মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই

0
বাইয়ের জেবেল আলি শিল্প এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের পর আকাশে উছলে ওঠা প্রকাণ্ড আগুনের গোলা ও ধোঁয়া।। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জেবেল আলি শিল্প এলাকায় মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে পর পর সাতটি শক্তিশালী ও বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বুধবার ভোরের দিকে (আনুমানিক রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে) এই আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই সমুদ্রবন্দর এলাকার আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিস্ফোরণের মুহূর্তেই আশপাশের বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা প্রচণ্ড কম্পন অনুভব করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দেখতে পাওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই পুরো এলাকা যেন কেঁপে ওঠে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, জেবেল আলির গুদাম এলাকা থেকে প্রকাণ্ড আগুনের গোলা ওপরের দিকে উঠছে এবং একের পর এক কানফাটা শব্দে এলাকা কেঁপে উঠছে। কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের তীব্রতা অনুভূত হয় এবং বাসাবাড়ির জানালার কাচ কেঁপে ওঠে।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ ও জরুরি সেবার দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আলাদা করে আগুন যাতে আশপাশের জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও অন্যান্য পণ্য গুদামে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে টানা চেষ্টা চালিয়ে যান। জরুরি উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত এড়াতে দুবাই কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের ওই অঞ্চল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

জেবেল আলি অঞ্চলটি কেবল একটি শিল্প এলাকা নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিশ্ব জলপথে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ফলে এই মুক্ত বাণিজ্য এলাকায় যেকোনো ধরণের বিঘ্ন বা বিপর্যয় ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর পড়ে।

বর্তমানে দুবাইয়ে লাখ লাখ বাংলাদেশি ও ভারতীয় প্রবাসী বসবাস করছেন, যাদের বিশাল একটি অংশ সরাসরি জেবেল আলির পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও উৎপাদন খাতে যুক্ত রয়েছেন। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দৃষ্টি এখন এই পরিস্থিতির দিকে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটল। প্রাথমিক ও নিশ্চিত নয় এমন গোয়েন্দা তথ্য ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীগুলো একে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো দূরপাল্লার হামলা হিসেবে সন্দেহ করলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্ফোরণের মূল উৎস বা সঠিক কারণ নিশ্চিত করেনি। তবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা জানতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।