শিক্ষকের নির্যাতনে কওমি মাদ্রাসাছাত্রী হাসপাতালে : মস্তিষ্ক বিকৃতির আশঙ্কা

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ফাতেমা খাতুন (১১) নামে ওই ছাত্রীকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফাতেমা খাতুন চৌগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের কন্যা। শাহিনুর রহমান ও তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম জানিয়েছেন, তাদের কন্যা ফাতেমা খাতুন ওই মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সিরাজুল শপিং কমপ্লেক্সে ৩য় তলায় মাদ্রাসা অবস্থিত। তারা জানিয়েছেন, ৩ মাস আগে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজা খাতুন ও ফুলজান পড়ালেখার বিষয় নিয়ে ফাতেমা খাতুনকে বেদম প্রহার করেন। এক পর্যায়ে দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর মাথায় এক ঘন্টা ধরে পানি দেয়ার জন্য তার জ্ঞান ফিরে আসে। তখন তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে ফাতেমা খাতুনের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পিতা শাহিনুর রহমান আরও জানিয়েছেন, পরবর্তীতে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর তিনি ফাতেমা খাতুনকে মাদ্রাসায় নেন। এ নির্যাতনের দু’মাসের মাথায় ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় শাহিনুর রহমান এলাকায় চিকিৎসা করাতে থাকেন কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি বরং দিনকে দিন আরও অবনতি হতে থাকে।
গতকাল পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে বেলা ১১টার দিকে ফাতেমা খাতুনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিউল্লাহ সবুজ তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে ওয়ার্ডের ২১ নং বেডে চিকিৎসাধীন। ভর্তির সময় ডা. শফিউল্লাহ সবুজ কোন রোগের নাম কিংবা চিকিৎসা না দিয়ে রোগীর ভর্তি টিকিটে কনফিউশন স্ট্রেট (ঈড়হভঁংরড়হ ঝঃধঃব) লিখে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে মানসিক বিষয়ক চিকিৎসক যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. মো. আমিনুর রহমানের কাছে রেফার্ড করেন। সে ডা. আমিনুর রহমানের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে, ফাতেমা খাতুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেরার কারণে শুধু কান্নাকাটি করছে এবং অস্থিরতা নিয়ে ওয়ার্ডে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বেডে থাকছে না। পিতা-মাতা সর্বক্ষণ তাকে ধরে হাঁটাহাঁটি করছেন। তার পিতা-মাতা বলছেন, শিক্ষকরা মারপিট ও দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করার কারণে ফাতেমা খাতুনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রথমে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা চুপ করেছিলেন। কিন্তু এবার আর চুপ করে থাকবেন না। মেয়ের ক্ষতির কথা চিন্তা করেই শিক্ষদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন।