৬২০ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে যশোরে ‘রঙে রেখায় সুলতান’ চিত্রাঙ্কন উৎসব

শিল্পী এস. এম. সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরে অনুষ্ঠিত ‘রঙে রেখায় সুলতান’

0
যশোরে ‘রঙে রেখায় সুলতান’ চিত্রাঙ্কন উৎসব
যশোর জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘রঙে রেখায় সুলতান’ চিত্রাঙ্কন উৎসবে অংশ নিয়ে ছবি আঁকায় ব্যস্ত শত শত শিশু-কিশোর- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : রঙ, তুলির আঁচড় আর শিশুদের কল্পনার উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল যশোর জিমনেসিয়াম। বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস. এম. সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যশোরের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব ‘রঙে রেখায় সুলতান’ শুক্রবার (৭ আগস্ট) উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

সকালের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু-কিশোররা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে জিমনেসিয়ামে ভিড় জমায়। হাতে রঙ, পেন্সিল ও ক্যানভাস নিয়ে তারা মেতে ওঠে সৃজনশীলতার আনন্দে। দিনভর আঁকা ছবিতে ফুটে ওঠে প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, কৃষকের সংগ্রাম এবং শিল্পী এস. এম. সুলতানের শিল্পভাবনার নানা অনুষঙ্গ।

আয়োজকরা জানান, এবারের উৎসবে ৬২০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেছে, যা যশোরের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ শিশু চিত্রাঙ্কন উৎসব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্ভাবনার কারণে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করে যশোর জিমনেসিয়ামে আয়োজন করা হয়। তবে স্থান পরিবর্তন উৎসবের আনন্দে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

উৎসবস্থলে ছিল এক বর্ণিল আবহ। শিশুদের আঁকায় যেমন ফুটে উঠেছে সৃজনশীলতার প্রকাশ, তেমনি অভিভাবকদের মুখেও ছিল সন্তানের সাফল্যের প্রত্যাশা ও আনন্দের ছাপ। অনেকেই এই আয়োজনকে শিশুদের শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ যশোরের সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, যশোর মিলনায়তনে উৎসবের পুরস্কার বিতরণী, সনদপত্র প্রদান, সৃজনশীলতা সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সকল অংশগ্রহণকারী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

চারুপীঠ কর্তৃপক্ষ উৎসব সফল করতে সহযোগিতার জন্য অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোর, অভিভাবক, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।