টানা ষষ্ঠ রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা

0

লোকসমাজ ডেস্ক : ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

শুক্রবার প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কেশম দ্বীপ, বান্দার আব্বাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হতাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সরবরাহ অবকাঠামো দুর্বল করা। টানা ছয় দিনের এ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক হামলা প্রতিহত করেছে। কাতারে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশু আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নজরদারি ও অবরোধ কার্যক্রম জোরদার করেছে। অপরদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা ও সংসদ সদস্য আলী ফাইয়াদ দেশটির সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান আলোচনা লেবাননকে একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির’ দিকে ঠেলে দিতে পারে। তার এ মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উপসাগরীয় অঞ্চল, লোহিত সাগর এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এর প্রত্যক্ষ প্রভাবের মুখে পড়েছে। ফলে সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।