প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট: এনসিপির অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সদস্যসচিব সালাউদ্দীন গ্রেপ্তার

0
বগুড়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা: রাজধানীর মনিপুর থেকে গ্রেপ্তার এনসিপির গাজী সালাউদ্দীন ।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার ভোরে রাজধানীর মনিপুর এলাকা থেকে বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার কারণে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে এনসিপি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচ এস মাফুতুন আহমেদ খান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

সালাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজ আলম। তিনি জানান, রাজধানীর মনিপুর এলাকা থেকে ভোর চারটার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালাউদ্দীনকে বগুড়ায় নিয়ে গিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় হাজির করা হবে।

এদিকে সালাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গাজী সালাউদ্দীনের বিরুদ্ধে দলগতভাবে আগেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

সারজিস আলম ব্যাখ্যা করে জানান, হবিগঞ্জ ও সিলেটে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সালাউদ্দীন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে এক লাইনের একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তবে দল থেকে আপত্তি জানানোর পরপরই তিনি সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার অঙ্গীকারও করেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় গভীর ক্ষোভ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের বাণিজ্য এবং পাঠ্যবই ছাপার কাগজে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে প্রথমবারের মতো দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য তাঁর সেই অব্যাহতির আদেশ তুলে নেওয়া হয়।