মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ শোনা যায়, ‘কিসের হাসিনা!’: কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

0
শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া সালাহউদ্দিন আহমদের: 'কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ শোনা যায়' ।। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তৎপরতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “কিসের হাসিনা! তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।”

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।

এর আগে একই দিন সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার নানা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ প্রচুর রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। সমুদ্রভিত্তিক নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সমুদ্রকে কেবল যোগাযোগ বা পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষা ও পরিকল্পিত পর্যটন প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শুধু উঁচু উঁচু ইমারত নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হয় না। প্রকৃতি ও পরিবেশের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন সম্প্রসারণ করতে হবে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়ে পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে।”

সাবেক সরকারের আমলের পরিবেশ নীতি সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পর্যটনের বিকাশে এসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই এবং বৈজ্ঞানিক জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে সরকার একটি ‘মেরিন ইউনিভার্সিটি’ বা সামুদ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে সামুদ্রিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

পরবর্তীতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্প চালুর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।