এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাহেঁচড়া!

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ স্বামী দাবিদার দুই ব্যক্তি সীমা অধিকারী নামে এক নারীকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করেছে যশোর কোতয়ালি থানা প্রাঙ্গনে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় থানার সামনে ভিড় জমে, অনেকে বিষয়টি দেখার জন্য থানা প্রাঙ্গণে এসে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই স্বামী দাবিদারকে আটক করে। পরে তাদেরকে ১৫১ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সীমা অধিকারীকে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়।

স্বামী দাবিদাররা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাটি কানাইপুরের নরেন্দ্রনাথ অধিকারীর ছেলে মুদি ব্যবসায়ী বিকাশ অধিকারী এবং শোভারামপুর গ্রামের অবনী মোহন কুন্ডু ছেলে জুয়েলারি ব্যবসায়ী পলাশ কুন্ডু। সীমা অধিকারীর পিতার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারে। বর্তমানে তার পিতা-মাতা ভারতে বসবাস করছেন।

মুদি ব্যবসায়ী বিকাশ অধিকারী জানান, ৩৭ বছর আগে তিনি সীমা অধিকারীকে বিয়ে করেছেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১ মেয়ে ও ছেলে রয়েছে। দুই সন্তানেরই বিয়ে হয়ে গেছে। দুই মাস আগে তার স্ত্রী সীমা অধিকারী ভারতে পিতার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পর তিনি ভারতে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। কিন্তু বাড়িতে প্রয়োজনীয় কাজ থাকায় কয়েকদিন আগে তিনি ভারত থেকে একা চলে আসেন। সেই সময় স্ত্রীর মধ্যে কোনো খারাপ কিছু দেখতে পাননি।

সোমবার সকালে ভারতে শ্বশুরবাড়িতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তার স্ত্রী বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কিন্তু কল দিলে তিনি স্ত্রীর মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পান। এরপর তিনি বেনাপোল ইমিগ্রেশনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সীমা অধিকারী দেশে ঢুকেছেন। তার সাথে পলাশ কুন্ডু নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এসেছেন। কিন্তু মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার স্ত্রী সীমা অধিকারী যশোর শহরের রেল রোডের একটি অভিজাত আবাসিকে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে গেলে স্ত্রী সীমা অধিকারীর সাথে পলাশ কুন্ডু নামে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান। এ সময় তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পুলিশ এসে ৩ জনকেই থানায় নিয়ে আসেন।

পলাশ কুন্ডুর দাবি, তিনি দেড় মাস আগে সীমা অধিকারীকে ভারতের একটি মন্দিরে নিয়ে বিয়ে করেছেন। এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। সীমা অধিকারী তার স্ত্রী।

সীমা অধিকারী জানান, বিকাশ অধিকারী তার প্রথম স্বামী একথা সত্য। ওই সংসারে তার সন্তানও রয়েছে। তিনি বিকাশ অধিকারীকে ‘ত্যাগ’ করে মন্দিরে গিয়ে পলাশ কুন্ডুকে বিয়ে করেছেন। তিনি পলাশ কুন্ডুর সংসার করতে চান। বিকাশ অধিকারী এখন আর তার স্বামী নন।

কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর কাজী বাবুল হোসেন জানান, থানায় নিয়ে আসার পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন পলাশ কুন্ডু ও বিকাশ অধিকারী। থানার অভ্যন্তরে ওই নারীকে নিয়ে তারা টানাহেঁচড়া করেছেন।

এ কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তারা পলাশ কুন্ডু ও বিকাশ অধিকারীকে আটক করে ১৫১ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এছাড়া সীমা অধিকারীকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।