স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শরীফ আব্দুর রাকিবের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিডি হলে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এতে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের হাল ধরে দলকে অনেক শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন লোভ-লালসা তাকে গ্রাস করতে পারেনি। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদের মধ্যে যে সব গুণাবলী থাকা দরকার প্রত্যেকটি গুণ তার মধ্যে ছিল। তিনি ছিলেন নেতা-কর্মী গড়ার কারিগর। তিনি নেতা-কর্মীদের সন্তানের মত লালন করতেন। একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি আমাদের সকলের কাছে অনুকরণীয়ও হয়ে থাকবেন।
স্মরণসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের মিলনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, সহ-সভাপতি আবুল খালেক, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরজাহান ইসলাম নিরা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী, ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. এনামুল হক, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব আলম বাচ্চু, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. অশোক কুমার রায়, জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাড. আবু বকর সিদ্দিকী, অ্যাড. শরীফ আব্দুর রাকিবের ভাই শরিফ রবিউল ইসলাম, বন্ধু মোবাশ্বের হোসেন বাবু প্রমুখ।
যশোরে আ.লীগ নেতা শরিফ আব্দুর রাকিবের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
শিক্ষকের নির্যাতনে কওমি মাদ্রাসাছাত্রী হাসপাতালে : মস্তিষ্ক বিকৃতির আশঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার॥ শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ফাতেমা খাতুন (১১) নামে ওই ছাত্রীকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফাতেমা খাতুন চৌগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের কন্যা। শাহিনুর রহমান ও তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম জানিয়েছেন, তাদের কন্যা ফাতেমা খাতুন ওই মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সিরাজুল শপিং কমপ্লেক্সে ৩য় তলায় মাদ্রাসা অবস্থিত। তারা জানিয়েছেন, ৩ মাস আগে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজা খাতুন ও ফুলজান পড়ালেখার বিষয় নিয়ে ফাতেমা খাতুনকে বেদম প্রহার করেন। এক পর্যায়ে দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর মাথায় এক ঘন্টা ধরে পানি দেয়ার জন্য তার জ্ঞান ফিরে আসে। তখন তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে ফাতেমা খাতুনের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পিতা শাহিনুর রহমান আরও জানিয়েছেন, পরবর্তীতে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর তিনি ফাতেমা খাতুনকে মাদ্রাসায় নেন। এ নির্যাতনের দু’মাসের মাথায় ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় শাহিনুর রহমান এলাকায় চিকিৎসা করাতে থাকেন কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি বরং দিনকে দিন আরও অবনতি হতে থাকে।
গতকাল পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে বেলা ১১টার দিকে ফাতেমা খাতুনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিউল্লাহ সবুজ তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে ওয়ার্ডের ২১ নং বেডে চিকিৎসাধীন। ভর্তির সময় ডা. শফিউল্লাহ সবুজ কোন রোগের নাম কিংবা চিকিৎসা না দিয়ে রোগীর ভর্তি টিকিটে কনফিউশন স্ট্রেট (ঈড়হভঁংরড়হ ঝঃধঃব) লিখে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে মানসিক বিষয়ক চিকিৎসক যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. মো. আমিনুর রহমানের কাছে রেফার্ড করেন। সে ডা. আমিনুর রহমানের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে, ফাতেমা খাতুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেরার কারণে শুধু কান্নাকাটি করছে এবং অস্থিরতা নিয়ে ওয়ার্ডে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বেডে থাকছে না। পিতা-মাতা সর্বক্ষণ তাকে ধরে হাঁটাহাঁটি করছেন। তার পিতা-মাতা বলছেন, শিক্ষকরা মারপিট ও দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করার কারণে ফাতেমা খাতুনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রথমে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা চুপ করেছিলেন। কিন্তু এবার আর চুপ করে থাকবেন না। মেয়ের ক্ষতির কথা চিন্তা করেই শিক্ষদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন।
বছর জুড়ে সড়কে মৃত্যুর হানা দুর্ঘটনায় যশোরে নিহত ৭৬
