শার্শার বেলতলা মোকামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ আম চাষিরা

0
ছবি: সংগৃহীত।

আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর) ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার পাইকারি আমের মোকাম বেলতলায় পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ আম চাষিরা। চাষিদের দাবি, এ বছর আমের ফলন ভালো হলেও বাজার অব্যবস্থাপনার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে বেলতলা আম বাজারসহ শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজার সোমবার ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই চাষিরা গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে বাজারে ক্রেতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের উপস্থিতি একেবারেই কম। ৪৪ থেকে ৪৫ কেজিতে মণ হিসাব করে বর্তমানে বাজারে গোবিন্দভোগ ১৪শ থেকে ১৯শ টাকা, হিমসাগর ১২শ থেকে ১৮শ টাকা, ল্যাংড়া ১২শ থেকে ১৫শ টাকা ও আম্রপালি ১৩শ থেকে ১৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় আম চাষি জামাল সরদার জানান,এই দামে আম বিক্রি হতে থাকলে লাভ তো দূরের কথা, বাগান পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ যে উৎপাদন খরচ হয়েছে, সেটাই উঠবে না।

উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের আম চাষি রাজ্জাক ও আহমেদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ বছর সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে আমের উৎপাদন খরচ অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। অথচ বাজারে আমের কদর নেই। প্রতি বছর মৌসুমের শুরুতে যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ’শ পাইকার আসতেন, এবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন পাইকার দেখা যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, আমের বাজারে এই মন্দাভাব চলতে থাকলে এ অঞ্চলের চাষিরা আম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আম গাছ কেটে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম একটি বড় ভূমিকা পালন করে। এ উপজেলায় আম চাষের জমি রয়েছে ১,০৬০ হেক্টর। আমের চাষ করেন ৪,৬৬৮ জন। উপজেলায় হিমসাগর আমের আবাদ ৩৩৭ হেক্টর, আম্রপালি ২১৫ হেক্টর, ল্যাংড়া ১৫৫ হেক্টর, গোপালভোগ ১৫৫ হেক্টর, গোপালভোগ ১৫৫ হেক্টর ও গোবিন্দভোগ ৬০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা দাবি করেন, ঈদের আগে তিনি যখন বাজার পরিদর্শন করেছিলেন, তখন প্রতি মণ আম ১৬শ থেকে ৩৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে বাজারে মণ প্রতি সর্বোচ্চ দর ১৮শ টাকার ওপরে উঠছে না। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমের শুরুতেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আম বাজারজাত করায় ভোক্তাদের আম কেনার আগ্রহ কমে গেছে। তবে জ্যৈষ্ঠ মাস পুরোদমে শুরু হলে এবং ঈদ-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাহিদা বাড়লে বাজার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

ভোক্তা ও চাষিদের দাবি, বেলতলা আমের মোকামে পাইকারদের আসার পরিবেশ সুগম করা, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই সম্ভাবনাময় কৃষি খাত চরম বিপর্যেয়র মুখে পড়বে।