শৃঙ্খলা ফিরেছে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থা অনেকটা দূর হয়েছে। রোগীরা হাসপাতাল থেকে ওষুধ ও ইনজেকশন পাচ্ছেন। পরিবেশন করা হচ্ছে ভালোমানের খাবার। হাসপাতাল আঙিনায় বসানো হয়েছে ফুলের টব। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরও পরিছন্নতাকর্মী।
মিঠুন শিকদার নামে এক রোগী জানান, হাসপাতালের অনেক অনিয়ম এখন প্রকাশ্যে এসেছে। যা রোগীসহ অনেকেই অবগত। যার ফলে চুরি, সিন্ডিকেটসহ সকল অনিয়ম এখন বন্ধ করেছেন নতুন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে মোট ডাক্তারের প্রয়োজন ৬৪ জনের। তারমধ্যে ২৫ টি পদ শূন্য রয়েছে। ৩৯ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল পরিচালিত করা হচ্ছে। ফলে রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাসহ সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং অন্যান্য পদসংখ্যা ৯১ জন। তারমধ্যে ৭১ জন কর্মরত, বাকি ২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও ৩য়, ৪র্থ শ্রেণি ও আউট সোর্সিং এ অনেক পদ শূন্য রয়েছে।
জানা যায়, ২০২১ সালে ঝিনাইদহ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীতকরণ করা হয়। তার পর থেকে সরকারের পর্যাপ্ত বাজেট থাকলেও নানা অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নতুন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেন। বর্তমানে হাসপাতালটির আঙিনায় বসানো হয়েছে ফুলের টব। খাবারের মান উন্নত করা হয়েছে। ইতিপূর্বে প্রত্যেক ওয়ার্ড ইনচার্জকে বছরে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ দেওয়া লাগতো তত্ত্বাবধায়ককে। মোট ১০ টি ওয়ার্ড থেকে দুই লাখ করে টাকা তোলা হতো। যা দিয়ে এক এক জন ইনচার্জ তাদের ইচ্ছামত এক এক ওয়ার্ড পরিচালনা করতেন। ঔষধ ও ইনজেকশন থেকে শুরু করে রোগীদের পালস্ বুঝে সেবা দিতেন ওয়ার্ড ইনচার্জরা। যা নতুন তত্ত্বাবধায়ক এসে বন্ধ করে দিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে হাসপাতালটি ছিল জর্জরিত। বর্তমানে কম্পিউটার অপ্টিমাইজ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং স্টাফরা সঠিক টাইমে আসবে এবং তাদের ডিউটি শেষ করে হাসপাতাল ত্যাগ করবেন। এছাড়াও হাসপাতাল সংক্রান্ত যে কোনো অপরাধের সাথে জড়িত হলে যেই অপরাধী হোক না কেনো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।