ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, গ্রেফতার ১

0
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আব্দুর রহমান সম্রাট নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ- লোকসমাজ

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা, লোকসমাজ : ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আব্দুর রহমান সম্রাট নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেফতার আব্দুর রহমান সম্রাট পৌর এলাকার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা। তিনি মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে বাঁধা জুতার মালা ঝুলতে দেখা যায়। পরে এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। খবর পেয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জুতার মালাটি অপসারণ করেন।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সদর থানা পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার মাত্রা এবং অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনায় জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে এমন অবমাননাকর ঘটনা জাতির জন্য লজ্জাজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্তে নেমেছেন। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় ভাস্কর্যের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।