বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা, রাস্তায় মানুষের ঢল

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গতকাল রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় নেতাকর্মীদের সাথে জনতার ঢল নামে। এ সময় গাড়ি বহর ছেড়ে দিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্সকে (সিএসএফ) হিমশিম খেতে দেখা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৬ মিনিটে বাসা থেকে বের হন বেগম খালেদা জিয়া। বাসা থেকে গুলশান গোল চত্বরে পার হয় ৯টা ৫ মিনিটে।
প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তায় সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় নেতাকর্মীর সাথে জনতার ঢল নেমেছে, গাড়ি বহর ছেড়ে দিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্সকে ( সিএসএফ) হিমশিম খেতে দেখা গেছে। সেইসাথে নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।
এক নজর দেখতে নানা বয়সী মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়াচ্ছেন, অনেকে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করতে দেখা গেছে, অনেকে রিস্ক নিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়ি ধরে ছবি তুলতে দেখা গেছে।
বিকেল থেকেই গুলশানের বাসা ফিরোজার সামনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। রাত ৮টা ১২ মিনিটে যখন বাসভবনের গেট খুলে দেয়া হয় তখন নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠেন, এ সময় তারা খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়া স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন। এ সময় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। বাসা থেকে মূল রাস্তায় যেতে সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিটেরও বেশি।
দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে সামনে তিনটি গাড়ি এবং পেছনে একটি আইসিসিইউ সম্বলিত একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।
বিএনপি নির্দেশনা থেকে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার গাড়ি গুলশান গোল চত্বর হয়ে বনানীর কাকলী চত্বর হয়ে বিমানবন্দরে যাবে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে নেতাকর্মীদেরকে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় দলের পক্ষ থেকে।
বিএনপি জানিয়েছে, ঢাকা থেকে খালেদা জিয়া প্রথমে যাবেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে তাঁকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।
সাত বছর পর লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেখা হবে। লন্ডনে ছেলের বউ জুবাইদা রহমান ও নাতনি জায়মা জারনাজ রহমানও খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মা-ছেলের দীর্ঘ কাঙ্ক্ষিত এই সাক্ষাতে দেশ, দল ছাড়াও ভবিষ্যতের রাজনীতি নিয়ে অনেক কথাবার্তা হতে পারে।