কেশবপুর প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবি

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবে হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে একদল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, তাদের ওপরই হামলা চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুরে সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন থাকলেও কেশবপুর প্রেসক্লাব মূলত পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ক্লাবটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল।

এ অবস্থায় রোববার দুপুরে সাংবাদিক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু, মাহবুবুর রহমান ও আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেন। বর্তমান কমিটির নেতাদের অভিযোগ, তারা প্রেসক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং সদস্যদের বের করে দিয়ে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক লোকসমাজ সংবাদদাতা জয়দেব চক্রবর্তী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কল্যাণের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ এবং সদস্য জাহিদ হাসান মারধরের শিকার হন। এছাড়া ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রথম আলোর কেশবপুর প্রতিনিধি দিলীপ মোদকও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পক্ষ প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন অর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়। বর্তমান কমিটির সদস্যদের দাবি, এরপর থেকে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মূলধারার সাংবাদিকরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না।

আহত সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, “হঠাৎ বহিরাগতরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। জয়দেব চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ গুরুতর আহত হন।”

কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফউজ্জামান অভিযোগ করেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে বহিরাগতরা মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালায় এবং সদস্যদের ক্লাবের ভেতরে আটকে রাখে।”

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যারা অভিযোগ করছেন, তারা প্রকৃত সাংবাদিক নন। দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্লাবটি অপেশাদার ও ফ্যাসিবাদপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে গেলে উল্টো আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে একটি বিরোধ চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। দুই পক্ষকে থানায় এসে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”