ঝিনাইদহে কুরবানির পশু পালনে রেকর্ড, ৫৬ হাজার গবাদিপশু উদ্বৃত্ত

0
ছবি: সংগৃহীত।

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ॥ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর প্রস্তুতিতে রেকর্ড গড়েছে ঝিনাইদহ জেলা। জেলার ছয়টি উপজেলায় এবার বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় জোগান দিতে ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঝিনাইদহে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫৬ হাজার ৯৭৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, ঝিনাইদহের সদর, শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর এই ছয়টি উপজেলায় মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি গবাদিপশু কুরবানির জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে গরু রয়েছে ৯৩ হাজার ৫৭২, মহিষ ১ হাজার ৩৩৪টি, ছাড়ল ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ ও ভেড়া রয়েছে ৯ হাজার ২৬১ টি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট কুরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি। অর্থাৎ ৫৬ হাজারেরও বেশি পশু ঝিনাইদহ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় পশুর হাটে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, খামারিদের নিরলস প্রচেষ্টায় এবং আধুনিক প্রজনন পদ্ধতির ফলে জেলায় পশুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

হরিণাকুন্ডুর পায়রাডাঙ্গা গ্রামের খামারী হাফিজুর রহমান জানান, এবার বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে তারা লাভবান হবেন। গত বছরের তুলনায় পশুখাদ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পশুর মান ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা হরমোন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে এসব পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আতিকুজ্জামান জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ একটি কৃষিপ্রধান জেলা এবং এখানে পশু পালন একটি বড় অর্থনৈতিক ভিত্তি। কুরবানির হাটে অসুস্থ পশু কেনাবেচা রোধে প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম থাকবে। এছাড়া পশু পরিবহনে যেন কোনো চাঁদাবাজি বা হয়রানি না হয়, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হবে।