স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সাবেক চরমপন্থি ও বিশেষ আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পিকুল হোসেন (২০) আরো এক দুর্বৃত্তকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাউলিয়া গ্রাম থেকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এস আই মফিজুল ইসলাম পিপিএম জানান, পিকুল হোসেন বিশেষ আনসার সদস্য হোসেন আলী খুনের অন্যতম নায়ক সন্ত্রাসী জুয়েল-মুন্না গংয়ের সহযোগী। সে হাশিমপুর বাজার এলাকার মৃত রেজাউল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে বাউলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তারা পিকুল হোসেনকে আটক করেন। বাউলিয়ায় তার মামা মাসুদুর রহমান মুক্তির বাড়ি। হোসেন আলীকে খুন করার পর সে পালিয়ে মামার বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলো। তিনি আরো জানান, আটক পিকুল হোসেনকে তারা বুধবার আদালতে সোপর্দ করেছেন। এ সময় সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর সকালে হাশিমপুর বাজারে প্রকাশ্যে সাবেক চরমপন্থি হোসেন আলী তরফদারকে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে প্রতিপক্ষ চরমপন্থিরা। এলাকার সর্বহারা পার্টির জুয়েল-মুন্না গং এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও ছোট বাবু নামে ২ জন দুর্বৃত্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পিকুল হোসেনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে ৯ জনকে আটক করা হলো। তবে খুনের অন্যতম নায়ক জুয়েল ও মুন্নাকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি ডিবি পুলিশ।
নববর্ষে হামলা পরিকল্পনা, তুরস্কে ১৩ আইএস জিহাদি গ্রেপ্তার
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ইংরেজি নববর্ষে দেশব্যাপী উৎযাপনে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে ১৩ জিহাদিকে গ্রেপ্তার করেছে তুর্কি পুলিশ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল বেলা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সকলেই ইসলামিক স্টেটের সদস্য কিংবা সংগঠনটি দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করছেন তারা। এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ খুব সকালে রাজধানী আংকারার বিভিন্ন স্থানে ওই অভিযান পরিচালনা করে। তাদের কাছে পূর্বেই ওই জিহাদিদের অবস্থান ছিলো বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। তুর্কি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই আলাদা স্থানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। তাদের সঙ্গে সিরিয়ার অভ্যন্তরে সক্রিয় ইসলামিক স্টেটের যোগাযোগ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা বিভিন্ন জিহাদি কর্মকান্ডের ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায় কিভাবে কিশোরদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে পুলিশ ইসলামিক স্টেটের বেশ কিছু নথিপত্রও জব্দ করেছে। এখনো অভিযান চলছে। পুলিশের ধারণা সংগঠনটির আরো জিহাদিরা শহরে অবস্থান করছে। তুরস্ক ইসলামিক স্টেটকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে ২০১৩ সালে। এরপর থেকে দেশটিতে বেশ কয়েকবার হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট। এরমধ্যে রয়েছে অন্তত ১০টি আÍঘাতী হামলা, ৪টি সশস্ত্র হামলা ও ৭টি বোমা হামলা। এতে মোট নিহত হয়েছেন ৩১৫ জন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকশত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চেলসি ম্যানিংকে নির্যাতনের অভিযোগ জাতিসংঘ র্যাপোর্টারের
লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা চেলসি ম্যানিংকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। গত নভেম্বরে জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে এমন অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টার নিলস মেলজার। চিঠিটি ৩১শে ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। মেলজার অভিযোগ করেন, সীমাহীনভাবে, সকল সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করে নির্যাতন ও অন্যান্য নির্মম, অমানবিক বা অধঃপতিত শাস্তির সমান বলপ্রয়োগের বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপের শিকার হচ্ছেন ম্যানিং। প্রসঙ্গত, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেয়ায় ম্যানিংকে আটক করেছে মার্কিন প্রশাসন। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
খবরে বলা হয়, ম্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে মিলে মার্কিন সামরিক কম্পিউটার থেকে গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। ওই নথিপত্রগুলো তৎকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে ২০১১ সালে ম্যানিংকে ৩৫ বছর সামরিক কারাদ- দেয় মার্কিন আদালত।
