দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানী আদালত ভবন

শিকদার খালিদ, লোকসমাজ : যশোরের দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানী আদালত ভবনের প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার এবং তিনটি এজলাস কক্ষ পুনর্নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা ঐতিহাসিক এই ভবন সংরক্ষণে সরকারের এ উদ্যোগে যশোরের ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি সেখানে পুনরায় বিচারিক কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখার সহকারী সচিব আলতাফ মাহমুদ এ অর্থ বরাদ্দের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে চিঠি দেন। এরপর বুধবার অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোরের উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানী আদালত ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানী আদালত ভবন সংস্কার
দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোর দেওয়ানী আদালত ভবন। সংস্কার ও তিনটি এজলাস পুনর্নির্মাণে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে- লোকসমাজ

যশোরের ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক এই দেওয়ানী আদালত ভবন। প্রায় দেড়শ বছর আগে ১৬ দশমিক ৩৪ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মিত হয়। ভবনের নিচের অংশে ১৬টি ভেন্টিলেটর এবং ওপরের অংশে প্রশস্ত ভেন্টিলেটর থাকায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ভবনের চারপাশে রয়েছে প্রশস্ত বারান্দা। স্থাপত্যশৈলীর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে ভবনটি নান্দনিক ও শৈল্পিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরু জানান, দীর্ঘদিন যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় মূল্যবান রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ এবং আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ২০১২ সালে ঐতিহাসিক এই দেওয়ানী আদালত ভবনে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে যশোরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন, আইনজীবী এবং সচেতন মহল ভবনটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। যশোর কালেক্টরেট ভবন, জেলা পরিষদ ভবনসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোও যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবি ছিল তাদের।

দীর্ঘদিনের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানী আদালত ভবন সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলো। ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বরাদ্দের মাধ্যমে ভবনটির প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কারের পাশাপাশি তিনটি এজলাস কক্ষ পুনর্নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে দেড়শ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক ভবনটি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। একই সঙ্গে ভবনটিতে আবারও বিচারিক কার্যক্রম চালু হলে এটি হবে যশোরের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণ শুধু পুরোনো একটি ভবন রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি শহরের ইতিহাস, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের স্মৃতি। সে দিক থেকে যশোরের দেওয়ানী আদালত ভবন সংস্কারের এই উদ্যোগকে জেলার ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।