মাসুদ রানা বাবু ॥ বিদায়ী বছরে যশোরের আলোচিত বিষয় ছিল সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই মানুষ দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে লাশের মিছিল। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এ বছর যশোরে ৭৬ জন নিহিত এবং শ’ শ’ নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো, ওভার লডিং ওভার টেকিং, অদক্ষ চালক, নিষিদ্ধ যানের বেপরোয়া চলাচল। উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৫ জানুয়ারি যশোর-মাগুরা মহাসড়কের খাজুরায় বাসচাপায় স্কুলছাত্রী ফাতিমা খাতুন নিহত হয়। পরদিন চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের বাটিকুমারি এলাকায় ট্রলি চাপায় হৃদয় আহমেদ নামের ওপর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। ১১ মার্চ যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সানতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আশরাফ হোসেন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় যশোর শহরের তেঁতুলতলা এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে এমএম কলেজ শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন নিহত হন। ২২ অক্টোবর খয়েরতলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মহিদুল ইসলাম লিয়ন (৭) নামের এক স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ১৯ অক্টোবর যশোর শহরের মুড়লি জোড়া মন্দির এলাকায় জ্বালানি তেলবাহী লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষক আব্দুর রশিদ (৬০) ঘটনাস্থলে নিহত হন। ২ নভেম্বর কেশবপুরের আলাপোলে আলমসাধুর ধাক্কায় স্কুলছাত্র এনামুল হক রনি (১৫) নিহত হয়। ১৪ নভেম্বর যশোর-নড়াইল মহাসড়কের বাঘারপাড়া ভিটাবল্যা বাজারে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী একরামুল হোসেন (২৬) নিহত হন। ২৪৫ নভেম্বর বেনাপোলের ছোটআঁচড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় যুবক শহর আলী (২৭) নিহত হন। ১৭ ডিিেসম্বর হাইকোর্ট মোড়ে ট্রাক চাপায় কলেজ (১৯) ছাত্র হাসিবুল হোসেন নিহত হন। ৫ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার বাঁকড়া এলাকায় নসিমন-করিমন সংঘর্ষে মসজিদের ইমাম মাওলানা কোমর উদ্দিন গাজী (৬০) নিহত হন। ৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি এলাকায় গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দিনমজুর নাসিরুদ্দিন (৩৮) নিহত হন। ১৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের রেলগেটে পরিবহনের ধাক্কায় রনজিত রায় (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। একই দিন ধর্মতলা-ছুটিপুর সড়কের পতেঙ্গালী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মারুফ হোসেন (৫৫) ও শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ইয়াকুব আলী (৭০) নিহত হন। ১৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি বাজারে পিকআপের ধাক্কায় আবুল হোসেন সরদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। পরদিন যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর আকিজ জুটমিল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় জামাল হোসেন (৪৪) নিহত হন। ২২ ডিসেম্বর যশোরের খাজুরা বাজার থেকে তেঁতুলতলা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনয় মোটরসাইকেলচালক সাবদুল হোসেন (৪০) নিহত হন।
এর আগে ১১ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার মোহাম্মদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কলেজছাত্র রিমন হোসেন (২২) নিহত হন। ২০ মার্চ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারণে দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান কেড়ে নেয় মেধাবী শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিপারার প্রাণ। ৩০ নভেম্বর অভয়নগরে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে আহত হন ৬ জন।
১৩ নভেম্বর যশোরের বিভিন্ন পল্লীতে দুর্ঘটনায় আহত হন ৬ জন, ১১ ডিসেম্বর যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার মল্লিকপুরে বাস উল্টে অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হন। ২২ ডিসেম্বর রাজারহাট-মনিরামপুর সড়কের বেগারিতলায় বাস-মহেন্দ্র সংঘর্ষে ৭ যাত্রী আহত হন।
ফার্মেসি মালিকের মৃত্যুতে শোক
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডস্থ মেসার্স বাঘারপাড়া ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা আতিয়ার রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি এমএ জামাল উদ্দিন বিলু মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় আতিয়ার রহমান শহরের ইউনিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। রাতে বারান্দীপাড়া মাঠপাড়ায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বাঘারপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
পরিবহন শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান হবির ইন্তেকাল: নেতৃবৃন্দের শোক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি আর নেই। বার্ধক্যজনিত রোগে শনিবার রাতে যশোর শহরের বকচরে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রোববার সকালে তার মরদেহ যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বাদজোহর বকচর হুশতলা জামিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা নামাজ শেষে হুশতলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রবিউল হোসেন রবি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বকস দুদু, জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রশিদ বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ ফুলু প্রমুখ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বাগেরহাট ও নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ আহত ২১
বাগেরহাট ও লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাট ও নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে আলাদা দুর্ঘটনায় দুই জন ও লোহাগড়ায় এক শিশু নিহত হয়েছে।
বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটে একটি দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে এক যাত্রী নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় খুলনা থেকে শরণখোলাগামী বিআরটিসির একটি বাস বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিলকুল গ্রামের একটি পুকুরে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যদর্শী মিজানুর রহমান বলেন, বিআরটিসি বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিলকুল গ্রামের হানেফ শেখের পুকুরে পড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধারে পানিতে নেমে পড়েন। দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, ‘পুকুরে বাস পড়ার খবর শুনে ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসের নিচে একজনের মরদেহ আটকে আছে। আহত যাত্রীদের বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে’।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান ছিল।
এ জেলায় অপর সড়ক দুর্ঘটনায় ক্রেজি জিমনেসিয়ামের পরিচালক কামরান হোসেন (২৩) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বাগেরহাট শহর রক্ষাবাঁধের কাঁচাবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কামরান হোসেন বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া গ্রামের ইসারাত হোসেনের ছেলে। আহতরা হলেন,বাগেরহাট শহরের সরুই এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে জাকির খলিফা (৩৫), পূর্ববাসাবাটি এলাকার সুবহান তালুকদারের ছেলে মন্টু তালুকদার (৫৫) ও পথচারী মো. সেলিম (৩২) । আহত দুই শ্রমিককে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাগেরহাট সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পান্নু মিয়া বলেন, কামরান হোসেন তার এক বন্ধুকে বিসিক এলাকায় এগিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শহর রক্ষাবাঁধ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা আলুভর্তি ট্রাকে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন। ট্রাক থেকে আলু নামানোর সময় দুই শ্রমিক ও এক পথচারীও আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কামরান হোসেনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। অন্য আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা জানান, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা-মহাজন সড়কের লুটিয়া খালচর এলাকায় যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল ও মালবোঝাই ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়ন দত্ত(৯) নামে এক শিশু নিহত ও অপর দুইজন আহত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লক্ষ্মীপাশা থেকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক তিনজন যাত্রী নিয়ে মহাজনের পথে রওনা হয়। লুটিয়া খালচর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা মালবোঝাই ট্রলির সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এ সময় ঘটনাস্থলে কুমড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের রহমান দত্তর ছেলে নয়ন দত্ত(৯) নিহত হয়। আহতরা হলো, কুমড়ি মধ্যপাড়ার মতিয়ার মোল্যার ছেলে মিরাজুল মোল্যা(১৮) ও বাটিকাবাড়ির সাদিয়ার(১৭)। এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। লোহাগড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার নাইমা জানান, হাসপাতালে আনবার আগেই নয়নের মৃত্য হয়েছে। বাকি দুজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খুলনা প্রেস কাব নির্বাচনে বিজয়ী নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন
ফুলতলা (খুলনা) অফিস ॥ খুলনা প্রেস কাবের নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজাসহ নির্বাচিত সকল কর্মকর্তা ও সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা প্রেসকাব ফুলতলার নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন-সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, শেখ ওসমান কবির, রমজান মাহমুদ অরণ্য, কবি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুরুপ বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসকাব ফুলতলার নেতৃবৃন্দ। এরা হলেন-সভাপতি সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, সম্পাদক সেকেন্দার আলী, সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনি, সহকারী অধ্যাপক মো. নেছার উদ্দিন, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
যশোরে সাবেক চরমপন্থি হোসেন আলী হত্যাকাণ্ডে আটক ৫ জনের রিমান্ড মঞ্জুর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে সাবেক চরমপন্থি ও বিশেষ আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার হত্যাকাণ্ডে আটক ৫ সন্ত্রাসীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দিন হোসাইন তাদের প্রত্যেককে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম আদালতে তাদের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন।