সাত বছর জেল খাটার পর ২০১৭ সালে তৎকালীন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার শাস্তি কমিয়ে দেন। ওই বছরের ১৭মে তাকে খালাস করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৬ই মে এক গ্র্যান্ড জুরির সামনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়া বন্দি শিবিরে আটক রয়েছেন। তিনি যদি অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে প্রমাণ না দেন তাহলে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত তাকে আটক রাখা হবে। এর সঙ্গে আটক থাকাকালীন প্রতিদিন তাকে ১০০০ ডলার করে জরিমানা গুণতে হবে। নভেম্বরে তাকে শাস্তি দেয়া গ্র্যান্ড জুরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মুক্তি পাবেন তিনি, কিন্তু ততদিনের জন্য তাকে জরিমানা দিতে হবে।
জাতিসংঘের র্যাপোর্টার মেজলার তার চিঠিতে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক বিধান ব্যবহার করে নাগরিক অবমাননার জন্য স্বাধীনতা থেকে জোরপূর্বকভাবে দূরে রাখার চর্চা করা হচ্ছে। বিচারিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বলপ্রয়োগ ও ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কঠোর মানসিক নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিধান। মেলজার সতর্ক করে বলেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে বলপূর্বকভাবে আটক রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার’ এর উপসর্গ দেখা গেছে পূর্বে। এ ছাড়া, নানা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি দেখা গেছে। তিনি বলেন, ম্যানিংয়ের আটক কোনো বৈধ নিষেধাজ্ঞা নয়। এটি সীমাহীনভাবে, নির্যাতনের সমান কঠোর প্রগতিশীল বলপ্রয়োগের পদক্ষেপ। এই শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা উচিৎ।
ম্যানিংয়ের আইনজীবীদের যুক্তি, গ্র্যান্ড জুরির সঙ্গে একমত না হওয়ায় তাকে আটক করা অর্থহীন, শাস্তিমূলক ও নির্মম। এতে ম্যানিং তার অবস্থান পাল্টাবেন না।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাচন ১৪ মার্চ
লোকসমাজ ডেস্ক॥ তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) ২০২০-২২ মেয়াদকালের জন্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি নির্বাচন বোর্ড গত ২৪ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুসারে আগামী ১৪ মার্চ ২০২০-২২ মেয়াদকালের কার্যকরী এবং শাখা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্পিনোভেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টি আই এম নূরুল কবির। সদস্য হিসেবে ওরা-টেক কনসালটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ কবীর আহমেদ এবং এক্সেল ইন্টেলিজেন্স সলিউশন লিমিটেডের পরিচালক বীরেন্দ্র নাথ অধিকারী দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন টেকনোহেভেন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুল্লাহ এন করিম। ডিজিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক এবং ট্রেসার ইলেকট্রোকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আপিল বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অবশেষে পরিষ্কার হলো কেসি কলেজ ছাত্রাবাসের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত সরকারি কেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়। কেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের মলযুক্ত ময়লা পানির দুগর্ন্ধে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পুলিশ বক্সে বসে কোনো ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্য ডিউটি করতে পারছিলেন না। দুর্গন্ধে মানুষ নাকে রুমাল দিয়ে চলাফেরা করতো। এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কেসি কলেজের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ছাত্রাবাসের চারদিকে ময়লা পানিতে সয়লাব হয়েছিল। ফলে ছাত্রাবাসের সেপটিক ট্যাংক উপচে ময়লা পানি রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল। ছাত্ররাও দুগর্ন্ধে পড়ালেখা করতে পারছিলো না। বিষয়টি নিয়ে কেসি কলেজের শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, এক মাস আগে আমরা ট্যাংক পরিস্কার করেছিলাম। স্থায়ী ড্রেন না থাকায় কোনো সুরাহা হয় না।
সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইসির চিঠি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো: আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ২২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
এগুলো হলো, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যে অগ্রিম বাজেট প্রণয়ন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুতকরণ এবং নির্বাচনী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। দুই সিটিতে ১৪ মেয়র প্রার্থীসহ এক হাজার ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
লাল শাক খান নাকি?
