৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ৫০ হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা: জামায়াত কর্মী কারাগারে

0
সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠানো আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক।। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার আলোচিত সালেহা বেগম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। ৩০ লাখ টাকার আর্থিক বিরোধের জের ধরে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথি ও পুলিশ তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের পূর্ব চর মার্টিনের বাসিন্দা সালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৬ জুন মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কমলনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তকালে পুলিশ মো. সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, সাবেক স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক আগে থেকেই সালেহার বাড়িতে থাকতেন এবং তাঁর সন্তানদের পড়াশোনা করাতেন। সালেহার ১ম স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজের আগের পরিবারকে না জানিয়ে সালেহাকে বিয়ে করেন আবু বক্কর।

বিয়ের পর জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন তিনি। পরবর্তীতে জমি না কিনে উল্টো আরও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে সালেহাকে তালাক দিয়ে সটকে পড়েন তিনি। তবে সালেহা পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবু বক্কর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাত্র ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে মো. সেলিম নামের এক ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ দেন আবু বক্কর। ঘটনার দিন সেলিম কৌশলে সালেহা বেগমকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সালেহার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে সাভারে নিয়ে বিক্রি করে দেন সেলিম।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবু বক্কর সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর গত সোমবার লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদনসহ আত্মসমর্পণ করেন আবু বক্কর। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ জানান, অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আগে চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন পদে থাকলেও বর্তমানে দলে তাঁর কোনো পদ নেই। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।