বছর জুড়ে সড়কে মৃত্যুর হানা দুর্ঘটনায় যশোরে নিহত ৭৬

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ বিদায়ী বছরে যশোরের আলোচিত বিষয় ছিল সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই মানুষ দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে লাশের মিছিল। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এ বছর যশোরে ৭৬ জন নিহিত এবং শ’ শ’ নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো, ওভার লডিং ওভার টেকিং, অদক্ষ চালক, নিষিদ্ধ যানের বেপরোয়া চলাচল। উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৫ জানুয়ারি যশোর-মাগুরা মহাসড়কের খাজুরায় বাসচাপায় স্কুলছাত্রী ফাতিমা খাতুন নিহত হয়। পরদিন চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের বাটিকুমারি এলাকায় ট্রলি চাপায় হৃদয় আহমেদ নামের ওপর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। ১১ মার্চ যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সানতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আশরাফ হোসেন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় যশোর শহরের তেঁতুলতলা এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে এমএম কলেজ শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন নিহত হন। ২২ অক্টোবর খয়েরতলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মহিদুল ইসলাম লিয়ন (৭) নামের এক স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ১৯ অক্টোবর যশোর শহরের মুড়লি জোড়া মন্দির এলাকায় জ্বালানি তেলবাহী লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষক আব্দুর রশিদ (৬০) ঘটনাস্থলে নিহত হন। ২ নভেম্বর কেশবপুরের আলাপোলে আলমসাধুর ধাক্কায় স্কুলছাত্র এনামুল হক রনি (১৫) নিহত হয়। ১৪ নভেম্বর যশোর-নড়াইল মহাসড়কের বাঘারপাড়া ভিটাবল্যা বাজারে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী একরামুল হোসেন (২৬) নিহত হন। ২৪৫ নভেম্বর বেনাপোলের ছোটআঁচড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় যুবক শহর আলী (২৭) নিহত হন। ১৭ ডিিেসম্বর হাইকোর্ট মোড়ে ট্রাক চাপায় কলেজ (১৯) ছাত্র হাসিবুল হোসেন নিহত হন। ৫ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার বাঁকড়া এলাকায় নসিমন-করিমন সংঘর্ষে মসজিদের ইমাম মাওলানা কোমর উদ্দিন গাজী (৬০) নিহত হন। ৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি এলাকায় গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দিনমজুর নাসিরুদ্দিন (৩৮) নিহত হন। ১৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের রেলগেটে পরিবহনের ধাক্কায় রনজিত রায় (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। একই দিন ধর্মতলা-ছুটিপুর সড়কের পতেঙ্গালী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মারুফ হোসেন (৫৫) ও শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ইয়াকুব আলী (৭০) নিহত হন। ১৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি বাজারে পিকআপের ধাক্কায় আবুল হোসেন সরদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। পরদিন যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর আকিজ জুটমিল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় জামাল হোসেন (৪৪) নিহত হন। ২২ ডিসেম্বর যশোরের খাজুরা বাজার থেকে তেঁতুলতলা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনয় মোটরসাইকেলচালক সাবদুল হোসেন (৪০) নিহত হন।
এর আগে ১১ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার মোহাম্মদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কলেজছাত্র রিমন হোসেন (২২) নিহত হন। ২০ মার্চ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারণে দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান কেড়ে নেয় মেধাবী শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিপারার প্রাণ। ৩০ নভেম্বর অভয়নগরে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে আহত হন ৬ জন।
১৩ নভেম্বর যশোরের বিভিন্ন পল্লীতে দুর্ঘটনায় আহত হন ৬ জন, ১১ ডিসেম্বর যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার মল্লিকপুরে বাস উল্টে অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হন। ২২ ডিসেম্বর রাজারহাট-মনিরামপুর সড়কের বেগারিতলায় বাস-মহেন্দ্র সংঘর্ষে ৭ যাত্রী আহত হন।