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ১০০ গ্রাম লাল শাকে রয়েছে ১০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম ডায়াটারি ফাইবার, ৪.৬ গ্রাম প্রোটিন, ৪২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৩৪০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৩৬৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ মিলিগ্রাম আয়রন, ১.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ এবং ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। আর এই সবকটি উপাদানই যে শরীরের গঠনে ভীষণভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চয় আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না। বিশেষত ওজন কমাতে, কিডনির ক্ষমতা বাড়াতে, দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এমনকি জ্বরের চিকিৎসায়ও লাল শাকের তুলনা হয় না।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : প্রতিদিন লাল শাক খাওয়া শুরু করলে শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।
জ্বরের চিকিৎসায় : ওয়েদার চেঞ্জের কারণে যারা জ্বরে ভুগছেন, তারা এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে একটা প্যানে পরিমাণ মতো পানি নিয়ে তাতে এক মুঠো লাল শাক ফেলে দিন। তারপর পানিটা ফোটাতে শুরু করুন। যখন দেখবেন ফুটতে ফুটতে পানির পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে দিন। এরপর পানিটা ঠাণ্ডা করে সেটা পান করুন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন জ্বর পালিয়েছে।
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে : লাল শাকে থাকা ভিটামিন সি রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা চোখে কম দেখেন বা পরিবারে গ্লকোমার মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই লাল শাক খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই উপকার পাবেন।
হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : লাল শাকে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার হাড় শক্তপোক্ত হয়ে উঠলে অস্টিওপরোসিস মতো হাড়ের রোগ যে আর ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় : লাল শাকে থাকা “ফাইটোস্টেরল” নামক একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, তেমনি নানাবিধ হার্টের রোগের অ্যান্টিডোট হিসেবেও কাজ করে। সপ্তাহে কম করে ২-৩ দিন যদি লাল শাক খাওয়া যায়, তাহলে হার্টের ক্ষমতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে কোনও ধরনের হার্টের রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।
অ্যানিমিয়ার দূরে পালায় : লাল শাকে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। অ্যানিমিয়া রোগীরা এই শাকটি খেতে পারেন। দুই আঁটি লাল শাককে পিষে রস সংগ্রহ করে তার সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে যদি নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে শরীরে কখনও রক্তের অভাব হবে না।
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : লাল শাকে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্ট যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজমের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপও হ্রাস পায়।
কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে : লাল শাক খেলে একদিকে যেমন কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে, তেমনি অন্যদিকে রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। ফলে নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে।
দাঁতের স্বাস্থ্যে : লাল শাকের মূল দিয়ে দাঁত মাজার পর লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের হলুদ ভাব কেটে যায়। সেই সঙ্গে পোকা লাগাসহ মাড়ি এবং দাঁত সম্পর্কিত নানাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।
চুল পড়া কমায় : এক আঁটি লাল শাঁক ভালো করে বেটে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর তাতে ১ চামচ লবণ মিশিয়ে ভালো করে নাড়ান। যখন দেখবেন দুটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটি ছেঁকে নিয়ে পান করুন। এমনটা প্রতিদিন করলে চুল পড়ার হার অনেক কমবে।
অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে : লাল শাকে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেসপিরেটরি সিস্টেমের উন্নতিও ঘটে চোখে পড়ার মতো। দেশে যে হারে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে, তাতে লাল শাক খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই!