আদালত যাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন তারা হচ্ছে-কায়েতখালী মধ্যপাড়ার মহাসীন আলী ওরফে হোসেন আলীর ছেলে রাসেল কবির, নুর ইসলাম মোল্লার ছেলে হাবিল হোসেন ওরফে বার্মিজ, মুকুন্দ কুমার বিশ্বাসের ছেলে বিজং কুমার বিশ্বাস, হাশিমপুরের কেনায়েত বিশ্বাসের ছেলে সুজন হোসেন ও মিলন হোসেনের ছেলে সজল হোসেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, তারা হোসেন আলী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। হত্যাকাণ্ডের পর তারা পালিয়ে রাজধানী ঢাকায় চলে যায়। গত ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন ১৫ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার ভাসানটেক ও কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লিখিতরা ছাড়াও কায়েতখালী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া থেকে আটক করেন হাশিমপুর মধ্যপাড়ার আরাফাত আলীর ছেলে বাবু হোসেন ওরফে আলী রাজ ওরফে গালকাটা বাবু ওরফে ছোট বাবুকে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে আটক আনোয়ার হোসেন ও ছোট বাবু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে হাশিমপুর বাজারে প্রতিপ চরমপন্থিরা হোসেন আলীকে গুলি চালিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
দিঘলিয়ায় জাল সনদে চাকরি ও নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন
খুলনা ব্যুরো ॥ ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সাধারণ কেয়ারটেকার আল-আমিন ফকির এর দাওরা হাদিস (মাওলানা) শ্রেণির জাল সনদ দিয়ে চাকরি এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দের নামে নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় আলেম সমাজে সমালোচনার সৃস্টি হয়েছে।
এদিকে, তার এ অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা খতিয়ে দেখতে রবিবার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় পরিচালক এবং দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাদাভাবে তদন্ত কমিটি দুটি গঠন করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের নির্দেশে গঠিত চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির সহকারী পরিচালক তবিবুর রহমানকে। আর সদস্য সচিব হচ্ছেন পরিচালকের পিএ আব্দুল হামিম। এ ছাড়া সদস্যরা হলেন কামরুল ইসলাম ও নূরুল ইসলাম। অপরদিকে, দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গঠিত এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে। তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শাহীন বিন জামান বলেন, তদন্ত কমিটিকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গঠিত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে,বছরের শুরুতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের নতুন শিক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দ ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের বাণিজ্যের লক্ষ্যে নয়া কৌশল শুরু করেছেন অভিযুক্ত কেয়ারটেকার আল-আমিন ফকির। তিনি ইতোমধ্যেই পুরনো কেন্দ্র বাতিল এবং শিক্ষকদের ছাটাই করে অর্থ নিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিভিন্ন অজুহাত খুঁজছেন। এরই অংশ হিসেবে ১৫জন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়াও অনেককেই হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষা কেন্দ্রের ১৫জন শিক্ষককে শোকজের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তিনি নিজে, আল আমিন এবং হাফিজুর রহমান তিনজন মিলেই তারা এ তালিকা করেছেন। এখানে আল আমিনের ব্যক্তিগত কোন উদ্দেশ্য আছে-কিনা সেটি তার জানা নেই।
উল্লেখ্য, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার হাজী গ্রামের নূর মোহাম্মদ ফকিরের ছেলে আল-আমিন ফকির ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) এর উপজেলার সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি ইফার জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ এবং স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় শিক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দ ও শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য শুরু করেন। এভাবে গত তিন বছরে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে অর্থ গুণতে গিয়ে স্থানীয় আলেম-উলামাগণ তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ঘুষ ছাড়া কোন শিক্ষক নতুন কেন্দ্র পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে ইতঃপূর্বে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আল-আমিন ফকির তেমন লেখাপড়া করেনি। কিন্তু তিনি উপজেলার সেনহাটির জামেয়া আরাবিয়া জাকারিয়া দারুল উলুম মাদরাসার নামে দাওরা হাদিস পাসের একটি জাল সনদ দিয়ে চাকরি করছেন। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানে খোঁজ জানা গেছে,তিনি কখনওই ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করেননি। এ ধরনের জালিয়াতি এবং অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। যদিও অভিযুক্ত আল-আমিন ফকির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন।
কলারোয়ায় ইয়াবাসহ একজন আটক
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আসাদুল মোল্যা নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। সে কলারোয়া উপজেলার কুমারনল গ্রামের মৃত আনিচ উদ্দীনের ছেলে। শনিবার বিকেলে ঝিকরা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার সকালে আটককৃতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।










