সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে দেড় মাসের ব্যবধানে ফের আগুন, অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

0

লোকসমাজ ডেস্ক : সাতক্ষীরার বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে বড় অগ্নিকাণ্ডের দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে পুরো বেজমেন্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আতঙ্কে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত নিচে নেমে আসেন।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে দেড় মাসের ব্যবধানে আগুনঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেন সেখানে কর্মরত স্টাফরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বেজমেন্ট পুরোপুরি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। এর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি বলেন, আগুন না থাকায় এবং তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি না থাকায় রোগীদের একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নিষেধ করা হয়। একসঙ্গে অনেক রোগী নামতে গেলে হুড়োহুড়িতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে দেড় মাসের ব্যবধানে আগুন

বারবার একই এলাকায় আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে নূরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটি বহুতল ভবন হওয়ায় বিভিন্ন তলায় অক্সিজেনের লাইন রয়েছে। বেজমেন্টে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাপ সামলাতে না পারার কারণে পাইপে ত্রুটি তৈরি হয়ে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তাঁর প্রাথমিক ধারণা। তবে বিষয়টি কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

আগুনের ঘটনায় হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মতিয়ার নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, তারা রোগীকে ওষুধ খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হলে রোগীকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। বাইরে এসে শুধু ধোঁয়া দেখতে পান। তাঁর রোগী গলা ও থাইরয়েডের সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে রোগীর কোনো ক্ষতি হয়নি।

আরেক রোগীর স্বজন জানান, তাঁর রোগী আগের দিন সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন এবং হাসপাতালের অষ্টম তলায় ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে নার্সসহ অন্যরা রোগীদের দ্রুত নিচে নেমে আসতে বলেন। পরে কয়েকজন মিলে ওই রোগীকে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী ময়না বলেন, হাসপাতালের বিপরীত পাশে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন, চারপাশ ধোঁয়ায় ভরে গেছে। এর আগে একই হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় আবারও এমন ঘটনায় তারা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

এর আগে গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রথমে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। মোট চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

সেসময় হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের কথা জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

আগস্টের ওই ঘটনার দেড় মাসের মধ্যেই এবার হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার এলাকায় ফের আগুনের ঘটনায় রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অক্সিজেন সিলিন্ডার সংরক্ষণ, অক্সিজেন সরবরাহের পাইপলাইন ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে মঙ্গলবার রাতের আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কারিগরি তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।