যশোরে বিএনপির র‍্যালিতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত: নতুন বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের আহ্বান

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ এসেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যে বা যারা যতটুকু আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা যদি শেখ হাসিনার দেখানো পথ ও ভাষা অনুসরণ করি, তাহলে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা নিশ্চয়ই সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যেতে চাই না। তাই গণতন্ত্রপন্থী সব শক্তিকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আবারও হাতে হাত ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে শুরু হওয়া র‍্যালির নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের জনগণ আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণ সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও তাদের মতামত দেবেন। সেই রায় মেনে নেওয়াই গণতন্ত্রের ভাষা।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের যে ধারা ২০০৮ সালে শুরু হয়েছিল, তার পরিণতি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। দীর্ঘ এই সংগ্রামে গণতন্ত্রকামী মানুষের আত্মত্যাগ তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও রাজপথে অবিচল থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

অমিত বলেন, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ-নির্যাতন উপেক্ষা করে আন্দোলন করেছেন কিংবা কারাবরণ করেছেন, তাদের সেই ত্যাগ কাউকে অন্যায় করার স্বাধীনতা দেয় না। আওয়ামী লীগ যেভাবে জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, বিএনপি সেই পথ অনুসরণ করবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তবে তার স্থান বিএনপিতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। মানুষ যাতে তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়—এটাই ছিল সেই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি রক্ত ও জীবন দিয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পথে দলের কেউ ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে আপস করেননি কিংবা পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে যাননি। তাদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। তাই সেই সুযোগ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ যে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তাকে সফল করতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দায়িত্ব পালনের জন্য এমপি বা মন্ত্রী হওয়া জরুরি নয়। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে যশোর দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটেছিল। এখন মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় থাকবে না।

সমাবেশ শেষে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।