পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের ভাবনা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা হারানো এবং প্রথমবারের মতো বিজেপির রাজ্য ক্ষমতায় আসার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পুশ-ইন-পুশব্যাকের মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা কী হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ রয়েছে।
নির্বাচনের আগে ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে। অনেকের আশঙ্কা, এসব বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন হবে না। আলোচনার মাধ্যমেই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করা হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য উদ্বেগজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে, তাই এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে না পড়লেও বিজেপির আদর্শ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া উচিত এবং তা দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা মনে করেন, বিজেপির বিজয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। ভিসা কার্যক্রম, বাণিজ্য সুবিধা ও কূটনৈতিক যোগাযোগে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন কিছু ইস্যুতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির ওপরই।