থাইল্যান্ডের দেবসিরিন হাই স্কুলে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণ: নিহত অন্তত ৬, আহত ১৫

0
থাইল্যান্ডের দেবসিরিন স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলি; শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত অন্তত ৬ ।। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরের ননথাবুরি প্রদেশের দেবসিরিন হাই স্কুলে এক ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আরও অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরবর্তীতে হামলাকারী নবম শ্রেণির ওই কিশোর শিক্ষার্থীকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ মর্মান্তিক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে তথ্যটি জানিয়েছে।

দেশটির উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী পোলাপি সুউঞ্চউই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, মর্মান্তিক এই বন্দুক হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন শিক্ষক ও দুজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আহত ১৫ জন শিক্ষার্থী মূলত গুলির আঘাতে নয়, বরং বিকট গুলির শব্দে আতঙ্কে দ্রুত নিরাপদে পালাতে গিয়ে পদদলিত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেবসিরিন স্কুলটি দেশজুড়ে অত্যন্ত পরিচিত একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঘটনার পরপরই সুরক্ষার স্বার্থে পুলিশ সবাইকে স্কুলের আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী কিশোর হ্যান্ডগান ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্রে তাকে বেগুনি রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত এবং একটি কালো ক্রস-বডি ব্যাগ বহন করতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর সন্দেহভাজন কিশোর শিক্ষার্থীটি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

হামলাকারী শিক্ষার্থী কীভাবে একটি হ্যান্ডগান জোগাড় করল এবং কোন পরিস্থিতিতে এই হামলা চালাল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৮ বছর বয়সী এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানায়, সে প্রথমে ভেবেছিল হয়তো কোনো পটকা ফাটছে। পরে একের পর এক গুলির আওয়াজে পুরো স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত স্কুলে ছুটে আসেন। এতে ননথাবুরির দেবসিরিন স্কুলের আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জরুরি উদ্ধারকারী দল আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত নয়।”

উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম বেশি। প্রায় সাত কোটি মানুষের এই দেশে এক কোটিরও বেশি বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।

দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বন্দুক সহিংসতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে এক কিশোরের গুলিতে অধ্যক্ষ নিহত ও দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। তার আগে ২০২২ সালে একটি নার্সারিতে এক সাবেক পুলিশ সদস্যের চালানো হামলায় ২৪ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় গণ-হত্যাকাণ্ড।