পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: তৃণমূলের দেড় দশকের শাসনের অবসান, নেপথ্যে বিজেপির ৫ কৌশল

0
পশ্চিমবঙ্গে দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিশাল জয় পেল বিজেপি। নারী ভোটারদের সমর্থন, সরকারি কর্মীদের প্রতিশ্রুতি এবং 'মোদি ম্যাজিক'-এ ভর করে ২০৪ আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিশাল জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে বিজেপি। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে পরাজিত করে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির দল।

সর্বশেষ নির্বাচনী ফলাফল (সন্ধ্যা ৬:০৬ পর্যন্ত):

  • বিজেপি (BJP): ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৪টি আসনে এগিয়ে (ইতিমধ্যেই ৩৩টিতে জয় নিশ্চিত)। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের গণ্ডি অনেক আগেই পার করেছে দলটি।

  • তৃণমূল কংগ্রেস (AITC): মাত্র ৮৩টি আসনে এগিয়ে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বড় ধরণের পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে তারা।

  • অন্যান্য: কংগ্রেস (২), এজেইউপি (২), সিপিআইএম (১) এবং এআইএসএফ (১) টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

বিজেপির জয়ের প্রধান ৫টি কারণ:

  • নারী ভোটারদের সমর্থন: এনডিএ সরকারের ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ এবং বিজেপির কৌশলী প্রচারের ফলে নারী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ হিসাব মতে, রাজ্যে বিজেপির পক্ষে নারী ভোট অন্তত ৫ শতাংশ বেড়েছে।

  • সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ নিরসন: ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর এবং শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি সরকারি কর্মচারীদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করেছে। এটি প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ ভোটারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

  • কেন্দ্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন (মোদি ম্যাজিক): ‘মোদি বনাম মমতা’ প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী মোদির উন্নয়ন প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছে।

  • নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি: আর জি কর কাণ্ডসহ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে বিজেপির প্রচার শাসক দলের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে।

  • ভোটার তালিকা সংশোধন: ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লাখ ‘ভুয়া’ বা ‘বহিরাগত’ নাম বাদ দেওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে স্বচ্ছতা এসেছে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।