সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক পড়াচ্ছেন ইংরেজি, দর্শনের শিক্ষক বাংলা

যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল

0
যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬০ জন শিক্ষকের বিপরীতে আছেন মাত্র ২৬ জন। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে সমাজবিজ্ঞান ও দর্শনের শিক্ষকদের দিয়ে ইংরেজি ও বাংলা পাঠদান করানো হচ্ছে।। ছবি: সংগৃহীত

যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মারাত্মক শিক্ষকসংকটের কারণে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের চরম অভাব থাকায় এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ে ক্লাস নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান কার্যক্রম, আর শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি, বাংলা ও বিজ্ঞান বিভাগে কোনো স্থায়ী বা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। অথচ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে অন্তত দুজন করে শিক্ষক থাকার কথা। অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ে রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে আছেন মাত্র একজন করে শিক্ষক।

ইংরেজি শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় শাখায় সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মনিরুল আলম পড়াচ্ছেন ইংরেজি। বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় পরিসংখ্যানের শিক্ষক শাহ আলম নিচ্ছেন বিজ্ঞানের ক্লাস। একইভাবে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় দর্শনের শিক্ষক আবু সাঈদ বাংলা বিষয়ে পাঠদান করছেন।

তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪১১ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এই প্রতিষ্ঠানে। অনুমোদিত ৬০ জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন শিক্ষক। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের সময় যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে নতুন করে কোনো পদ সৃষ্টি বা নিয়োগ না দেওয়ায় বিগত আট বছর ধরে এ জটিলতা চরম রূপ ধারণ করেছে।

বর্তমানে একই সময়ে প্রতিদিন অন্তত ২০টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলে। অথচ বিদ্যালয় শাখায় ১২টি শ্রেণির জন্য প্রয়োজন অন্তত ৩০ জন শিক্ষক, যেখানে কাজ করছেন মাত্র ৯ জন। ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণির ৮৫০ জন শিক্ষার্থীর গণিত শেখানোর জন্য দুজন শিক্ষকের স্থলে আছেন মাত্র একজন। কলেজ শাখার বিজ্ঞান বিভাগে ২০ জন শিক্ষকের স্থানে আছেন ৪ জন এবং উচ্চতর গণিতে কোনো শিক্ষকই নেই। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার চার বিষয়ে ১৬ জন শিক্ষকের জায়গায় দুজন শিক্ষকের ওপর ভর করে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. আবদুল হান্নান শিক্ষার এমন সংকটজনক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন, “শিক্ষকসংকটের কারণে প্রতিদিন ২০টি ক্লাসের সমন্বয় সাধন ও গুণগত মান রক্ষা করা মারাত্মক কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পদ না থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ের শিক্ষককে দিয়ে অন্য বিষয়ের পাঠদান চালাতে হচ্ছে।” তিনি জানান, দ্রুত নতুন পদ সৃষ্টি ও পদায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সুনাম ধরে রাখতে সরকারি জনবলকাঠামো অনুযায়ী অবিলম্বে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ। বিষয়টি নিয়ে যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করার সময় নতুন পদ সৃষ্টি না করায় এ শূন্যতা দেখা দিয়েছে। অধ্যক্ষের আবেদন মাউশিতে পাঠালে মন্ত্রণালয় দ্রুত পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেবে।