লোহাগড়ার সরস্বতী একাডেমীতে অফিস সহকারি নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা

0

শিমুল হাসান, লোহাগড়া(নড়াইল)॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সরস্বতী একাডেমীতে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে কয়েকজন সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যদের নিয়ে পানি ঘোলা করে পুনরায় মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। আর প্রতিষ্ঠানের সভাপতি রয়েছেন ভিন্নদিকে।
পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, সরস্বতী একাডেমীতে গঠিত নিয়োগ বোর্ড গত ২০ জুন অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে লোকবল নিয়োগ করতে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষা নেবার পর নিয়োগ বোর্ড মনোনীত প্রার্থী দক্ষিণ লংকারচর গ্রামের মঙ্গল বৈদ্যর ছেলে সঞ্জয় বৈদ্যকে নিয়োগদানের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে সুপারিশ করে নিয়োগ বোর্ড। পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ০৮ নং সভায় সঞ্জয় বৈদ্যকে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ২৫ জুন সঞ্জয় বৈদ্যকে নিয়োগপত্র প্রদান করেন। স্বারক সংখ্যা-সএ-২১/২০২০। ২৫ জুন সঞ্জয় বৈদ্য সভাপতির নিকট যোগদানপত্র প্রদান করলে সভাপতি যোগদানপত্র গ্রহণ করেন। ওই যোগদানপত্রে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করলেও অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সঞ্জয় বৈদ্যকে বাদ দিয়ে প্রধান শিক্ষক এখন অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে তালবাহানা শুরু করেছেন। সূত্র জানায়, সঞ্জয় বৈদ্যকে বাদ দিতে প্রধান শিক্ষকসহ তার অনুসারিরা তালবাহানা শুরু করায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দিতে সভাপতি, প্রধান শিক্ষক সহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য রমেশ চন্দ্র কুন্ডু, গুলশানারা খানম, সবিতা খাতুন সহ কয়েকজন আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও তারা অভিযোগ অস্বীকার করছেন। সঞ্জয় বৈদ্য বলেন, আমি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি। তাই নিয়োগ বোর্ড আমাকে নিয়োগ দিতে পরিচালনা পর্ষদকে সুপারিশ করেছে। এখন কমিটির অভ্যন্তরীন দ্বন্দে আমি বিপাকে পড়েছি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধীক লোকে অভিযোগ করেন, সঞ্জয় বৈদ্য পরীক্ষায় প্রথম হলেও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য তাদের চাহিদা মাফিক টাকা না পাওয়ায় নিয়োগ সভার রেজুলেশনে স্বাক্ষর করছেন না। লোহাগড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া বলেন, পরীক্ষায় সঞ্জয় বৈদ্য প্রথম হয়েছেন। তাই তার নিয়োগ প্রাপ্তির সুপারিশ করেছি। ইতনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ইমদাদুল হক সুনু সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করেছেন।