২০১৮-১৯ অর্থবছর: বিমানের লাভ ২১৮ কোটি টাকা
লোকসমাজ ডেস্ক॥ রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২১৮ কোটি টাকা লাভ করেছে। গত সোমবার বিমানের ১২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ ঘোষণা করা হয়।
বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় অনুষ্ঠিত এ সভায় জানানো হয়, গত অর্থবছর তারা নিট (কর পরিশোধ করে) ২১৮ কোটি টাকা লাভ করেছে।
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ ইনামুল বারী। সভায় বিমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শেয়ারহোল্ডার, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. মোকাব্বির হোসেন, কোম্পানি সচিব কাজী আতিকুর রহমানসহ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানের আয়-ব্যয়ের শাখার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১-৯২ থেকে ২০০৩-০৪ অর্থবছর পর্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল বিমান। এর পর থেকে টানা লোকসানে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরই লাভ করে বিমান। এরপর ২০০৯-১০ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর লোকসান দেয় বিমান। তারপর তিন অর্থবছর লাভ করে। এরপর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে আবারো লোকসান দেয় বিমান। গত ১০ বছরের মধ্যে ছয় বছরে বিমানের মোট লোকসান ১ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। বাকি চার অর্থবছর মোট লাভ হয় ৭৭৭ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিমানের লাভ হয়েছে ২৭২ কোটি টাকা। সে হিসাবে বিমান প্রতিমন্ত্রীর ও বিমানের দেয়া মুনাফার তথ্যে ৫৪ কোটি টাকার গরমিল দেখা দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিমানের মোট আয় ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা এবং ব্যয় হয় ৫ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫ শ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন
লোকসমাজ ডেস্ক॥ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডকে বন্ড ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৫ শ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ( বিএসইসি) ৭১৩তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকটিকে রিডিমঅ্যাবল নন-কনভার্টেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭ বছর মেয়াদী এই বন্ডের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নন-কনভার্টেবল, ফুল্লি রিডিমঅ্যাবল, আনসিকিউরড এবং আনলিস্টেড সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড। যা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে।
উল্লেখ্য, এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উত্তোলন করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক টায়ার-১১ ক্যাপিটাল বেজড শক্তিশালী করবে। এই বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১ কোটি টাকা। এই বন্ডের ট্রাস্টি এবং ম্যানডেটেড লিড অ্যারেঞ্জার হিসাবে রয়েছে যথাক্রমে ইবিএল ইনভেস্ট
কলব্যাক করলেই বিপদ যে নম্বরে!
লোকসমাজ ডেস্ক॥ আপনি হয়তো প্রায়ই মোবাইল ফোনে অজানা নম্বর থেকে মিসডকল আসলে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কলব্যাক করেন। কিন্তু এর ফলে আপনি যে কতবড় বিপদে পড়তে পারেন তা কি আপনার জানা আছে! যেই নম্বর থেকে কলটি আসলো তার কোড যদি হয় +২২৬ অথবা +২৩২ এমন কোনো নম্বর, তাহলে আর আপনার রক্ষা নেই।
এমন নম্বরে আপনি কল ব্যাক করে দেখলেন কেউ একজন কল রিসিভ করেছে, কিন্তু কোনো কথা বলছে না। আর আপনিও হয়তো বিরক্ত হয়ে লাইন কেটে দিলেন। আর এভাবেই আপনি পড়ে গেলেন এক মহা বিপদের ফাঁদে। কারণ এরপর আপনার প্রিপেইড অ্যাকাউন্ট চেক করলে দেখবেন যে ব্যাল্যান্স পুরো শেষ, এক পয়সাও নেই!
এরকম ঘটনা আজকাল প্রায়ই হচ্ছে। আর এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক প্রতারণার ফাঁদ। একটা প্রযুক্তি আছে যার নাম ‘ওয়ান রিং স্ক্যাম’।
এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বিষয়ক সংস্থা এফএফসিতে একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যিনি কল করছেন, তিনি অটোমেটিক ডায়াল অপশন ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্দাজে একের পর এক নম্বরে ডায়াল করা হয়। এবং রিং বাজলেই কেটে যায় ফোন। আর স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ধাঁচের নম্বর থেকে কল এলে তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হতেই পারে কারও কাছে।
আরো বলা হয়, তবে যখনই আপনি কলব্যাক করছেন, তখনই উচ্চ রেটের আন্তর্জাতিক হটলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে আপনাকে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের কোনো সাইটের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। কলব্যাক করার পর তা অন্যপাশ থেকে তা রিসিভ হবে ঠিকই। তবে হয় বিশেষ কোনো মিউজিক শুনতে পাবেন অথবা কোনো শব্দই পাবেন না। এসব কল রিসিভ হওয়া মাত্রই শুধু হাইরেটে অর্থ কাটবে তাই নয়, যতক্ষণ আপনি অপেক্ষায় থাকবেন আপনার অ্যাকাউন্ট খালি হতেই থাকবে।
অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, আফ্রিকা ভিত্তিক কয়েকটি দল এসব কলের মাধ্যমে ফোনের অর্থ ও স্টোরেজ থেকে ডেটা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই মোবাইল ফোন বাবহারকারীদের এই ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ভুলেও কলব্যাক করা যাবে না অপরিচিত এই ধরণের নম্বরে।
সূত্র: সিএনএন










