এমপি গাজী নজরুল চার দিন ও প্রথম স্ত্রী একদিনের রিমান্ডে

0
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলের ৪ দিন ও প্রথম স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড ।। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার। বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় আসামিদের আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয় এবং আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা সোয়া ৩টার দিকে আসামিদের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শুনে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফ্ল্যাটটিতে গাজী নজরুল তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন। এ ঘটনায় গতকাল গভীর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। পুলিশ আজ সকালে এমপি গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান এখনও পলাতক রয়েছেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরিয়মের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

গাজী নজরুল জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত জুলাই মাসে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি দাবি করেন ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম। পরবর্তীতে নীতিগত স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর সংসদীয় আসন ও পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।