৬০) নিহত হন। ৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি এলাকায় গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দিনমজুর নাসিরুদ্দিন (৩৮) নিহত হন। ১৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের রেলগেটে পরিবহনের ধাক্কায় রনজিত রায় (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। একই দিন ধর্মতলা-ছুটিপুর সড়কের পতেঙ্গালী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মারুফ হোসেন (৫৫) ও শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ইয়াকুব আলী (৭০) নিহত হন। ১৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি বাজারে পিকআপের ধাক্কায় আবুল হোসেন সরদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। পরদিন যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর আকিজ জুটমিল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় জামাল হোসেন (৪৪) নিহত হন। ২২ ডিসেম্বর যশোরের খাজুরা বাজার থেকে তেঁতুলতলা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনয় মোটরসাইকেলচালক সাবদুল হোসেন (৪০) নিহত হন।
এর আগে ১১ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার মোহাম্মদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কলেজছাত্র রিমন হোসেন (২২) নিহত হন। ২০ মার্চ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারণে দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান কেড়ে নেয় মেধাবী শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিপারার প্রাণ। ৩০ নভেম্বর অভয়নগরে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে আহত হন ৬ জন।
১৩ নভেম্বর যশোরের বিভিন্ন পল্লীতে দুর্ঘটনায় আহত হন ৬ জন, ১১ ডিসেম্বর যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার মল্লিকপুরে বাস উল্টে অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হন। ২২ ডিসেম্বর রাজারহাট-মনিরামপুর সড়কের বেগারিতলায় বাস-মহেন্দ্র সংঘর্ষে ৭ যাত্রী আহত হন।










