খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষে অবাধ বালু উত্তোলন, বেড়িবাঁধে ভাঙনের শঙ্কায় আতঙ্কে উপকূলের মানুষ

শ্যামনগর-আশাশুনির একাধিক ইউনিয়নে ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ; মেগা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ

0

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা, লোকসমাজ : সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীতে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে নদীভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে উপকূলীয় জনপদের হাজারো মানুষ উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, কাশিমাড়ী, আটুলিয়া, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়ন এবং আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমের মধ্যে অবাধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা জামান হোসেন বলেন, একদিকে সরকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে বাঁধসংলগ্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে প্রকল্পের সুফল নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয়দের দাবি, নওয়াবেকী, কাশিমাড়ী ঘোলা ও কাশিমাড়ী ত্রিমোহনী এলাকায় নদী থেকে উত্তোলিত বালু মজুদ করে বিক্রি করা হচ্ছে। বালুমহালের কোনো বৈধ ইজারা না থাকলেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে উপকূলীয় এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে গাবুরা ইউনিয়নে চলমান প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি এবং নদী ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।